
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
এবার শাসক দলের বিরুদ্ধে মেদিনীপুরে মৃত ভোটারের জায়গায় ভুয়ো ভোটার রেখে ভোট দেওয়ার অভিযোগ করল বিজেপি।বিজেপির অভিযোগ,কেউ ১০ বছর আগে কেউবা পাঁচ বছর আগে মারা গেছে অথচ নির্বাচন কমিশনের এখনো ওয়েবসাইটে যেসব মৃত ভোটারের নাম জ্বলজল করছে। একটি ওয়ার্ডেই ৪৯ জনের মৃত ভোটারের নাম,যা নিয়ে আমরা অভিযোগ করেছি নির্বাচন কমিশনে।

এস আই আর নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।গোটা দেশের সঙ্গেই এই এস আই আর নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।যদিও ইতিমধ্যে প্রতিটা জেলায় ভুয়ো ভোটার সেই সঙ্গে বাংলাদেশি ভোটার খুঁজতে তৎপর হয়েছে শাসক বিরোধীরা।যদিও এস আই আর নিয়ে কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।এবার ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ উঠল খোদ মেদিনীপুরের জেলার মেদিনীপুর শহরে।এই নিয়ে বিজেপি ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা শাসককে এক প্রস্ত চিঠিও দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।সূত্র অনুযায়ী জানা যায় মেদিনীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার তালিকায় মোট ৭১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪৯ জন মৃত ভোটার ড্রাফট রোলে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।তাতে দেখা যায় এই ভোটাররা কেউ ৫ বছর আগে,কেউ দু’বছর আগে,কেউ বা ১০ বছর আগে মৃত হয়েছেন।

তাদের মৃত হওয়ার যথেষ্ট কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অথচ নতুন ভোটার তালিকায় তবু তাদের নাম বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে।যা নিয়েই এবার অভিযোগ করল বিজেপি। বিজেপির বক্তব্য এই ভুয়ো ভোটার তৃণমূলের অস্ত্র।যারা বছরে পর বছর ধরে ভুয়ো ভোট দিয়ে আসছেন।কারণ এই ভোটাররা দীর্ঘ ১০ বছর বা পাঁচ বছর কেউ বা দু বছর আগে মারা গেছেন অথচ তাদের ভোট নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময় হয়ে যায়।একটা ওয়ার্ডে যেখানে ৭১৫ জন ভোটার সেখানে যদি ৪৯ জন মৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি থাকে তাহলে গোটা জেলার কি অবস্থা বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।আর নিয়েই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলা শহর রাজ্য জুড়ে।

এই নিয়ে বিজেপি সহ-সভাপতি সংকর গুছাইত বলেন,”গোটা রাজ্যের পাশাপাশি মেদিনীপুরেও এস আই আর নিয়ে তৃণমূল চিন্তায়।কারণ আমরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খতিয়ে দেখলাম আট নম্বর ওয়ার্ডে ৭১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪৯ জন মৃত।যা এখনো নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে।আসলে এই মৃত ভোটারদেরকে এই জন্যই নাম রাখা হয়েছে তাতে ভোটের সময় এই ৪৯ এর নামে জনের নামে ভুয়ো ভোট দিতে পারে শাসক দল তৃণমূল।এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশন,সদর মহকুমা শাসক এবং জেলা শাসক কে।আমরা চাই এই মৃত ভোটারদের অবিলম্বে বাদ দেওয়া হোক নির্বাচন কমিশনের তালিকা থেকে।

অন্যদিকে জেলা মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জির কথায়,”এরকম একটা আমরা অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।তবে এইটুকু বলব যারা সম্প্রতি মারা গেছেন তাদের হয়তো কোনোভাবে নাম রয়ে গিয়েছে তালিকায়।তবে এটা এটাই ফাইনাল লিস্ট নয়।ভোটের আগে আমরা ড্রাফট রোলের মাধ্যমে সেই ফাইনাল লিস্ট তুলে ধরব যেখানে এই মৃত ভোটারের নাম বাদ চলে যাবে।পাশাপাশি তিনি ও বলেন এস আই আর এর হওয়ার আগেই আমরা ড্রাফট রোলের মাধ্যমে এই মৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেব।

যদিও অন্যদিকে মৃত সুনীল কুমার করণ,দিলীপ ঘুষির পরিবার বলেন,”অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছে আমাদের ভোটার।আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনিক এবং সরকারি কাগজপত্র জমাও দিয়েছে। রেশন কার্ডসহ যাবতীয় সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে।কিন্তু তারপরও কেন নির্বাচন কমিশনের তালিকায় নাম রয়েছে তা বলতে পারব না। প্রশাসনের বিষয়টা প্রশাসনই জানে।
অন্যদিকে জেলা শাসক সূত্রে জানা যায় এই নিয়ে একটা অভিযোগ হয়েছে ইলেকশন কমিশনে এবং এই পুরো বিষয়টা ইলেকশন কমিশন খতিয়ে দেখছে।