
বেলপাহাড়ি 24 সে ডিসেম্বর:
চলুন সবাই মিলে ঘুরে আসি জঙ্গলমহলের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং জঙ্গলে ঘেরা বেলপাহাড়ি।মূলত বছর 15 পিছিয়ে গেলে এই স্থানের নাম শুনলেই প্রথমেই মাথায় আসত মাওবাদীদের কথা।রাতের বেলায় তো বটেই দিন দাহাড়ে চলতো মাওবাদীদের আনাগোনা এবং নৈরাজ্য। যদিও এখন মাও-ভয়ে জুজু হয়ে থাকা সেই বেলপাহাড়ি এখন পর্যটকদের কোলাহলে মুখর। পাহাড় জঙ্গল দেখার পাশাপাশি বাম্বু চিকেন,শালপাতা চিকেন সহ দেশি মুরগির ঝোল টেস্ট করতে পারবে পর্যটকেরা।

এই শীতকাল হলেই খ্যাঁদারানির ধারে, ঘাঘরার পাড়ে বসে চড়ুইভাতির আসর। শুধু জেলা বললে ভুল হবে কলকাতা থেকে অসংখ্য পর্যটক ভিড় করেন সেখানে।বেলপাহাড়ির আনাচ-কানাচে শালের জঙ্গেলর ভিতরে কোথাও রয়েছে জলাধার, কোথাও আবার প্রাগৈতিহাসিক গুহা।শীতের বেলপাহাড়ির এক রূপ। আর ঘনঘোর বর্ষায় আকাশ মেঘে ঢাকলে সেই বেলপাহাড়ি অন্য রকম। গাছপালা ঘন সবুজ, শুকনো ঝর্না তখন জলে ভর্তি। বর্ষা তো এসেই গিয়েছে। সপ্তাহান্তে সপরিবার ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে। খোলা প্রান্তর, সবুজ মাঠঘাট, শালের জঙ্গল ভুলিয়ে দেবে শহুরে ক্লান্তি।বেলপাহাড়ি থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এই জলপ্রপাত।ঘাঘরার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ উপভোগ করতে যেতে হবে ভরা বর্ষায়। অদ্ভূত পাথুরে ভূ-প্রকৃতি এই জায়গায়। এখানে রয়েছে একটি গিরিখাত। জলের তোড়ে পাথরের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে।

কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যখন প্রবল শব্দে জল বয়ে যায়, তখন সে রূপের আকর্ষণই আলাদা। এরই পাশাপাশি যাওয়ার পথে রাস্তা দুপাশে পড়বে টাটকা গুড় তৈরি করে দেওয়ার বড় বড় পাত্র। যেখানে তৈরি হচ্ছে গরম গরম টাটকা নলেন গুড় এবং গুড়ের পাটালি।আর তা চেখে দেখতে যেন ভুলবেন না কেউ। এরই পাশাপাশি আপনারা ঘুরে ঘুরে দেখতে পাবেন তারা ফেনী জলাধার,খ্যাঁদারানি হ্রদ,চাতন পাহাড়,ঢাঙ্গি কুসুম, গাড়রাসিনি পাহাড় সহ অন্যান্য সাইড সিন গুলি।

এই কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে পর্যটকের ঢল তারা নিজেরা যেমন রান্না বান্না করে আনন্দ উপভোগ করছে সেই সঙ্গে এখানকার দোকানদারেরা ও তারাও বাম্বু চিকেন সাল-পাতা চিকেন সেইসঙ্গে দেশি মুরগির গরম গরম ঝোল রান্না করে দিচ্ছে পর্যটকদের জন্য।