
চন্দ্রকোনা-২ ব্লক 18 ই ডিসেম্বর:
মেয়ের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন জামাই,সেই মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে আশ্রয় দিয়ে বাড়ি ছাড়া সত্তর ঊর্ধ মা!এমনই ঘটনার শিকার চন্দ্রকোনা-২ ব্লকের বসনছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডালিমাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কমলা পাত্র। তার অভিযোগ মেয়ে,মেয়ের ছেলে এবং বৌমার অত্যাচারেই বাড়ি ছাড়া। স্বামীর ভিটে বাড়িতে একটু মাথা গোঁজার জায়গা করে দিলে ভালো হয়।

ঘটনাক্রমে জানা যায় বছর সত্তরের কমলা পাত্রের স্বামী
মেথর পাত্র মারা গেছেন ২০১১ সালে।এই কমলা দেবীর এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।স্বামী বেঁচে থাকাকালীন ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে সংসারী করে দেন।ছেলে তার পরিবার নিয়ে কর্মসূত্রে কোলকাতায় থাকে।আর দুই মেয়ের মধ্যে মেজো মেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে সুখেই সংসার করছে।কিন্তু ছোটো মেয়ে বেলা বাগের গ্রামেই বিয়ে দেন কমলা ও মেথর পাত্র।বাকি দুই সন্তান তারা সুখে সংসার করলেও ছোটো মেয়ে বেলার সংসার সুখের হয়ে উঠেনি।বেলার মা কমলা পাত্র বলছেন, ‘মেয়ের অত্যাচারে জামাই ঘড় ছেড়ে পালিয়ে যায়,অন্য মেয়েকে বিয়ে করে নেয়।মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন মেয়েকে রাখতে চাইনি তাদের ঘরে।সেসময় আমি মেয়েকে আমার বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছিলাম।মেয়ের সাথে তার ৬ বছরের মেয়ে ও ৪ বছরের ছেলেকেও সাথে নিয়ে এসেছিলাম আমার বাড়িতে।সেই মেয়েই আমাকে বাড়ি ছাড়া করেছে।’

নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে ১৬ ই ডিসেম্বর সোমবার চন্দ্রকোনা -২ ব্লকের বিডিও’র দ্বারস্থ হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী কমলা পাত্র।কয়েকজন প্রতিবেশীর সাহায্য বৃদ্ধা বিডিও অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মেয়ের নামে।লিখিত অভিযোগে কমলা দেবী জানিয়েছেন,’মেয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমার জামাই ঘর ছেড়ে চলে যায়।স্বামীর ঘর ছেড়ে মেয়ে আমার ঘরে থাকতে শুরু করে।স্বামীর ঘর ছেড়ে আমার ঘরে আসার পর থেকে আমার মেয়ে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করে।মেয়ে বেলা বাগ ও তার ছেলে বৌমা আনুমানিক ১০ বছর আগে আমার ঘর থেকে আমাকে মারধর করে বের করে দেয়।সেই থেকে লোকের দুয়ারে কোনোক্রমে দিন কাটছে।পাড়া প্রতিবেশিদের সাহায্য চলছে কোনক্রমে খাওয়া-দাওয়া জুটছে।প্রতিবেশীরা বেশ কয়েকবার তাকে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করলে তাদেরও গালিগালাজ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়।’মেয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিজের ঘরে ফিরে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেই মর্মে বিডিওকে লিখিত জানিয়ছেন বৃদ্ধা কমলা পাত্র।

বৃদ্ধার কথায়,স্বামী বেঁচে থাকাকালীন যতটা না অত্যাচার করতো,স্বামী মারা যাওয়ার পর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।মা কে বাড়ি ছাড়া করে বর্তমানে বেলা বাগ তার এক ছেলে এবং ছেলের বৌ বাচ্চাদের নিয়ে বাপের বাড়ি দখল করে রয়েছে।বৃদ্ধা এও জানান,তার স্বামীর একটা পুরানো মাটির বাড়ি রয়েছে।সরকারি বাড়ি পেয়ে পাশে এসবেস্টসের চালার একটি পাকা বাড়িও রয়েছে।জমি জায়গা সবই স্বামীর অথচ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে আমার কোনো ঠাঁই হচ্ছে না।মেয়ে নাকি বলে বাপের সম্পত্তিতে তার অধিকার।বৃদ্ধা মায়ের নাকি কোনো অধিকার নেই।তাহলে এতদিন রয়েছেন কোথায়,খাওয়া দাওয়াই বা হচ্ছে কি করে?বৃদ্ধা জানান,সরকারি বিধবা ভাতা পান।মাঝে মধ্যে পাড়া প্রতিবেশীরা যে যার মতো করে সাহায্য করে,মেগে পেতে নিজেই ফুটিয়ে খাই।দীর্ঘদিন ধরে ৭০ বছর বয়সী বিধবা আশ্রয় নিয়ে আছেন বাড়ি থেকে ঢিলছোঁড়া দুরত্বে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা একটি মুড়ি মিলের এককোনায়।সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ভাঙাচোরা ছাউনিতে শীতে রাত কাটছে বৃদ্ধার।বৃদ্ধার ছেলে ও আর এক মেয়ে মাঝে মধ্যে এসে মায়ের খোঁজ খবর নিতো,কিছু সাহায্যও করে যেত।ছোটো মেয়ে তাদেরও রেহাই দেয়নি,গালমন্দ করে ভাগিয়েছে।

যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত মেয়ে বেলা বাগ জানিয়েছেন,’শ্বশুর ঘর ছেড়ে বাপের বাড়ি উঠেছি,আমার যাওয়ার অন্য কোনো জায়গা নেই।বাবা মারা যাওয়ার পর মা খিটখিটে হয়ে যায়।কথায় কথায় খোঁটা দেয়।আমি তা সহ্য করতে না পেরে দু’চার কথা বলি অস্বীকার করবো না।তবে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক না,বাপের ঘরে মেয়েরও তো অধিকার রয়েছে।সেখানে মায়ের থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই আমার।’
বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন পাড়া প্রতিবেশীরা।তারাও বলছেন বৃদ্ধার অভিযোগ সত্য।এমনকি বাড়ি ছাড়া বৃদ্ধার হয়ে মেয়েকে বোঝাতে গিয়ে তারাও মেয়ের রোষের মুখে পড়েছেন।প্রতিবেশী প্রসেনজিৎ কুশারী, আকতার মন্ডলরা বলছেন,’আমরা বলতে গেলে ওর মেয়ে আমাদেরই তেড়ে আসে,গালমন্দ করে।এমনকি আমরা এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হুমকিও দেয়।এই বয়সে মায়ের সাথে এই অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না।আমরাও চাই প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিক।যাতে ও তার স্বামীর ঘরে ফিরে শান্তিতে থাকতে পারে।”

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিডিও উৎপল পাইক জানান,’আমি একটা অভিযোগ পেয়েছি।অভিযোগে বৃদ্ধা জানিয়েছেন তার মেয়ের অত্যাচারে জামাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।মেয়ে বাপের বাড়িতে এসে থাকে।এখন মেয়ের অত্যাচারে তিনিও বাড়ি ছাড়া।পুলিশের সাথে কথা বলেছি,তদন্ত হবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’