Anandapur Agitation: ইনডোর মিটিং শেষে হামলায় আহত বিজেপির 12 জন কর্মী সমর্থক!শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ বিজেপির

Share

আনন্দপুর 4 ঠা ফেব্রুয়ারি:

কেশপুর ব্লকের ৭ নম্বর অঞ্চলের রামাকাটা এলাকায় একটি আভ্যন্তরীণ বৈঠকের শেষ পর্বে শাসকদলের দ্বারা আক্রান্ত বিজেপি বলে দাবি বিজেপির।এও অভিযোগ বৈঠক শেষ হওয়ার পর বিজেপি কর্মীরা যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ঠিক সেই সময় তৃণমূল নেতার দ্বারা তাদের ওপর বাঁশ লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়।বেশ কিছু বাইক ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ বিজেপির। এই ঘটনায় আনন্দপুর থানায় পুলিশ কোন রকম সাহায্য না করায় পুলিশ সুপারের দপ্তরের গেট ঘিরে বিক্ষোভ বিজেপি নেতৃত্বর।

২০২৬ এর নির্বাচনের আগেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠলো কেশপুর। বিজেপি তৃণমূলের গন্ডগোলে এলাকায় ছড়ালো উত্তেজনা।যদিও এই ঘটনায় পুলিশ সুপারের দপ্তরের গেট ঘিরে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ অবস্থান করল বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ মত জানা যায় এই দিন কেশপুর বিধানসভার আনন্দপুর সাত নম্বর রাম কাটা অঞ্চলে বুথ বিজয় সংকল্প অভিযান চলছিল। ইনডোর সেই কর্মসূচি শেষ করার পরেই অতর্কিতে শাসক দলের লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়।কিছু বোঝার আগে মারধর করা হয় তাদের,ভাঙচুর করা হয় গাড়ি।এই মারধরের হাত থেকে রেহাই পায়নি এসটি বিজেপি নেতা। বিজেপির অভিযোগ মতো প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন এ ঘটনায় আহত হয়েছে।যার মধ্যে ৯ জনকে নিয়ে আনা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য। এই ঘটনা হওয়ার পরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস,অরূপ দাস, শংকর গুছাইত সহ বিশিষ্ট নেতৃত্বরা।

থানায় তাদের অভিযোগ না নিয়ে উল্টে তাদের জায়গা খালি করা নির্দেশ দেওয়ায় বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে মিছিল করে ছুটে আসে বসে পড়েন অবস্থানে।সেই অবস্থান চলে গভীর রাত পর্যন্ত।এই অবস্থান থেকে বিজেপি নেতৃত্ব জেলার পুলিশ সুপার এবং আনন্দপুর থানার পুলিশ ইনচার্জের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি স্লোগান দেন।এরই মধ্যে তারা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানান।শুভেন্দু অধিকারী তাদের ভিডিও কলের মধ্য দিয়ে তাদেরকে কি করতে হবে তার নির্দেশ দেন।সেই সঙ্গে তিনি বলেন আহতদের অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে বার করে বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করতে এবং অনলাইনে পুলিশ সুপার কে অভিযোগ জানাতে।যদিও এই অবস্থান আন্দোলন গভীর রাত পর্যন্ত চালায় বিজেপি কর্মী নেতৃত্ব।

এ বিষয়ে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুকেশ সরেন বলেন,”আমাদের দলীয় মিটিং ছিল এবং সেই মিটিং শেষ করার মুখে যখন আমরা বাড়ি ফিরব বলে ঠিক করেছিলাম সে সময় তৃণমূলের নেতার নির্দেশে এবং লোকজন এসে আমাদের উপর হামলা চালায় মারধর করে, আমাদের বাইক ভাঙচুর করে। এই ঘটনাই আমাদের প্রায় ১৮-২০ জন কম বেশি আহত হয়েছে তার মধ্যে ৯ জনকে মেদিনীপুর মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের ট্রিটমেন্টের জন্য। আমরা তৃণমূল নেতাদের বলতে চাই যেভাবে,যে পথে ওরা মারধর করছে এই ঋণ ওদের ২০২৬ এরপর মিটিয়ে দেওয়া হবে।

যদিও এই বিষয়ে সাংগঠনিক বিজেপি জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন,”কেশপুর বিধানসভার আনন্দপুরে যে ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনার পর উল্টে ওখানকার ওসি নিজেই বলছে এলাকা খালি করুন নাহলে সবাইকে তুলে নিয়ে যাব।তাই আমরা কোথাও অভিযোগ করার সাহস পাইনি বা অভিযোগ করিনি। কারণ আমরা জানি আমাদের অভিযোগ কেউ নেবে না। তাই আমরা অবস্থানে বসছি, যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হবে ততক্ষণ আমরা বসে থাকবো।

অন্য দিকে এই ঘটনায় উল্টে বিজেপির দিকেই অভিযোগ করল তৃণমূল।তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিকের বক্তব্য,”বিজেপির লোকজন ওখানে পিকনিক করার সময় মদ খেয়ে নিজেদের মধ্যেই গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়ে।এরপর তারা এলাকায় রাস্তা দিয়ে পারাপার করতে থাকা মেয়েদের টোনটিটকারি কাটে যার দরুন নিজেদের মধ্যে মারামারির সৃষ্টি হয়।এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কোনভাবেই দায়ী নয়।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in