
মেদিনীপুর 3 রা জানুয়ারি:
অবশেষে ৫৭ দিনের মাথায় বালি পাচার মামলায়
চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর অনুযায়ী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বালি পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত অরুণ শরাফ সহ আঠারো জনের নামে চার্জশিট জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে অরূণের সংস্থা ‘জিডি মাইনিং’-এর নামেও জমা পড়েছে চার্জশিট। এই চার্জশিট জমা পড়েছে বিচার ভবনে বলে সূত্রের খবর।

সম্প্রতি কিছুদিন আগে অবৈধভাবে বালি পাচার নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে ইডি।তারা কলকাতা সেই সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর,ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর,লালগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় তড়িঘড়ি তদন্ত চালায়। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলে সেই তদন্ত। অবশেষে সেই তদন্তের চার্জসিট জমা দিল তারা। প্রসঙ্গত গত ৬ নভেম্বর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন অরুণ শারফ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল ইডি। অভিযোগ, এই অরুণের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যান্ড মাইনিং ট্রান্স পোর্ট স্টোরেজ ও সেলে যা যা নিয়ম আছে, তার সব কিছুকে উপেক্ষা করে বালি তুলত। এরপর তা বিক্রি করত। বেআইনি ভাবে ব্যাপক অর্থ রোজগার করত এই সংস্থা। ১৪৫ কোটি টাকার মোট দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। অরুণ ছাড়াও ইডির আধিকারিকরা চার কর্মীর নামে চার্জশিট জমা দিয়েছে।

৫৭ দিনের মাথায় পড়ল এই চার্জশিট।মূলত গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বালিপাচার তদন্তে নামে ইডি। ওই দিন ইডি একযোগে ঝাড়গ্রাম ও বেহালায় অভিযান চালায় ইডি (ED Raid)। কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময়ই জিডি মাইনিংয়েও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল আলির বাড়িতে চলেছিল তল্লাশি।সুবর্ণরেখা নদী থেকে কোনও নিয়ম না মেনে দেদার বালি পাচারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সৌরভ রায় নামক এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। এরা সকলেই বালির অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত বলে ইডি।

এইদিন তাঁদের বিরুদ্ধই জমা পড়ল চার্জশিট। যদিও এই অবৈধভাবে বালি পাচারকাণ্ডে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে কয়েকটি জেলা জেলা। অন্যদিকে বালির অপ্রতুলতা নিয়েও অভিযোগ পড়ছে একাধিক।