
সিউড়ি 10 ই জানুয়ারি:
এবার ডাক পড়ল স্বাধীনতার সংগ্রামীদের পরিবারের,এমনই ঘটনার সিউড়ি জুড়ে।মূলত SIR-এর নথিতে মিলছে না তাঁরই নাম। ফলে শুনানিতে পড়েছে ডাক।১৯৭২ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হাত থেকে পাওয়া তাম্রপত্র হাতে নিয়েই SIR এর জন্য হাজিরা দিতে গেল স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার।আর তা দেখতেই ভিড় জমল সিউড়ির শুনানি কেন্দ্রে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল পরিবারের সদস্যরা,তার জন্য পেয়েছিলেন তাম্রপত্র কিন্তু তারপরও শুনানিতে ডাক হল সেই পরিবারের।বাধ্য হয়ে তাম্রপত্র নিয়ে হাজির হলো পরিবারের সদস্যরা।এরকমই ঘটনায় চাঞ্চল সিউড়ি জুড়ে।সংবাদ সূত্রে জানা যায় বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা জীবানন্দ মুখোপাধ্যায়।তৎকালীন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন তিনি।স্বাধীনতার পর একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করেন।এরপর ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর হাতে তুলে দেন তাম্রপত্র। কিন্তু সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীর পুত্রবধূ কল্পনা মুখোপাধ্যায়, দুই নাতি শুভজিৎ ও অরিজিৎ মুখোপাধ্যায় , এবং নাতনী প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন হাজিরা নোটিস । সেই নোটিস পেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং শ্রী জীবানন্দ মুখোপাধ্যায়ের পাওয়া তাম্রপত্র হাতে নিয়েই সিউড়ির এক নম্বর ব্লক অফিসে হাজিরা দিতে এসেছেন তারা ।

আর সেই ঐতিহাসিক তাম্রপত্র দেখতেই ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।মূলত স্বাধীনতার পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই স্মারক।তবে এই নোটিসকে হয়রানি মনে করছেন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার।এই ঘটনা প্রসঙ্গে কল্পনা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান,’২০০২ এর তালিকায় আমার স্বামীর নাম না থাকার কারণে এই হাজিরার নোটিশ দেওয়া হয়েছে আমাদের।কিন্তু আমার স্বামী শিক্ষকের চাকরি করতেন। তাকেও তো ভোটের ডিউটি করতে হয়েছে।তা সত্বেও কেন তাঁর নাম নেই ? সত্যিই খুব খারাপ লাগছে।’শুভজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান,‘তাম্রপত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের নাম কেন খুঁজে পাওয়া গেল না সেটাই ভাবাচ্ছে।এর জন্য হয়রানিও হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,শুনানিতে ডাক পাওয়ার নতুন কোন ঘটনা নয়।এই শুনানিতে ডাক পেয়েছেন সাংসদ, অভিনেতা অভিনেত্রী,বিধায়ক এমনকি স্বাধীনতা সংগ্রামের পরিবার।যদিও নথি দেখালেই মিলছে শুনানির গ্রিন সিগন্যাল।