Afrin Jabi:ইংলিশ চ্যানেলের পর স্বপ্ন ক্যাটলিনা চ্যানেল!আফরিন জানালো “আমার লক্ষ্য সাত সমুদ্র জয় করা”

Share

মেদিনীপুর 20 সে জানুয়ারি:

মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব থেকেই সাঁতারে প্রশিক্ষণ শুরু আফরিনের।সদ্য ইংলিশ চ্যানেল জয় করেছে সে।তাই ঘরে বসে থাকতে রাজি নয়।পরবর্তী টার্গেট ক্যাটলিনা চ্যানেল।তবে তার বাবার দাবি একদিকে মেয়েকে নিয়ম করে প্রশিক্ষণে রাখা, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহ দু’টো কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।ছোট্ট ব্যবসা থেকে এতটা টাকা বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে।তাই আবেদন সরকার ও বিভিন্ন সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের।

সদ্য ইংলিশ চ্যানেল জয় করেছেন। আর তাতেই তৈরি হয়েছে আত্মবিশ্বাস। তাই ঘরে বসে সময় কাটাতে রাজি নন। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন নতুন অধ্যায়ের। এবার সাঁতরে ক্যাটলিনা চ্যানেল পার হতে চান মেদিনীপুর শহরের সাঁতারু আফরিন জাবি। সাঁতারুদের জন্য যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি বছরেই ক্যাটলিনা চ্যানেল পার হওয়ার পাশাপাশি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে থাকা ভারত মহাসাগরের পক প্রণালীও সাঁতরে পেরোতে চান তিনি। আফরিন বলেন, ‘আমার লক্ষ্য সাত সমুদ্র জয় করা। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। ভারত মহাসাগরের পক প্রণাল‌ী সাত সমুদ্রের মধ্যে না পড়লেও ক্যাটলিনার পাশাপাশি এই বছরেই সেটিও সাঁতরে পার হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। পরবর্তীকালে বাকি চ্যানেল বা প্রণালীগুলি পার হওয়ার চেষ্টা করব।’প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব থেকেই সাঁতারে প্রশিক্ষণ শুরু আফরিনের।

যদিও এখান থেকে সাঁতার শিখে সমুদ্র জয় করা সহজ নয়। তাই গঙ্গাবক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে মাইলের পর মাইল সাঁতার কেটেছেন। নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গঙ্গায় ৮১ কিলোমিটার পর্যন্ত সাঁতার কেটেছেন। যেহেতু একটি চ্যানেল পেরোতে দীর্ঘ সময় লাগে তাই রাতদিন ধরে মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবে ১২-১৪ ঘন্টা একটানা সাঁতার কেটেছিলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, যেহেতু সমুদ্র জল প্রচন্ড ঠান্ডা, সেই ঠান্ডায় ঘন্টার পর ঘন্টা সাঁতার কাটতে বাড়িতে বরফ এনে ঠান্ডা জলে কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। তারপরই গত বছর জুলাই মাসে ১৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট সাঁতার কেটে ইংলিশ চ্যানেল পেরোতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। এবার তিনিই প্রায় ৩২ কিমির ক্যাটলিনা চ্যানেল ও প্রায় ৩৬ কিলোমিটার ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে থাকা ভারত মহাসাগরের পক প্রণালী পার হতে চান চলতি বছরেই।

যে কারণে তিনি প্রথমে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে বি পিএড পড়ার জন্য ভর্তি হলেও পরে ফিরে আসেন মেদিনীপুরে। ভর্তি হন ঝাড়গ্রাম জেলার কাপগাড়ি কলেজে। কারণ, ফের সাঁতার প্রশিক্ষণে জোর দিতে চান তিনি। যেটা আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সেভাবে তা হচ্ছিল না। নিয়ন্ত্রণ করছেন খাবারেও। ছেড়েছেন ফাস্ট ফুড খাওয়া। যাতে শরীর নির্মেদ থাকে। নিয়মিত ৫-৬ ঘন্টা প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকছেন যাতে ঠান্ডাতেও দীর্ঘক্ষণ জলে থাকতে পারেন। আফরিন বলেন, ‘সাত সমুদ্র পেরোতে হল শুধু নিজে প্র্যাকটিশের মধ্যে থাকলেই চলবে না। প্রশিক্ষণ প্রয়োজন উপযুক্ত কোচের কাছে। যা কলকাতায় ছাড়া মেলে না। আমি সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে নিয়ম করে এক এক করে সাত সমুদ্র সাঁতরে জয় করতে পারি।’ তাই আফরিনের পাখির চোখ এখন, ক্যাটলিনা চ্যানেল, মলোকাই চ্যানেল, জিব্রাল্টার প্রণালীর মতো সাত সমুদ্র।

তবে এক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা সমস্যাতেও পড়েছেন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী বাবা সেখ পিয়ার আলি। কারণ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে খরচ বেশ কয়েক লক্ষ টাকা করে। সেই টাকা পাবেন কোথায়? পিয়ার আলি বলেন, ‘একদিকে মেয়েকে নিয়ম করে প্রশিক্ষণে রাখা, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহ – দু’টো কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমার ছোট্ট ব্যবসা থেকে তো এতটা টাকা বের করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই সরকার ও বিভিন্ন সহৃদয় মানুষের কাছেও এবার সাহায্যের জন্য আবেদন জানাব ভেবেছি। যাতে মেদিনীপুরের মতো শহরে থেকেও আমার মেয়ে বিশ্বের সাত সমুদ্র জয় করতে পারে।’


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in