
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
টানা ১৫ বছর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে কাটালেন মাওবাদী সন্দেহে ধৃত শোভা মুন্ডা।যদিও এই দিন তিনি বেকসুর খালাস পেয়ে যান। মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পেয়ে নিজের বাড়ি ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মাজুগোড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা।যাওয়ার সময় বললেন,”পুরানো কথা কিছুই বলতে চাই না,এখন বাড়ি ফিরতে চাই।”

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায় বাম সরকারের শেষের দিকে গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছিল মাওবাদী কার্যকলাপ।জেলার বিভিন্ন জায়গা ভিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাওবাদীরা।সে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে এক ও একাধিক,নষ্ট হয়েছে সরকারি সম্পত্তি।তৎকালীন সময়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয় ল্যান্ড মাইন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল।এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল ঘাটশিলাতে।২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলাতে একটি মাওবাদী নাশকতার ঘটনা ঘটে।যে ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে ধরা পড়ে মাওবাদী নেত্রী চন্দনা সিং ওরফে শোভা মুন্ডা।দীর্ঘ ১৫ বছর পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাত নাগাদ মেদিনীপুর সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে রওনা দিলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে।যদিও তার নামে মোট আটটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।বাকি আরো সাতটি মামলা এখনো বিচারাধীন।

সূত্র অনুযায়ী জানা যায় ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মাজুগোড়া গ্রামের বাসিন্দা চন্দনা সিং ওরফে শোভা মান্ডি মাত্র ১২ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।তারপর থেকে তিনি মাওবাদীদের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন।২০০৯ সালে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় মাওবাদী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে চাকুলিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।২০১০ সালে তার যাবজ্জীবনের সাজা ঘোষণা করেন ঘাটশিলা আদালত।শোভা মুণ্ডা সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের দারস্থ হন।সেই থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি জেলবন্দি ছিলেন।দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলার পরে গত ১ জুলাই ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস করে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাত নাগাদ মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে বেরোলেন এক সময়ের মাওবাদী নেত্রী হিসেবে পরিচিত শোভা।

সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি রওনা দিলেন ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মাজুগোড়া গ্রামের উদ্দেশে।তবে ভবিষ্যতে তিনি কিভাবে জীবন অতিবাহিত করবেন তা নিয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করতে চাননি তিনি।যদিও এদিন এই শোভা মুন্ডার বেকসুর খালাসে কিছুটা উচ্ছ্বসিত মানবাধিকার কর্মীরা।এইদিন তারা সদল বলে এসে নিয়ে যান শোভা মুন্ডাকে।এছাড়াও ঝাড়গ্রামে বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন শোভা মুন্ডা।যদিও APDR সূত্রে খবর সব কটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন শোভা।

এইদিন শোভা মুন্ডা বলেন,”এতদিন পর বেরিয়েছি এখন কিছু বলার নেই।এখন বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। পুরানো কথা বা পুরানো ঘটনা কিছুই বলার ইচ্ছে নেই। খুব কম বয়সে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এসেছি।বাড়ি ফিরব এটাই আনন্দে আছি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যা জয়শ্রী সরকার সহ আরো বেশকিছু মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য এদিন উপস্থিত ছিলেন শোভা মুন্ডার মুক্তিক্ষণে। এই বিষয়ে জয়শ্রী সরকার জানান,” দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংশোধনাগারে থাকাকালীন ঘাটশিলার মাওবাদী নাশকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে যে মামলা চলছিল,তার বিচার ২০২২ সাল থেকে পেন্ডিং অবস্থায় পড়েছিল।অবশেষে ঝাড়খন্ড কোর্টের নির্দেশে সেই মামলা থেকে মুক্তি পান শোভা মুন্ডা।যদিও বিনা বিচারে বন্দী পড়ে থাকা নিয়েও অভিযোগ করে APDR।