
সবং 30 সে ডিসেম্বর:
বন্ধুর বাবাকে নিজের বাবা বানিয়ে ফরম ফিলাপ।এরপর এস আই আর এর শুনানিতে ধরা পড়লো এই তাজউদ্দিন।শুনানিতে ডাক না পেয়েও প্রতিবাদ জানাতে সেখানে হাজির হলেন বাবা সত্যচরণ সিংহও।ঘটনায় তাজ্জব স্থানীয় বিধায়ক থেকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরাও।

ঘটনাক্রমে জানা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের খড়পাড়ার বাসিন্দা সত্যচরণ সিংহ। তাঁর একমাত্র পুত্র প্রতাপ সিংহের মৃত্যু হয় বছর তিনেক আগে। এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি সূত্রে নারায়ন গড়ের মকরামপুরে থাকার সময় তাঁর সঙ্গেই পরিচয় হয় মকরামপুরের বাসিন্দা বাবলু ওরফে শেখ তাজউদ্দিন। বৃদ্ধ সত্যচরণ বলেন,‘আমার ছেলে যখন বেঁচে ছিল তখন একটি জমি কেনার পরিকল্পনা করে। তখনই জমির দালাল বাবলুকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। জমি কেনার জন্য আমার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ যাবতীয় নথি দিয়েছিলাম।সেই নথি দেখিয়েই এমনটা করেছে বাবলু।’ ওই মকরামপুরেই বিয়ে হয়েছে সত্যচরণের মেয়ে শিখা রাউতের। ‘সার’–সূত্রে ভোটার তালিকা দেখতে গিয়েই শিখার নজরে পড়ে, পদবিহীন বাবলুর ভোটার কার্ডে পদবি সিংহ হল কিভাবে? শিখা বলছেন, ‘এক সময়ে আমাদের সবংয়ের বাড়িতে বাবলু নিজের একটি ভোটার কার্ড ফেলে এসেছিল।

২০০২–এর ভোটার কার্ডে (জেকিউএম১৯৪৯৭৬৭) তাঁর নাম ছিল শেখ তাজউদ্দিন।পিতার নাম শেখ ইদ্রিশ। ঠিকানা ছিল কেশিয়াড়ির গোপালপুর। আর ২০১৬–র ভোটার কার্ডে (ডব্লিউএফওয়াই২২৩১৭৪৪) ঠিকানা হয়েছে নারায়ণগড় বিধানসভার গোবিন্দপুর ব্রাহ্মন শাসন। কার্ডে ছবি একই আছে। কিন্তু নাম বাবলু সিংহ। আর পিতার নাম সত্যচরণ সিংহ!’ তখনই তিনি থানা এবং বিডিও অফিসে অভিযোগ জানান।সোমবার নারায়ণগড় বিডিও অফিসে ছিল শুনানি। তা জেনে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে হাজির হন শিখা। বর্তমানে শুনানি কেন্দ্রের কাছে মানুষকে সাহায্যের জন্য শিবির করার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। সেই অনুযায়ী শিবির করে বসেছিলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট, নারায়ণগড় পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মিহির চন্দ-সহ অন্যান্যরা। তাঁদের দেখেই শিখা বিষয়টি জানান। সেখানে হাজির হন বাবুলও। বাবলুর দাবি, ‘আমাকে দত্তক নিয়েছিল সিংহ পরিবার।

তাই আমি বাবার নাম হিসেবে সত্যচরণ সিংহের নাম রেখেছি। এখন তারা অস্বীকার করছে।’যদিও অন্যদিকে নারায়ণগড়ের বিধায়ক ও সহ-সভাপতি সাংবাদিকদের জানান ‘আমরাও বাবলুকে চিনি না। ওর পূর্ব পরিচয় কী তা নিয়ে আমাদের কাছে কোনও নথি দেখাতে পারেনি। শুধু বলছে আমি অনাথ ছিলাম। ওরা দত্তক নিয়েছিল। শুনানিতে নিশ্চিত তার প্রতিফলন ঘটবে।’

যদিও শেখ তাজউদ্দিন ওরফে বাবলু বলেন,‘আমাকে ওঁরা দত্তক নিয়েছিলেন। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ডে তার প্রমাণও আছে। শুনানিতে সমস্ত নথি জমা দেব।’ শুনানি থেকে বেরিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। অন্যদিকে সত্য চরণের মেয়ে।

শিখার অভিযোগ, ‘শুনানিতে সহজে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সকাল থেকে বসে থাকার পর প্রায় বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ঢোকার সূযোগ পাই। আধিকারিকদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়ে এসেছি।’ওকে দত্তক যে নেওয়া হয়েছে তার নথি দেখাতে বলুন।শিখার অভিযোগ, তাঁর দাদার মৃত্যুর পরে তাঁদের সম্পত্তি হাতানোর চক্রান্ত করতেই নথিপত্র জাল করেছেন তাজউদ্দিন ওরফে বাবলু। শিখা বলেন, ‘আমরা এর বিচার চাই। শুনানিতে গিয়েও বিষয়টি জানিয়ে এলাম। তাতেও কাজ না হলে আমরা আদালতে যাব!’যদিও এদিন এই বাবলুকে নিয়েই সরগরম হয়ে ওঠে শুনানি কেন্দ্র।