
রূপনারায়ণপুর 11 ই ফেব্রুয়ারি :
সম্প্রীতি পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘটে চলেছে বাস ট্রাক সহ বাইক দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় আহতের সঙ্গে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা।এই পরিস্থিতিতে এবার বাস ট্রাক সহ বড় যানবাহন ড্রাইভার হেল্পার এবং যাত্রীদের সতর্ক সচেতন করতে উদ্যোগী হলো পুলিশ প্রশাসন। এই দিন খড়গপুরের রূপনারায়নপুরে হাই রোডে দাঁড়িয়ে সেই সচেতনতার পাঠ দিলেন ট্রাফিক পুলিশ অফিসার।

নতুন বছরে দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে।প্রতিদিনই বাস,ট্রাক,মিনি-ট্রাক, ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় কবলে পড়ছে বাইক আরোহীরা।একদিকে যেমন প্রাণ যাচ্ছে সেই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।যা রোধ করতে গিয়ে সমস্যায় সম্মুখীন হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। বেশিরভাগ দুর্ঘটনার ঘটছে দূর পাল্লা বাস সহ দীঘা রুটের বাসগুলি।যে বাসগুলি পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ছেড়ে খড়গপুর মকরামপুর হয়ে দীঘা যায়।তাই এবার সেই দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য উদ্যোগী হলো জেলা পুলিশ প্রশাসন।এদিন খড়গপুরের রূপনারায়ণপুরে হাইরোডে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশ অফিসাররা সেফ ড্রাইভ,সেভ লাইফ এর অঙ্গ হিসাবে বাস গুলোকে দাঁড়িয়ে তার ড্রাইভারকে যেমন সচেতন করলেন সেই সঙ্গে এক প্রস্থ পাঠ দিলেন বাসের যাত্রীদের। ড্রাইভারদের তারা নির্দেশ দিলেন বাসের সঙ্গে রেষারেষি না করতে সেই সঙ্গে জোরে গাড়ি না চালাতে।

অন্যদিকে বাসে থাকা যাত্রীদের তারা সতর্ক করে ট্র্যাফিক অফিসাররা নির্দেশ দিলেন যদি এমন পরিস্থিতি দেখেন যে ড্রাইভার জোরে গাড়ি চালাচ্ছে আপনারা তার প্রতিবাদ করুন,গর্জে উঠুন। পাশাপাশি হাইরোড দিয়ে যাতায়াতকারী ট্রাক ড্রাইভারদেরও এক প্রস্থ নির্দেশ দিলেন এর ট্রাফিক অফিসাররা। তাদের নির্দেশ দিলেন কোন প্রকার রেষারেষি না করতে সেইসঙ্গে হেল্পার কে দিয়ে ড্রাইভিং না করাতে।এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি ক্রমাগত চলবে বলে জানিয়েছেন এই অফিসাররা। যদিও পুলিশের এহেন ভূমিকায় খুশি বাসযাত্রী সহ ট্রাক ড্রাইভারও। সকলে এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের এই সতর্কতায় অনেকটা দুর্ঘটনায় এড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক অফিসার ভানু রায় বলেন,”প্রতিদিনই এই হাইরোড ঘটে চলছে দুর্ঘটনা।এই দুর্ঘটনায় যেমন ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেই সঙ্গে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। তাই সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ এর অঙ্গ হিসেবে আমরা এই প্রচার এবং সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম চালাচ্ছি।যাতে এই দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।সেইসঙ্গে বাসের ড্রাইভার দের আমরা নির্দেশ দিচ্ছি, কোনোভাবেই রেষারেষি না করতে।পাশাপাশি আমরা এই যাত্রীদেরও বলছি কোনভাবে যদি বাসের ড্রাইভার জোরে বাস চালায় তাহলে তারাও যেন তার প্রতিবাদ করেন। তাতে যেমন দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে তেমনি বাঁচবে সাধারণ মানুষের জীবন।”

যদিও এই সচেতনতা পাঠে খুশি বাস যাত্রীরা।বাসযাত্রী দের বক্তব্য পুলিশের এহেন ভূমিকায় অনেকটাই দুর্ঘটনা রোধ হবে। আর তাতে প্রাণ বাঁচবে আমজনতার। তাঁরা এও অভিযোগ করেন অনেক সময় বললেও কথা শোনে না ড্রাইভাররা। সেই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন তাদের সাহায্যের জন্য হেল্প লাইন নাম্বার চালু করতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,সম্প্রতি কয়েকদিনে বাস ট্রাক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে মেদিনীপুরের শতাধিক বাস যাত্রী।সেই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাস ট্রাক সহ যানবাহনের। অন্যদিকে বাইক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কয়েকজন বাইক আরোহীর আহত হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। যদিও সেই দুর্ঘটনায় আহতরা ইতিমধ্যে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ খড়গপুর এবং অন্যান্য মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।আশঙ্কাজনকদের রেফার করা হয়েছে কলকাতার উদ্দেশ্যে।মারা গিয়েছেন অনেকে।