
মেদিনীপুর 25 সে জানুয়ারি:
উন্নয়নের পাঁচালী শোনানোর বক্সে কেন পিকনিকে ব্যবহার হবে তাই নিয়ে দলীয় মহিলা সভানেত্রীর বিরুদ্ধে সরব খোদ শাসক দলের সহ সভানেত্রী। তার অভিযোগ একজন কাউন্সিলর ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে কিভাবে দলীয় বক্স পিকনিকে ব্যবহার করলেন? যদিও এই নিয়ে কোন রুম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি শাসক দলের সভানেত্রী।

এবার শাসকদলের মহিলা সংগঠনের মধ্যেই লেগে গেল দলীয় কোন্দল তাও আবার লাগার কারণ পাঁচালী বক্স। যা নিয়ে সাংগঠনিক সহ-সভানেত্রী কটাক্ষ করলো সভানেত্রীকে,এরকমই ঘটনায় চাঞ্চল্য মেদিনীপুর জুড়ে। মূলত ২০২৬ এর ভোটের আগে শাসক দল তার সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি সেইসঙ্গে তাদের উন্নয়নের কার্যকলাপ রাজ্যবাসী কে জানাতে উন্নয়নের পাঁচালী নামক একটি কর্মসূচি নিয়েছে। শাসক দল সূত্র অনুযায়ী এই কর্মসূচির অঙ্গ হল প্রতিটা ওয়ার্ড কাউন্সিলার কে একটি করে উন্নয়ন পাঁচালী শোনানোর মাইক বক্স দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের কিছু উন্নয়নের লেখা সম্বলিত বই দেওয়া হয়েছে যা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিতরণ হবে এবং সেখানে এই উন্নয়নের পাঁচালী বক্সে করে শোনানো হবে।এই কারণেই দেওয়া হয়েছে যাতে এতে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিজেদের টাকা খরচা করে বারে বারে মিউজিক স্পিকার বুক করতে না হয়।

তাদের খরচা বাঁচে। কিন্তু মেদিনীপুর শহরের মহিলা তৃণমূলের সহ-সভা নেত্রীর অভিযোগ, এই বক্স উন্নয়নের পাঁচালী না শুনিয়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মহিলা সাংগঠনিক সভানেত্রী এবং সেই সঙ্গে তিনি মেদিনীপুর পৌরসভার উপ পৌর প্রধান মৌ রায় তার নিজস্ব পিকনিকে সেই বক্স বাজিয়ে আনন্দ উপভোগ করছেন তাদের সহকর্মীদের সঙ্গে এবং তিনি এও অভিযোগ করেছেন এই বক্সে নাগিন নাগিন ড্যান্সে নাচছেন তার সহকর্মীরা।যা দৃষ্টিকটু এবং দলীয় বিরোধী।এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে তিনি যেমন সোচ্চার হয়েছেন সেই সঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে।যদিও এ নিয়ে কোন রকম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা উপপৌর প্রধান মৌ রায়।

এই বিষয়ে অভিযোগকারী তৃণমূলের সহ-সভানেত্রী সঙ্গীতা ভট্টাচার্য বলেন,”আমাদের দিদির বিগত ১৫ বছরের কি কি উন্নয়ন করেছে তা ওয়ার্ডের মানুষ জনকে জানানোর জন্য এই মিউজিক সিস্টেম বক্স দেওয়া হয়েছে।তাতে করে উন্নয়নের পাঁচালী শোনানোর কথা বলা হয়েছে।আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলার কেও একটা বক্স দেওয়া হয়েছে।কিন্তু আমরা অদ্ভুত ভাবে লক্ষ্য করলাম এই বক্স উন্নয়নের পাঁচালী না শুনিয়ে একটা পার্সোনাল পিকনিকে আমাদের দলীয় সভাপতি মৌ রায় ব্যবহার করছেন।তিনি ওই পিকনিকে থাকা অবস্থায় এই বক্স বাজিয়ে নাগিন নাগিন ড্যান্স করছেন তার সহ কর্মীরা।এটা খুবই দৃষ্টি কটু।উন্নয়নের প্রচার না করে কেউ কি এইভাবে এই উন্নয়নের পাঁচালীর বক্সে নাগিন নাগিন ড্যান্স চালিয়ে নাচতে পারে।এটা দলীয় ভাবে জানানো হবে।”

যদিও এই বিষয়ে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি উপ পৌর প্রধান মৌ রায় বলেন,”এটা নিয়ে বলার কিছুই নেই।উন্নয়নের পাঁচালী চালানোর পর অন্য গান চালানো কি অপরাধ।পাশাপাশি তিনি বলেন যিনি অভিযোগ করছেন তিনিই বাকিটা বলতে পারবেন।

যদিও এই ঘটনায় কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা শংকর গুছাইত বলেন যেমন দল,তেমন তার কাজ। এ দলের যেমন সংস্কৃতি তেমন নেতা নেত্রী। এরা সমাজের পরিপন্থী।এই দলের কাছ থেকে এর বেশি কিছু আশা করা যায় না। এরা এত বছর ধরে অনুন্নয়নের পাঁচালী,বালি কয়লা চুরির পাঁচালী শুনিয়েছে এখন আবার অনুন্নয়নের পাঁচালীর মিউজিক বক্স দিয়ে নাগিন নাগিন ড্যান্স। এটা একমাত্র এই দলের ক্ষেত্রে মানায় যেটা কোন পার্টি বা দল নয় এটা একটা কোম্পানি।