
ঝাড়গ্রাম 19 সে ডিসেম্বর:
ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পারিবারিক পেনশান পেলেন বেলিয়াবেড়া ব্লকের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবক স্নেহাংশু দে।স্নেহাংশুর বাবা পঙ্কজ কুমার দে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত ২০০৪ সালে অবসর গ্রহনের পরে নিয়মিত পেনশন পেতেন।কিন্তু বার্ধক্য জনিত কারণে দুই বছর আগে মৃত্যু হয়েছে।যার ফলে একদম একা হয়ে পড়ে স্নেহাংশু।

অন্যদিকে পঙ্কজ বাবুর স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই।ঝাড়গ্রাম জেলার বেলিয়াবেড়া ব্লকের চোরচিতা গ্রামের স্নেহাংশু দে বছর সাতেক আগে বাইক দুর্ঘটনায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে উনি ৯০% শারীরিক প্রতিবন্ধী । স্নেহাংশুর একমাত্র ভরসা ছিলেন বাবা পঙ্কজ কুমার দে। বাবার মৃত্যুর পরে স্নেহাংশু নানান দিক দিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন।স্নেহাংশু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়ার সুবাদে ফেমেলী পেনশান পাওয়ার উত্তরাধিকার হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক অসুবিধার জন্য তিনি আবেদন করতে পারেননি।সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নানান সাফল্য দেখে বেলিয়াবেড়া ব্লকের “অধিকার মিত্র” রীতা দাস দত্তের সাথে যোগাযোগ করেন স্নেহাংশু।”অধিকার মিত্র” রীতা দাস দত্ত স্নেহাংশুর বাড়িতে গিয়ে সমস্ত সমস্যার কথা শোনেন।

অধিকার মিত্রের মাধ্যমে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিবের কাছে সাহায্যের জন্য লিখিত আবেদন জানান স্নেহাংশু।স্নেহাংশু দের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব নির্দেশ দেন উক্ত ব্লকের অধিকার মিত্র কে।সচিবের নির্দেশ পেয়ে বেলিয়াবেড়া ব্লকের “অধিকার মিত্র” রীতা দাস দত্ত পেনশান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দফতরের সাথে যোগাযোগ করে সমস্ত নথি জমা করেন।বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে খবর আসে স্নেহাংশুর ব্যাংক একাউন্টে তেইশ মাসের এরিয়ার (পেনশান) বাবদ ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭০১ টাকা জমা হয়ে গেছে এবং মাসিক পেনশান বাবদ প্রতি মাসে ১২ হাজার ৮৪৩ টাকা করে পাবেন।এইদিন শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক রিহা ত্রিবেদীর নির্দেশে “অধিকার মিত্র” রীতা দাস দত্ত ব্যংক পাসবুক আপডেট করে স্নেহাংশু দের বাড়িতে গিয়ে পেনশনের এর ২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭০১ টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়ে দিয়ে আসেন।

এই খুশির খবর পেয়ে স্নেহাংশু আমাদেরকে জানান এই পেনশান যে আমি পাবো তা আসাই ছেড়ে দিয়েছিলাম, কারন আমার শারীরিক অবস্থায় বিভিন্ন দফতর গিয়ে পেনশনের কাগজ জমা দেওয়া সম্ভব হতোনা । সোশ্যাল মিডিয়াতে ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নানান সমস্যার সমাধান দেখে আমিও লিখিত আবেদন করি,বাড়িতে বসেই বিনা মূল্যে আমি এই পরিষেবা পেলাম ।