
খয়েরুল্লাচক 29 সে ডিসেম্বর:
এক সময় বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে সীমান্ত পার করে একাধিক পরিবার উত্তরপাড়ায় বসতি গড়ে তুলেছিল।পরবর্তীতে তাঁরা এ দেশের ভোটার ও আধার কার্ডও তৈরি করেছেন। এমনকী গত কয়েক বছরে কেউ কেউ ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ (SIR) শুরু হতেই দেখা যায়,তাদের পূর্বপুরুষদের কোনও নাম নেই তালিকায়।SIR-র শুনানিতে ডাক পড়ল পুরো পাড়ার।

এক আধ জন নয় এবার ডাক পড়লো পুরো পাড়ার!এলাকার ১৩৭ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩১ জন। তার মধ্যে নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মোট ১৭৭ জনকে নোটিস কমিশনের।SIR-র শুনানিতে ডাক পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পুরো একটি পাড়ার। ওই পাড়ার বাসিন্দারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক বলে সূত্রের খবর। প্রায় ১০-১৫ বছর আগে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ভাবে পালিয়ে এসেছিল এ দেশে। এর পরে তাঁরা কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের খয়েরুল্লাচক এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। সম্প্রতি এ রাজ্যে SIR শুরু হতেই সঙ্কটের মুখে পড়েন এই এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার খয়েরুল্লাচক এলাকায় ১৪৩ জন বাসিন্দাকে সমস্ত নথিপত্র নিয়ে মেদিনীপুর সদর BDO অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সূত্রের খবর, ওই কলোনি উত্তরপাড়া নামে পরিচিত।

খয়েরুল্লাচক এলাকার ১৩৭ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৪৩১ জন। তার মধ্যে নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মোট ১৭৭ জনকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই ১৭৭ জনের মধ্যে ১৪৩ জনই উত্তরপাড়া বা ‘বাংলাদেশি কলোনি’র বাসিন্দা।বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে সীমান্ত পার করে একাধিক পরিবার উত্তরপাড়ায় বসতি গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে তাঁরা এ দেশের ভোটার ও আধার কার্ডও তৈরি করেছেন। এমনকী গত কয়েক বছরে কেউ কেউ ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ (SIR) শুরু হতেই দেখা যায়, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় উত্তরপাড়ার কোনও বাসিন্দা বা তাঁদের পূর্বপুরুষদের কোনও নাম নেই। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।এই গণ-শুনানির নোটিস ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সেখানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা ওপার থেকে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে এসে দিন মজুরি বা ছোটখাট কাজ করে জীবন কাটান। এখন বিডিও অফিসে তাঁদের কী প্রশ্ন করা হবে বা তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।স্থানীয় BLO গোবিন্দ রক্ষিত সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘এই এলাকায় ১৪৩ জনকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম মেনেই তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। ওই পাড়ার বাসিন্দারা নানা প্রশ্ন নিয়ে আমার কাছে আসছেন। যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছি।’