
সাঁতরাগাছি 1 লা ডিসেম্বর:
ঠাণ্ডার সঙ্গে ঝিল পরিষ্কার হতেই সাঁতরাগাছি ঝিলে পরিযায়ী পাখিদের ভিড়,ভিন দেশের পাখিরা কয়েকশো কিলোমিটার অতিক্রম করে ফিরছে জলাশয়ে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিনে সাঁতরাগাছি ঝিলে পাখির সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। জলাশয়ের বিভিন্ন অংশে দেখা মিলছে লালচে হাঁস, পাতিহাঁস-সহ একাধিক দেশি ও বিদেশি প্রজাতির পাখিদের।

এ বছরও তাঁর ব্যতিক্রম নয়,শীত পড়তেই হাজির হচ্ছে পরিযায়ী পাখিরা। দেশ-বিদেশের কয়েকশো কিলোমিটার পেরিয়ে তারা উপস্থিত হয়েছে রাজ্যের সাঁতরাগাছি ঝিলে।মূলত দেশ-বিদেশের পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম ঠিকানা হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিল। প্রতি বছর শীতের সময়ে নানা ধরনের পাখির আগমন ঘটে এখানে। তাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে এই জলাভূমি। কিন্তু এ বার শীতের শুরুতে সাঁতরাগাছি ঝিলে তাদের দেখা না পাওয়ায় অনেকেই চিন্তায় ছিলেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, ঝিল কচুরি পানায় ভরে যাওয়াতেই হয়তো ভিনদেশী অতিথিরা এখানে আসতে সঙ্কোচ বোধ করছে। তাদের কথা ভেবেই সম্প্রতি ঝিলের কচুরি পানা সরানোর উদ্যোগ নেয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাঁতরাগাছি ঝিলে পক্ষীপ্রেমী ও প্রকৃতি প্রেমীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ক্যামেরা নিয়ে হাজির হচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ অবশ্য আসছেন শুধুমাত্র তাদের দর্শন পেতে।স্থানীয় বাসিন্দা সমীর জানা, অসীমা বেরা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও ঝিলটা প্রায় পুরোপুরি কচুরিপানায় ঢাকা ছিল। সেটা দেখে কিছু পরিযায়ী পাখি ফিরে গিয়েছিল। ঝিল থেকে পানা তোলার পরে এখন অনেক জায়গা জুড়ে জল দেখতে পাচ্ছি আমরা। সেজন্যই পাখিরাও আসতে শুরু করেছে। আগের মতো আবার পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছি আমরা।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,সাঁতরাগাছির মত পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ও মেদিনীপুরের নদীতে আসছে পরিযায়ী পাখিরা।পাখি ফিরছে পিড়াকাটা,ঝাড়গ্রাম সহ জেলার ভিন্ন প্রান্তে।