Debra:বিরল দৃশ্য জেলায়!100 জন যক্ষা রোগীকে দত্তক নিলেন পুলিশ থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা, দায়িত্ব নিয়েছেন চিকিৎসক রাও

Share

ডেবরা 25 সে ডিসেম্বর:

বছরের শেষে সুখবর জেলায়। অসহায় মুমূর্ষ যক্ষা রোগীদের পাশে প্রশাসনিক কর্তারা। প্রায় শতাধিক টিভি রোগীদের দায়িত্ব নিলেন চিকিৎসক পুলিশ শিক্ষক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তারা যা নিয়ে বেজায় খুশি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

বার্তা ছিল টিভিমুক্ত ব্লক গঠন করার আর সেই বার্তা কে সাফল্যমন্ডিত করতে এগিয়ে এলেন প্রশাসনিক কর্তা সহ শিক্ষক শিক্ষিকা এবং চিকিৎসকেরা। মূলত জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে নির্দেশ ছিল গড়তে হবে টিউবারকিউলোসিস (টিবি) যক্ষ্মা মুক্ত ব্লক।কিন্তু সে জন্য শুধু গরিব যক্ষ্মা রোগীদের নিখরচায় ওষুধ দিলে হবে না। প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবারেরও। কিন্তু সেই খাবার কেনার সামর্থ্য সবার নেই। এই ঘটনা প্রচার হতেই এগিয়ে এলেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে জনপ্রতিনিধিরা। যা ভাবা তাই কাজ।এঁরা সবাই যক্ষ্মা রোগীদের দত্তক নেন।ছয় মাস ধরে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁদের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবারের দায়িত্ব নিলেন এই আধিকারিকরা। আনন্দের সঙ্গে এগিয়ে এসে তাঁরা এই দায়িত্ব নেন বলে জানা গিয়েছে।প্রায় ১০০ টিবি রোগীদের দায়িত্ব নিলেন এই প্রশাসনিক কর্তারা।যা দেখে বেজায় খুশি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী থেকে জেলা টিবি অফিসার অভিজিৎ বিশ্বাস।

এই দত্তক নেওয়ার তালিকাটা ঠিক এরকম – ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী ২ জন রোগীকে দত্তক নিলেন। আবার তাঁর স্ত্রী কাবেরীও দত্তক নিলেন ২ জনকে। জয়েন্ট বিডিও দেবাশিস বিশ্বাসও দু’জনকে দত্তক নিলেন।তাদের দেখাদেখি ডেবরার এসডিপিও দেবাশিস রায়ও দু’জনকে দত্তক নিলেন।ডেবরার সিআই, ডেবরা থানার বড়বাবু,মেজোবাবু থেকে ট্র্যাফিকের ওসিও দত্তক নিলেন দু’জন করে।ডেবরার বিএমওএইচ সুচিস্মিতা মণ্ডল আবার চার জন রোগীকে দত্তক নিলেন একাই। সঙ্গে তাঁর বাবা তথা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীলকুমার মণ্ডল এবং মা মানসী মণ্ডলও এক জন করে দু’জনকে দত্তক নিলেন।ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার স্বরূপ পাত্র থেকে নার্স ও অন্য চিকিৎসক এবং কর্মীরাও এগিয়ে এসেছেন এই কাজে। সুচিস্মিতার কথায়, ‘আমরা সিএমওএইচ স্যরকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

এ ভাবে কর্মজীবনের সঙ্গে অন্য ভাবেও একটু যদি সমাজের উপকারে আসি সেই লক্ষ্যেই এই কাজে এগিয়ে আসা।’ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী বলেন, শিক্ষকরাও এই কাজে এগিয়ে এসেছেন।প্রায় ৬০ জন শিক্ষক এক জন করে রোগীকে দত্তক নিয়েছেন।
কিন্তু শুধু পুলিশ, প্রশাসন বা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরাই নন, এই কাজে এগিয়ে এসেছেন জন প্রতিনিধিরাও।ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি থেকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, কর্মাধ্যক্ষরাও দত্তক নিয়েছেন। তবে এই কাজে সব থেকে এগিয়ে ডেবরা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি প্রদীপ কর। তিনি পাঁচ জন রোগীকে দত্তক নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর স্বাস্থ্য সূত্রে জানা যায় জেলায় বছরে গড়ে সাড়ে চার হাজার টিবি রোগীর সন্ধান মেলে। বর্তমানে জেলায় ২৬০০ রোগীর চিকিৎসা চলছে। বাকি সবাই সেরে উঠেছেন। মিক্ষয় মিত্র প্রকল্পে তাঁদের চিকিৎসা ও মিক্ষয় পোষণ প্রকল্পে তাঁদের ছয় হাজার টাকা দেয় সরকার। সাধারণত ছয় মাসের চিকিৎসাতে সেরে ওঠে রোগ (যদি প্রতিরোধী যক্ষ্মা না হয়।) কিন্তু ওই টাকা মেলে দু’কিস্তিতে। সেই টাকা যদি রোগীরা অভাবের কারণে অন্য খাতে খরচ করে দেয় তা হলে শুধু ওষুধে রোগ সারবে না। তাই দত্তক দেওয়ার মাধ্যমে পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। ডেবরায় সেই কাজটি অতি সুন্দর ভাবে হওয়ায় খুশি স্বাস্থ্য দপ্তরও।

যদিও এ বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য সংকর সড়ঙ্গী বলেন,”এটা সত্যিই এক মানবিক উদ্যোগ। আমাদের নিক্ষয় বলে একটি প্রকল্প রয়েছে যেখানে যক্ষা রোগীদের অ্যাডপশন অর্থাৎ দত্তক নেওয়া যায়।মাসে 500 করে ছ মাস তিন হাজার টাকা দিয়ে একেক জনকে নিয়ে নিতে পারেন।এই দিন প্রায় ১০০ জন টিবি রোগীকে অনেকেই দত্তক নেন।যা জেলার জন্য একটি সুখবর। আমরা চাই সবাই এভাবেই এগিয়ে আসুক এই টিবি রোগী নির্মূল করতে জেলায়।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in