
মেদিনীপুর 31 সে জানুয়ারি:
তিনি মৃত হয়েও আমৃত্যু সভাপতি রয়ে গেলেন বারের।তিনি আর কেউ নন ৮৬ বছর বয়সী অলক মন্ডল। অসুস্থ হওয়ায় গত ১০ ই জানুয়ারি তিনি পরলোক গমন করেন।এদিন তার স্মরণ সভায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি স্মৃতিচারণা করেন সকল আইনজীবী সহ বিচারপতিরা।সেই সঙ্গে বিধায়ক সহ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মানুষ জনেরা।

আমরণ তিনি রয়ে গেলেন বারের সভাপতি,তার অকাল মৃত্যুতে স্মরণ সভার আয়োজন কোর্ট চত্বরে।তিনি অলক মন্ডল,মৃত্যু কালীন বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।ঘটনা ক্রমে জানা যায় ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই অলক বাবু।নতুন বাজারে তার বাড়ি।দীর্ঘদিন তিনি অবিভক্ত মেদিনীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসাবে কাজ করছেন।সালটা ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৮ সাল,তাও প্রায় ১৪ বছর।এরপর গত ১০ বছর দায়িত্ব পান বারের সভাপতির।সেই দায়িত্বে রয়ে গেলেন আমরণ।টানা সভাপতি থাকা কালীন সবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল মধুর।সোজা কথা সোজা-ই বলতে ভালো বাসতেন।তবে নিজের জন্য তিনি কখনো কিছুই ভাবেন নি বরং বারের জন্য অনেক কিছু করেছেন।অনেক গরীবদের জন্য বিচার পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।এও শোনা যায় তিনি কখন নিজের জন্য কিছুই কারো কাছে চান নি।বরং বারের উন্নতির জন্য বার বার আবেদন করেন উপর মহলে।

অলক বাবুর ব্যক্তিগত জীবন ছিল সুন্দর সাদা মাটা।তিনি বিয়ে করেন নি,একাই থাকতেন।অতি সাধারণ ব্যক্তিত্ব নিয়ে অলক বাবু সবার কাছে ছিল মাথার ছাতার মত। গত ১০ ই জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে মারা যান স্পন্দন নার্সিংহোমে।এরপর গত ১৫ ই জানুয়ারি অলক বাবুর স্মরণে কোর্টের কাজ কর্ম বন্ধ রাখা হয়।এইদিন তার স্মরণ সভার আয়োজন করেন কোর্টের আইনজীবী ও ল’ ক্লার্করা।সেই সভায় এইদিন আইনজীবীদের পাশাপাশি এগিয়ে এলেন সম্মানীয় বিচারপতিরা।আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে স্মরণ সভায় শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ছুটে আসেন বিধায়ক,পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ জেলার বিশিষ্ট সামজসেবীরা।প্রত্যেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর তাঁর স্মৃতি চারনা করেন।

এইদিন অলক মন্ডল নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন আইন জীবি আশীষ বেরা,সৈয়দ নাজিম হাবিব,গৌতম মল্লিক, তীর্থঙ্কর ভকত,রাজকুমার দাস, মৃণাল চৌধুরী,বিদ্যুত সিনহা, দাশরথি নন্দ,বিধায়ক সুজয় হাজরা,দিনেন রায়,প্রদ্যুৎ ঘোষ, পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিজয় পাল।এছাড়া বিচারপতিরাও তাকে স্মরণ করেন।পাশাপাশি এই স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শান্তনু চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা।