
দাঁতন 30 সে ডিসেম্বর:
শুনানিতে ডাক অবসরপ্রাপ্ত CISF সেনা জওয়ানের।এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় ভোট দিয়েছেন তিনি, দেশের হয়ে সুরক্ষায় পাহারা দিয়েছেন তারপরও কেন ডাক বুঝতে পারছি না? এ বিষয়ে তৃণমূল কটাক্ষ করলেও বিজেপির দাবি সিপিএমের বি এল ও রা অনেক ধরনের ভুলভাল জিনিস করে গেছে বিগত দিনে।

এখন গোটা রাজ্যে চলছে এস আই আর এর শুনানি পর্ব।রাজ্যের সমস্ত জেলায় রীতিমতো ক্যাম্প করে সেই গণ শুনানিতে ডাকা হচ্ছে,যাদের ভুল ত্রুটি রয়েছে ফরম ফিলাপে।সেই সঙ্গে যাদের ডকুমেন্টস মিলছে না বা কিছুই জোগাড় করতে পারেনি তাদেরও ডাকা হচ্ছে এই শুনানিতে। তাতে যেমন অভিনেতা অভিনেত্রীদের নামও শুনানিতে জড়িয়ে পড়ছে ঠিক তেমনি দাঁতনে এবার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী কে ডাকা হল এই শুনানিতে। এদিনের ঘটনা ক্রমে জানা যায় দাঁতন ২ ব্লকের তালদা পঞ্চায়েতের নারায়নচকের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান অমিয়রঞ্জন দত্ত।তিনি প্রায় ৪০ বছর সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময় দিয়েছেন ভোট।সেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানের কাছে পৌঁছলো শুনানির নোটিশ।যদিও শুনানিতে যোগ দিতে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন।মূলত ১৯৭২ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন CISF এ কর্মরত ছিলেন অমিয়রঞ্জন বাবু।

২০১০ সালে অবসর গ্রহণ করেন।তাঁর কাকু ভূপেন্দ্রচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। অমিয়বাবুর দাবি, কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন জায়গাতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন।অবসর গ্রহণের পর থেকে নিজের বুথে ভোট দিয়ে আসছেন। তারপরেও ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,”এই বয়সে এই এসআইআর-এর কারনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।রীতিমত হেনস্থার শিকার হতে হল।কেন এমন হবে বুঝতেই পারছি না!”তিনি তিনি জানাচ্ছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম পায়নি নির্বাচন কমিশন।তাই তাঁকে শুনানির জন্য নোটিশ করা হয়েছিল।তিনি শনিবার গিয়ে সব কাগজপত্র জমা দিয়ে এসেছেন।এই ধরনের হয়রানি নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ অমিয়রঞ্জন বাবু।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,গত শনিবার ছিল দাঁতন ২ ব্লকে এসআইআর-এর শুনানি।সেখানে হাতে নোটিশ ধরে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।কেন ৭৫ বছর বয়সে এসে তাঁকে এই হয়রানির মুখে পড়তে হবে?

প্রশ্ন তোলেন তিনি। দাঁতন ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি ইফতেখার আলী বলেন, “এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষকে হয়রানিতে ফেলা হচ্ছে। বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন অহেতুক সাধারণ মানুষকে এমন সমস্যার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যা মানা যায় না।”বিজেপি নেতা রামপ্রসাদ গিরি বলেন, ‘আমরাও হতাশ অমিয়রঞ্জন বাবুর মতো মানুষজনদের নাম ২০০২-এর তালিকা থেকে বাদ পড়ার জন্য। এজন্য দায়ী সিপিআইএম ও তৃণমূল আমলের বিএলও-রা। এসআইআর-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সমস্ত ভুল শুধরে নিচ্ছে।’ বিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “কিছু সমস্যা ছিল।নির্বাচন কমিশন থেকে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছিল।শুনানিতে সব খতিয়ে দেখা হয়েছে।তাঁর আর কোনও সমস্যা নেই।

যদিও অন্যদিকে মেদিনীপুরেও শুনানি চলছে।এই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে মেদিনীপুরের বাংলাদেশি কলোনি নামে একটি পাড়ার প্রায় দেড়শ জন বাসিন্দাকে।