Mass Marriage : একই মঞ্চে সাত পাকে বাঁধা 10 জোড়া হাত! উদ্যোগী খড়গপুর স্বল্প প্রচেষ্টা ও ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশন

Share

মালঞ্চা 22 সে ফেব্রুয়ারী:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যখন একদিকে মানুষ পালন করছে তখন গণবিবাহের আসর বসলো রেল শহর খড়গপুরের মালঞ্চার স্বাধীন ক্লাবে। এই গণবিবাহের আসর বসিয়েছিল খড়গপুর স্বল্প প্রচেষ্টা ও ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশন যৌথ উদ্যোগে। এদিন দুস্থ পরিবারের প্রায় পাঁচ জোড়া পাত্র-পাত্রী এই বিবাহে অংশগ্রহণ করেন। বিবাহ শেষে খাট পালঙ্ক আলমারি ডেসিং টেবিল এবং সাইকেল নিয়ে বাড়ি গেলেন নব দম্পতি। আশীর্বাদ করলেন ত্রিবেণী অর্গানাইজেশন এর সম্পাদক সনাতন দাস ও ক্লাব কর্তারা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন সাত পাকে বাঁধা পড়ল পাঁচ জোড়া পাত্র পাত্রী, ১০ হাত হলো এক জায়গায়,পাত্র পেলেন সাইকেল আলমারি যৌতুক যা নিয়ে খুশির হাওয়া খড়গপুরে। এইদিন খড়গপুর মালঞ্চার স্বাধীন ক্লাবে বসেছিল এই বিবাহের আসর। এই গনবিবাহের উদ্যোক্তা খড়গপুর স্বল্প প্রচেষ্টা ও ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশন যৌথ উদ্যোগে। এই বছর পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করল এই গণ বিবাহ। উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর স্বল্প প্রচেষ্টা ক্লাব সভাপতি জয়ন্ত ঘোষ, সম্পাদক সুদীপ সরকার সহ সম্পাদক অনিকেত সেনগুপ্ত, সৌরভ সরকার,সায়ন্তন দাস।অন্যদিকে ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশনের তরফে ছিলেন সম্পাদক সনাতন দাস,কোষাধ্যক্ষ অনুপ কর। এছাড়াও ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলার সহ এলাকার স্থানীয়রা। মূলত যেসব পরিবারে তার মেয়ে কে বিবাহ দেওয়ার মত সামর্থ্য থাকে না সেইসব পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ করে এই ক্লাবে কর্তৃপক্ষ এবং এই ত্রিবেনী অর্গানাইজেশনের সঙ্গে।

এরপর তাদের যৌথ উদ্যোগে এই বিবাহের আসর বসানো হয়। পাশাপাশি পাত্র-পাত্রীকে যাতে বিবাহের পর সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে তার জন্য দেওয়া হয় খাট পালঙ্ক সাইকেল বালিশ গদি সহ আলমারি এবং আরো আসবাবপত্র। এমনকি বিবাহের পর তারা যাতে ভালো আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখে এই সংস্থার কর্ণধাররা। তবে এই দিনের গণবিবাহে খুশির হাওয়া উদ্যোক্তা সহ পাত্র-পাত্রীদের।উল্লেখ্য, গোপীবল্লভপুর ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশনের এই গন বিবাহের আসরে পাঁচ জোড়া বিবাহে মিলিয়ে মোট ৩৫৪৯ জোড়া বিবাহ করালেন এই সংস্থার সম্পাদক সনাতন দাস। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তিনি এই সেবা করে যাচ্ছেন গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা জুড়ে। শুধু রাজ্য নয়, তিনি ভিন রাজ্যেও তার কাজকর্ম করে যাচ্ছেন। যদিও এই গণবিবাহের কর্মসূচি পথ চলা শুরু হয়েছিল কেবলমাত্র অল্প বয়সী কিশোরীদের বিক্রি হওয়া আটকাতে। যদিও আজ এই গণবিবাহের আসর এবং এই অর্গানাইজেশনের নাম গোটা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও তার মূল কান্ডারী ৫২ বছর বয়সী সনাতন বাবু।

এ বিষয়ে খড়গপুর স্বল্প প্রচেষ্টা ক্লাব সভাপতি জয়ন্ত ঘোষ বলেন,”আমাদের ক্লাবের ফাউন্ডেশন ডে তে আমরা স্পেশাল কিছু করতে চাই। প্রতি বছর আমার রক্তদান শিবির সহ বেশ কিছু সামাজিক কাজকর্ম করতাম। কিন্তু আমরা সামাজিক কাজ করার জন্য এই গণবিবাহকে বেছে নিয়েছি। এ বছর নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমরা এই গণবিবাহের আসর বসিয়েছি। তাতে দুস্থ পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিবাহ হয় এক আসরে।”

অন্যদিকে ত্রিবেণী যুব জনকল্যাণ অর্গানাইজেশনের সম্পাদক সনাতন দাস বলেন,”একসময় আমাদের গোপীবল্লভপুর,ঝাড়গ্রাম জুড়ে মহিলা পাচারের সংখ্যা ব্যাপক পরিমাণে বিস্তার লাভ করেছিল। বিশেষ করে গরিব দুঃখী দুস্থ পরিবারের কিশোরী এবং কম বয়সী মহিলাদের বিয়ে করার নাম করে অন্য রাজ্যে পাচার করে দিত বেশ কিছু দুষ্কৃতী। তা আটকানোর জন্যই এই গণবিবাহের আসর বসানো আমাদের। এই গণবিবাহের ফলে নারীদের পাচার হওয়া আটকাতে পেরেছি আমরা। যতদিন আমরা বেঁচে থাকব এই ধরনের কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাব।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in