Cake Bekary:এখনও করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি,নতুন বছরের শুরুতেই কর্মীর অভাব বন্ধ হতে বসেছে 40 বছরের পুরানো চন্দ্রকোনার বেকারি কারখানা

Share

চন্দ্রকোনা 15 ই ডিসেম্বর:

শীতের উৎসব মরসুম,সামনে বড়দিন ইংরেজি নববর্ষ।কেক মরসুমের আনন্দ উপভোগ করার দিনে শুনশান কেক তৈরির কারখানা।কর্মীর অভাব বন্ধ হতে বসেছে ৪০ ছুঁই ছুঁই চন্দ্রকোনার বেকারি কারখানা। আবার হারিয়ে যাবে জেলার একটি কেকের কারখানা।

দেখতে দেখতে ২০২৫ শেষ হতে চলল আর এবার ২০২৬-এ পদার্পণ করবে।তবে এই শীতের আমেজ পড়তেই কেকের রমরমা হয়ে ওঠে গোটা দেশজুড়ে।এই কেকের চাহিদা জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর সহ চন্দ্রকোনা এলাকায়।মূলত চন্দ্রকোনা এলাকায় কয়েক বছর আগেও গমগম করতো এই কারখানা,কাউন্টারে ভিড় লেগে থাকতো খুচরো ও পাইকারি ক্রেতাদের।হকাররা কারখানা থেকে জিনিসপত্র নিয়ে হকারি করতো।তালিকায় ছিল বিভিন্ন সাইজের বাহারি কেক,রুটি,বিস্কুট, পেস্ট্রি সবই তৈরি হতো একসময়।দিনরাত তিন সিফটে চলতো কাজ।ছিল ২০-২৫ জন কর্মী,তাদের থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল কারখানাতেই।কর্মীদের রুজি থাকা খাওয়া সামলেও যা আয় হতো ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল।কিন্তু তাল কাটে করোনার সময়।সে সময় কারখানা ছেড়ে কর্মীরা যে যার এলাকায় ফিরে যায়।পরে কিছু শ্রমিক ফিরে আসলেও সংখ্যায় কম।

করোনা কালের পর কর্মীর অভাব পুরন করতে না পারায় উৎপাদনে ভাটা।তারপর থেকে ধীরে ধীরে প্রায় বন্ধের মুখে।কথা হচ্ছে ঘাটাল মহকুমায় চন্দ্রকোনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড খিড়কিবাজারে ১৯৮৮ সালে তৈরি হওয়া একটি বেকারি কারখানার।নাম ওরিয়েন্ট বেকারি,কারখানার মুল গেটে আজও নামের ফলক জ্বলজ্বল করছে।কিন্তু কারখানার ভিতরে আগের মতো সেই গমগম পরিবেশ নেই।৬০ বছর বয়সী বেকারি কারখানার মালিক এনামুল হক তার দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো মতে এই বেকারি কারখানা টিকিয়ে রেখেছেন।
এই বিষয়ে এনামুল বলছেন,’সকাল থেকে বিকেল ৪ টা, ৪টা থেকে রাত ১০ টা আবার রাত ১০ টা থেকে সকাল।কর্মী ভাগ করে এই তিন শিফটে কাজ চলতো।এমন কিছু ছিল না যা কারখানায় তৈরি হতো না।কারখানার দোতলায় কর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।’তাহলে হঠাৎ এমন কি হলো যে প্রায় ৪০ বছরের পুরানো এই কারখানা আজ ধুঁকছে?

কারখানার মালিকের কথায়,’আমার একটা যাত্রীবাহী বাসও ছিল।সেটা দূর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক টাকা তার পেছনে খরচ হয়ে যায়।তারপর করোনা এসে সব এলোমেলো হয়ে যায়।বাস হাতছাড়া হয়ে যায় তাকে টিকিয়ে রাখতে পারিনি।করোনার জেরে ভিন জেলা থেকে আসা কারখানার কর্মীরাও হাতছাড়া হয়।’এনামুল হক জানাচ্ছেন,’আমার জমি জায়গা নেই,এই কারখানাটিই সংসারের ভরসা।বর্তমানে আমি একা কারখানা চালায়।আগের মতো সব জিনিস তৈরি একার পক্ষে সম্ভব নই।এখন আটা ময়দা দিয়ে অনুসন্ধান বানায় সাথে ভুট্টা দিয়ে রঙিন সাদা পাঁপড়,উচ্ছে,ললি, করলা বানায়।’এনামুল হকের সংসার বলতে স্ত্রী নুরবাহার বিবি ও ছয় ছেলে,এক মেয়ে।চার ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তারা যে যার আলাদা সংসার করছেন।এমএ পাশ আইনুল হক খাঁন ও মাধ্যমিক পাশ কাশেমউল হক খাঁন,এনামুল বাবুর এই দুই ছেলে কারখানায় বাবার কাজে হাত লাগিয়ে দেয়।কারখানায় তৈরি জিনিস পুরানো পরিচিত কিছু দোকান ও ব্যবসায়ী নিয়ে যায়।খরচ খরচার হিসাব রাখেন না,তবে এ থেকে স্ত্রী ও দুই অবিবাহিত ছেলেকে নিয়ে সংসার চলে যায় এমনটাই জানান এনামুল হক খাঁন।

স্থানীয় বাসিন্দা সেখ মইদুল রহমান জানান,’বড়দিন পয়লা জানুয়ারিতে বিশেষ করে হাতে গরম টাটকা কেক কেনার জন্য বহু সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকতো।রকমারি স্বাদের কেক পাওয়া যেতো এই বেকারিতে।এই শীতের মরসুমে ডিসেম্বর মাসে দিনরাত একটানা কাজ চলতো দেখেছি।এখন আর সেসব নেই,দুই ছেলেকে নিয়ে কোনো রকমে টিকিয়ে রেখেছে।একা মানুষ সেভাবে আর চালাতে পারেনি।’হাতে আর কয়েকটা দিন তারপরই বড়দিন,ইংরেজি নববর্ষ।শীতের এই উৎসব মরসুমে পরিবার পরিজন বন্ধুদের একসাথে খাওয়া দাওয়া আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়।যেখানে বিভিন্ন ধরনের কেক এনে একসাথে কেটে একে-অপরকে খাইয়ে উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলা হয়।এই উৎসব আনন্দে বিভিন্ন স্বাদের কেক বানিয়ে একসময় জোগান দেওয়া চন্দ্রকোনার এই বেকারি কর্মীর অভাবে ধুঁকছে,রসদ খুঁজছে ঘুরে দাঁড়ানোর।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in