
চন্দ্রকোণা-(2) 28 সে ডিসেম্বর:
প্রসূতি মহিলার ডেলিভারের দিনই এসআইরের শুনানি।নিজের গর্ভে সন্তান কে নিয়ে হাজির গর্ভবতী প্রসূতি মা।যদিও এই ঘটনায় তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশনের। শুনানি শেষ করে ছেড়ে দেওয়া হল এই প্রসূতি কে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা-২ ব্লক বিডিও অফিসের সভাকক্ষে সার এর শুনানির প্রথম পর্বে এমনই ছবি ধরা পড়লো আমাদের ক্যামেরায়।২৭ বছরের তরুণী বন্দনা মন্ডল,বাড়ি চন্দ্রকোণার কুঁয়াপুরে।স্বামী পেশায় কৃষক শুভ্রপ্রকাশ মন্ডল।শনিবার ছিল সার এর শুনানির প্রথম পর্ব।বিডিও অফিসের সভাকক্ষের দ্বিতীয়তলে ছিল শুনানি কেন্দ্র।ভিড়ে ঠাসা শুনানি কেন্দ্র,উপস্থিত বিডিও সমেত ব্লকের ৬ জন AERO,কমিশন নিযুক্ত ৬ জন মাইক্রো অবজার্ভার, বিভিন্ন বুথের বিএলও’রা।ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর,প্রথম পর্বে শুনানির জন্য ৭০ জনকে ডাকা হয়।শুনানি কেন্দ্রে যে যার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে হাজির শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটাররা।শুনানি কেন্দ্রের নিচেরতলায় তখন চেয়ারে বসে এক গর্ভবতী মহিলা।শুনানিতে বয়স্ক বৃদ্ধ বৃদ্ধা,এক চোখে দেখতে পাননা এমন ভোটার থেকে সদ্য চোখের অপারেশন তথা ছানি কাটিয়ে কালো চশমা পরিহিত কয়েকজন বৃদ্ধাও হাজির তথ্য যাচাইয়ে।

কিন্তু গর্ভবতী মহিলা ওই তরুণীও শুনানি কেন্দ্রে?তরুণীর স্বামী ততক্ষণে স্ত্রীকে নিচে চেয়ারে বসিয়ে তার কাগজপত্র নিয়ে বিএলও’র সাথে দোতলায় শুনানি কেন্দ্রে।শুনানি কেন্দ্রে গর্ভবতী মহিলা কেন?কমিশন তো এদের জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা করেছে।এদের শুনানি কেন্দ্রে ডাক নই,বাড়িতে গিয়েই করতে হবে শুনানি এমনই গাইডলাইন রয়েছে কমিশনের।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,কুঁয়াপুরে শ্বশুর বাড়ি হলেও গর্ভবতী বন্দনার বাপের বাড়ি চন্দ্রকোণার জয়ন্তীপুরে।সেখানকার ১৪৯ নম্বর বুথের বিএলও শুভাশিষ গোস্বামী বন্দনার বাপের বাড়িতেই তার সার এর ফর্ম দিয়ে এসেছিলেন এবং ২০০২ এ বাবার তালিকা ধরেই ফর্ম পুরন করেছিলেন।বিয়ের পরও ঠিকানা পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রোজেনি ভোটার হিসাবে শুনানিতে ডাক পড়েছিল এই গর্ভবতী তরুণীর।২২ ডিসেম্বর বাপের বাড়িতে নোটিশ দিয়ে আসেন বিএলও।

ওই তরুণী ও তার স্বামী জানান,ডিসেম্বরের শেষে ডেলিভারির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ছিলেন চিকিৎসক এবং সম্ভাব্য ডেলিভারি তারিখ শুনানির দিন অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বর বলা হয়েছিল।কিন্তু একথা বিএলও এবং প্রশাসনের কান অবধি না পৌঁছানোই শুনানি কেন্দ্র অবধি আসা ওই তরুণীর।বিডিও অবশ্য জানিয়েছেন, একথা আমাদের জানানো হলে ওনাদের জন্য স্পেশাল ব্যবস্থা রয়েছে বাড়িতেই শুনানির ব্যবস্থা করা যেত।গর্ভবতী মহিলা শুনানি কেন্দ্রে আসার কথা শুনে শুনানি কেন্দ্র ছেড়ে বিডিও,AERO ও মাইক্রো অবজার্ভার নিচে নেমে এসে বাইরে চেয়ার পেতে তড়িঘড়ি মহিলার শুনানি পর্ব মিটিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।শুনানি কেন্দ্রে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে সমস্ত কাজ মিটিয়েই সুস্থ অবস্থায় স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যান গর্ভবতী তরুণীর স্বামী।বিএলও জানিয়েছেন,বাড়িতে নোটিশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো ডেলিভারি ডেটের কথা জানানো হয়নি।শারীরিক সুস্থতা দেখেই ভোটার তালিকায় নাম অটুট রাখতে শুনানির জন্য স্বামীর সাথে এসেছিলেন ওই গর্ভবতী।

শুনানি পর্ব শেষে বাড়ি ফেরার মুখে বন্দনা মন্ডল
জানান তিনি সুস্থ আছেন,সার এর দুঃশ্চিন্তাও কেটেছে।সার এর ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটারের দায়িত্ব পালন করেছেন।এবার গর্ভের সন্তানকে সুস্থ ভাবে পৃথিবীর আলো দেখানোর পালা বন্দনার।অন্যদিকে এই প্রসূতির স্বামী শুভ্র প্রকাশ মন্ডল বলেন,”আজকে বি এল ও থেকে ঢাকা হয়েছিল এসআইরের নাম ভুলের ঠিক করার জন্য।কিন্তু আমার স্ত্রীর ডেলিভারি ডেটও ছিল।তাই আমরা এসেছিলাম অপেক্ষা করেছি।পুরো বিষয়টা বিএল ও এবং কমিশনের লোকজন কে জানানো হয়েছে।

তবে এই বিষয়ে চন্দ্রকোণা-২ এর বিডিও উৎপল পাইক বলেন,”এই মহিলাকে আমরা আজ ডেকেছিলাম কারণ ম্যাপিংয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল ওনার নামের।উনি আসার পর আমরা নিচে নেমে এসেছি এবং নিচে বসে যত সম্ভব ওনার কাজ করে ওনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।