
মেদিনীপুর 13 ই ফেব্রুয়ারি:
রাত ফুরোলেই বিশেষ দিন প্রেমিক প্রেমিকাদের। যদিও দেওয়া-নেওয়ার বিনিময়ের মূল মাধ্যমে-ই হলো গোলাপ। তবে সেই গোলাপের দাম এখন আকাশছোঁয়া জেলা শহরে। সাধারণ গোলাপ-ই বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে,বাকি ভ্যারাইটি গোলাপের দাম আকাশ ছোঁয়া।ব্যাঙ্গালোর গোলাপের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু।

এখন চলছে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ।যা চলবে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শুধু ১৪ই ফেব্রুয়ারি বলা ভুল হবে কারণ এ মাসের প্রতিটি দিনেই রয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকা দের মধ্যে ভালোবাসা বিনিময়ে পর্ব। আর এই।ভালোবাসা বিনিময় পর্বে এ মাসের কটা দিন রয়েছে চকলেট ডে,টেডি ডে, হাগ ডে,কিস ডে এবং শেষে ভ্যালেন্টাইন্স ডে। যদিও এই দিনের বিশেষত্বই হলো গোলাপ। প্রেমিক প্রেমিকাদের ভালোবাসা বিনিময়ের জন্য সারা রাজ্যে এই সপ্তাহে প্রায় কোটি গোলাপের চাহিদা থাকে। এক একটি গোলাপ কেনার জন্য লম্বা লাইন পড়ে।স্বভাবতই এই চাহিদা মেটানোর জন্য কয়েকদিন আগে থেকে হিমঘরে গোলাপ মজুত করতে হয়। এবছর গোলাপের চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হওয়ায় গোলাপের ফলন ভালো হয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাজ্যের একমাত্র সরকারি ফুলের হিমঘর পাঁশকুড়াতে ওই গোলাপ ফুল মজুত করা হয়েছে।

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের শুরুতেই রাজ্যের পাইকারি ফুলবাজারগুলিতে গোলাপের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক বলেন, কলকাতার মল্লিক ঘাট ফুলবাজার সহ বিভিন্ন জেলার পাইকারি বাজার গুলিতে ব্যাঙ্গালোরের সাদা রঙের গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা প্রতি পিস। অন্যান্য রংয়ের গোলাপ বিক্রি হয়েছে, ৪০ থেকে ৪৫ টাকা প্রতি পিস। অন্যদিকে পুনের গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা প্রতি পিস।পশ্চিমবঙ্গের মিনিপল ভ্যারাইটির সাদা গোলাপ ২৪ থেকে ২৫ টাকা,লাল গোলাপ ১২ থেকে ১৪ টাকা ,পিঙ্ক রঙের গোলাপ ১৪ থেকে ১৬ টাকা, ম্যাট গোল্ড ভ্যারাইটির গোলাপ ১৫ টাকা পিস করে বিক্রি হয়েছে। স্বভাবতই খুচরো বাজারগুলিতে ওই দামের থেকে প্রতি পিস গোলাপ অন্তত পাঁচ থেকে দশ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। নারায়ন বাবু জানান,কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এই রাজ্যের উৎপাদিত গোলাপই সেই চাহিদা মেটাতো।

বর্তমানে সেই গোলাপের বাজার অনেকটাই দখল করে ফেলেছে-ব্যাঙ্গালোর ও পুনের গোলাপ। ভিন রাজ্যের ওই গোলাপের ডাঁটা ১৪ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার এবং আমাদের রাজ্যের গোলাপের সাইজের প্রায় তিন থেকে চারগুণ বড়। সর্বোপরি আমাদের রাজ্যের ওই গোলাপের থেকে ভিন রাজ্যের ওই গোলাপ অনেক বেশি সময় টেকসই থাকে। অন্তত ওই ফুলের ডাঁটা জলে ডুবিয়ে রাখলে ১০ থেকে ১৫ দিন প্রায় একই রকম থাকে। সেখানে আমাদের রাজ্যের গোলাপ তিন থেকে চার দিন মোটামুটি সতেজ থাকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, ডেবরা, খড়গপুর, জকপুর এলাকায় চাষ হয় গোলাপের। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরে পাঁশকুড়া, গোসাইবের, সাওরাবেড়িয়া, কোলাঘাট, কন্যাডিহি, বক্সিতলা, পারনাঙ্ক , হাতিশোল এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ হয় গোলাপের। লাল সাদা হলুদ পিঙ্ক সহ আরো কয়েকটি রোগের গোলাপ চাষ হলেও লাল গোলাপের চাহিদা তুঙ্গে ভ্যালেন্টাইন ডে।

এই দুই জেলায় প্রায় কোটি স্টিক গোলাপ উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সারা বাংলা ফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি নারায়ণ চন্দ্র নায়েক বলেন, শীতের দাপটে তেমন ক্ষতি না করলেও ছত্রাকের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক খামখালী এবং মাটির সমস্যাও রয়েছে। Valentine এর আগে চাষিরা তাদের বাগান থেকে গোলাপ তুলে মজুদ করতে শুরু করেছে হিমঘরে। মূলত মিনি পোল গোলাপ ৩-৪ দিন ভালো থাকে। ব্যাঙ্গালোর থেকে আসে ডার্চ গোলাপ। যা চোদ্দ ইঞ্চি ডাটা থাকে তা জলে রাখলে দশ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় সাড়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে গোলাপ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ৭-১৪ ফেব্রুয়ারি এই সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি পিস গোলাপ বিক্রি হয়, যার মধ্যে এরাজ্যে ৬০-৭০ শতাংশ বাকি পুনে ও ব্যাঙ্গালোর থেকে আসে।

রোজ ডে এবং ভ্যালেন্টাইন ডে তে সব থেকে বেশি গোলাপ বিক্রি হয়। প্রায় ৮-১০ কোটি টাকার গোলাপ বিক্রি হতে পারে।
এই বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন,” এই গোলাপের দাম বাড়ার কারণ আজকের যুগে প্রেমিক প্রেমিকাদের।তাদের চাহিদা থাকার জন্যই এই দাম বেড়েছে।একটি গোলাপের দাম ৫০ টাকা করে।তবে আগের বছর ব্যবসা ভালো ছিল এবারেও ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।