
বেড়বল্লভপুর 27 সে ডিসেম্বর:
এও এক বিরল ঘটনা ঐতিহ্যবাহী বিপ্লবী শহর মেদিনীপুরে।মাজারের মাথা বাঁচানো গেলেও বাকি দিকে হু হু করে ঢুকছে বাতাস,তবে হাল ছাড়তে রাজি হননি, 86 বছরের বৃদ্ধ চমৎ সেতুয়া।মূলত আমরা প্রায় সময় পত্র-পত্রিকায় এবং টিভিতে দেখি আমাদের এই সম্প্রীতির দেশে ভিন্নধর্মী মানুষেরা তারা মাজার,মন্দির পাহারায় রয়েছেন।এ রকমই এক ঘটনা মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রস্থল বেড়বল্লভপুরে।

এখানে 86 বছরের বৃদ্ধ চমত সেতুয়া প্রায় 40 বছর ধরে তিনি এক মুসলিম মাজার পাহারা দিয়ে চলছেন কোন সরকারি সাহায্য সুবিধে ছাড়ায়।প্রসঙ্গত সম্প্রীতির দেশ এই ভারতবর্ষে আনাচে কানাচে রয়েছে এ রকমই এক বিরল বিরল ঘটনা।এখানেও সুফি চাঁদসা বাবা নামে এক মুসলিম ধর্ম গুরুর সমাধিস্থল রয়েছে।আর যে সমাধিস্থল কে আঁকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছেন এই বৃদ্ধ।তার একটাই দাবি যে কোন ভাবে এ মাজারকে পাহারা দেওয়া।শুধু পাহারা দিয়ে তিনি ক্ষান্ত হননি বরং প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি নর নারায়ন সেবা করেন বিনা পারিশ্রমিকে।যেখানে বিভিন্ন মন্দিরে প্রসাদ বিলি করতে গিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে তিনি বিনামূল্যে এখনো শতাধিক মানুষকে খাবার খাইয়ে যাচ্ছেন এই মাজার প্রাঙ্গণে।তবে তার একটাই দাবি,এই মাজার পাকাপোক্ত কংক্রিট করে দিক যে কেউ।

কারণ দীর্ঘদিনের পুরানো মাজার ভেঙ্গে পড়েছে,মাথা থেকে পড়ছিল জল।তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিভিন্ন মানুষের সাহায্যে আস্তে আস্তে পুরনো ভঙ্গুর মাজার ভেঙে নতুন করার চেষ্টা করছেন কিন্তু ঢালাই করার পরে আটকে গিয়েছেন তার শেষ অংশ।ফলে আবার যে কে সেই।দীর্ঘ ভোগান্তি এবং সমস্যায় ভুগছেন তিনি।তার অভিযোগ এক ও একাধিকবার শহর ও জেলার বিধায়ক সাংসদ প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের তিনি জানিয়েছিলেন, আবেদন অনুরোধ করেছিলেন মাজার সারিয়ে দেওয়ার কিন্তু কেউই কর্ণপাত করেনি।তার এও বক্তব্য অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন ব্যাস অতটুকুই।তবে জলে ডুবতে থাকা মাজার তিনি এলাকাবাসী সাহায্য এবং বিশিষ্ট মানুষের সাহায্যে কিছুটা ভেঙে তৈরি করার চেষ্টা করেও ছিলেন কিন্তু শেষ করে উঠতে পারলেন না।

অবশেষে চাইলেন সাহায্য,এগিয়ে আসুক কোনভাবেই যে কেউ। একই সঙ্গে তাদের ভক্তদের আবেদন এই বৃদ্ধ চমত সেতুয়া কে দেওয়া হোক অনন্য সম্মান কেন্দ্র ও রাজ্য দ্বারা।