
কলকাতা 20 সে ডিসেম্বর:
ক্যাপিটাল লেটারে এ লিখতে হবে প্রেসক্রিপশন কড়া বার্তা স্বাস্থ্য দপ্তরের।স্বাস্থ্য নিয়ে এবার আরও কড়া স্বাস্থ্যভবন। সরকারি ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য ভবন। ত্রুটিমুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

রাজ্য তো বটেই গ্রাম বাংলাতেও ডাক্তারদের লেখা প্রেসক্রিপশনে ঘটছে দুর্ঘটনা।এছাড়াও বহু ক্ষেত্রে ব্যান্ড কোম্পানির ওষুধের নাম লিখছে ডাক্তার বাবুরা।এরকম ভুরিভুরি অভিযোগে অবশেষে কড়া হাতে দমন করতে উদ্যোগ নিল স্বাস্থ্য ভবন।স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের হাতের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় প্রেসক্রিপশন পড়তে সমস্যা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে বলা হয়েছে, ‘প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক ওষুধ লেখার পরিবর্তে যথেচ্ছ লেখা হচ্ছে ওষুধের ব্র্যান্ড নেম। প্রেসক্রিপশন পড়ে বোঝা যাচ্ছে না রোগীর কী অসুখ হয়েছে। বহু প্রেসক্রিপশনে প্রভিশনাল বা ক্লিনিক্যাল ডায়াগনসিস উল্লেখ না থাকায় চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। রোগীর শারীরিক অসুস্থতা সম্পর্কিত তথ্য অনেক সময়ই লেখা থাকছে না প্রেসক্রিপশনে। রোগীকে কোন ডাক্তার দেখেছেন, তার পরিচয় জানা যাচ্ছে না প্রেসক্রিপশন থেকে। কতদিন, কী ডোজে ওষুধ খেতে হবে?

কতদিন ধরে চিকিৎসা চলছে? উল্লেখ নেই প্রেসক্রিপশনে।যেমন ডোজ, ব্যবহারের ঘনত্ব, চিকিৎসার মেয়াদ কিংবা প্রয়োগের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।গত ৬ মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে প্রেসক্রিপশন অডিট চালানো হয়। তাতেই এইসব বেনিয়ম উঠে এসেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গোটা গোটা হরফে, ক্যাপিটাল লেটারে লিখতে হবে প্রেসক্রিপশন। ব্র্যান্ড নেম নয়, লিখতে হবে ওষুধের জেনেরিক নাম, নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের।রাজ্যের সর্বত্র, সব সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের মানতে হবে স্বাস্থ্য ভবনের এই নির্দেশ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করে, ওষুধের ভুল (medication error) বিশ্বব্যাপী রোগীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশনের কারণে ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা সেবনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে।এনএমসির এই পদক্ষেপটি চিকিৎসাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি বড় ধাপ।এর ফলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে,কমবে মৃত্যুর হার বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।