
ক্ষীরপাই 19 ই ডিসেম্বর:
তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভা, কিন্তু একটি মাত্র ওয়ার্ডে জয় লাভ করেছে বিজেপি। তাই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বিজেপির কাউন্সিলর এর ওয়ার্ড। সেই বিজেপির ওয়ার্ডকে পথশ্রী প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি। ঘটনায় শুরু শাসক বিরোধী রাজনৈতিক তরজা।

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজ্য সরকারের পদশ্রী -৪, প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।এই পথশ্রী প্রকল্পে এবারে গ্রামের সাথে সাথে শহরকে আওতায় আনা হয়েছে। সারা পশ্চিমবঙ্গে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পে কাজ হবে।এই প্রকল্পে গ্রামীণ রাস্তার সাথে এই প্রথমবার ১২৮টি পৌরসভার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৯১২ কিলোমিটার রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভা পথশ্রী প্রকল্পে ১০টি ওয়ার্ডের জন্য ২৫ টি রাস্তা বরাদ্দ হয়েছে।এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪ কোটি ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৬৯ টাকা।দৈনন্দিন জীবনে মানুষের যাত্রা পথকে মসৃণ করা পথশ্রী প্রকল্পের উদ্দেশ্য।অভিযোগ ক্ষীরপাই পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডকে পথশ্রী প্রকল্পের আওতাধীন রাখা হয়েছে।ক্ষীরপাই পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডটি বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে সুনিতা হালদার নির্বাচিত হন।

সুনিতা দেবীর অভিযোগ ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি।শুধুমাত্র এই কারণেই ক্ষীরপাই পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নকে তৃণমূল পরিচালিত পৌরবোর্ড স্তব্ধ করে রেখেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন রাস্তার অবস্থা হতশ্রী।বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শীঘ্রই তারা ৪ নম্বর ওয়ার্ডকে বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন।এ বিষয়ে স্থানীয় পূর্ণিমা পাল ও মিতা পাহাড়িরা বলেন,”সরকারি প্রকল্পের ঘর রয়েছে কিন্তু যাওয়ার রাস্তা নেই।আমরা জমির আল দিয়ে যাতায়াত করি।বৃষ্টি হলে আর সাইকেল নিয়ে যেতে পারি না।এলাকায় প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে।লোকের বাড়ির উপর দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়।এই নিয়ে বহুবার কাউন্সিলর এবং দুয়ারে সরকারে আবেদন হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

যদিও এই বিষয়ে ক্ষীরপাই পৌরসভার চেয়ারম্যান বিকাশ দাস বলেন,”আমি কয়েকদিন দায়িত্ব পেয়েছি।তবে খোঁজ নিয়ে দেখেছি।”অন্যদিকে এই বিষয়ে তৃণমূলের শহর সহ-সভাপতি তারক মন্ডল বলেন বিরোধীরা সবসময় সরকার বিরোধী কথাই বলেন।চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বোর্ডের মিটিংয়ে প্রায় উপস্থিত থাকেন না।আর ক্ষীরপাই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে রাস্তার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দিদিকে বলো কর্মসূচিতে রাস্তার জন্য কোনো আবেদন হয়নি ।তাই ৪ নম্বর ওয়ার্ড পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় আসেনি। বঞ্চনার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে যাই হোক এই নিয়ে ওয়ার্ড বাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।