
চন্দ্রকোনা 12 ই ফেব্রুয়ারি:
একেই পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।তারউপর মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে স্কুলের চারজন শিক্ষক।স্কুলের পঠনপাঠনে ভরসা পার্শ্বশিক্ষকরা।মূলত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে স্কুল।বর্তমানে দুই জন পার্শ্বশিক্ষক এখন স্কুল ছাত্রছাত্রীদের ভরসা।একটি ক্লাসরুমে দুইটি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের বসিয়ে চলছে পড়াশোনা।একটি ক্লাসে পড়াশোনা করছে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা।অপর একটি ক্লাসে পড়ছে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা।এর ফলে স্কুল পড়ুয়াদের ভালো শিক্ষা নিয়ে চিন্তায় শিক্ষকেরা।

ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার ঠাকুর বাড়ি অতসী স্মৃতি হাইস্কুল(মাধ্যমিক) এর। বর্তমানে এই স্কুলের শিক্ষক ঘাটতি অবাক হওয়ার মতো।এইদিন।দেখা গেল স্কুলে যেখানে দুইজন বাংলা শিক্ষক থাকার কথা সেখানে রয়েছে একজন। অংকের কোন শিক্ষক নেই বেশ কয়েক মাস ধরে। বায়োসায়েন্সে দুইজন থাকার কথা কিন্তু রয়েছে একজন। ইতিহাস ও ভূগোলের নেই কোন শিক্ষক।তার উপরে কয়েকজন শিক্ষক মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার জন্য অন্য স্কুলে গিয়েছে।স্কুলে ঢুকতেই দেখতে পাওয়া গেল প্রধান শিক্ষক অফিস রুমে করছেন কাজ।তারপরে দেখতে পাওয়া গেল তিনটি ক্লাসরুমে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা, একটি ক্লাসরুমে রয়েছে পঞ্চম ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, তাদের ক্লাস নিচ্ছে একজন পার্শ্ব শিক্ষক।অপর একটি ক্লাসে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা, তাদেরও ক্লাস নিচ্ছেন একজন পার্শ্ব শিক্ষিকা।ক্লাস নাইনের ক্লাসে কয়েকজন ছাত্রের ক্লাস নিচ্ছে কম্পিউটার শিক্ষিকা।

স্কুল সূত্রে জানা যায় এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৫৬০ জন সেই স্কুলের শিক্ষক থাকার কথা ১৩ জন,বেশ কয়েক বছর আগে কয়েকজন শিক্ষক অবসর নেওয়ার কারণে বর্তমানে স্কুলের দুইজন পার্শ্ব শিক্ষকে নিয়ে ছয় জন শিক্ষক চালাচ্ছে স্কুল।তার মধ্যেও মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য চারজন শিক্ষক ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শক হিসাবে ডিউটিতে ছিলেন।আজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা।যার জন্য স্কুল থেকে পরীক্ষা সেন্টারে ডিউটিতে যেতে হবে শিক্ষকদের।তাহলে কি করে পড়াশোনা হবে?উঠছে প্রশ্ন। স্কুলের এমন ঘটনার কথা স্বীকার করলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা।তাদের দাবি,শিক্ষক সঙ্কটে ছাত্র-ছাত্রীদের চরম পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।অঙ্কের মতো বিষয়ে কোনো শিক্ষক না থাকায় ক্লাস হয়না নিয়মিত।সহকারী শিক্ষকরাই ভরসা এই স্কুলের।স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তায় সকলে।পার্শ্বশিক্ষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

তাদের দিয়ে করানো হচ্ছে সমস্ত কাজ,অথচ তাদের কাজ স্কুলছুটের স্কুলমুখী করা ও স্কুলের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত পাঠদান।এর বাইরে সহকারী শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করতে হওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ তারা।ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে তারা সব মেনে নিলেও তাদের সাথে হওয়া বেতন বঞ্চনার নিয়ে ও সরব হয়েছে তারা।পড়ুয়া অম্বিকা রুইদাস বলেন,”সেভেন ও এইট এর ক্লাস আমাদের এক সঙ্গে হয় যার জন্য পড়াশোনা ঠিক মত হয় না।তবে এই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য স্যারেরা চলে যাওয়ায় আরোও সমস্যা বেড়েছে।আমরা চাই আমাদের শিক্ষক দেওয়া হোক স্কুলে।

অন্যদিকে অভিভাবক অজিত সামন্তর বক্তব্য,”আমরা চাই স্কুলে পড়াশোনা ভালো হোক।কারণ এই স্কুলে শিক্ষক না থাকায় কোন টাকায় পড়াশোনা সেভাবে হচ্ছে না।যার জন্য এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা আশঙ্কায় আছি।তবে স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক বিশ্বনাথ মাইতি বলেন,” একসাথে দুটো ক্লাসের পড়ুয়া বসিয়ে কোনদিনই পড়াশোনা ঠিক ভাবে করা যায় না।এই বিষয়টা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানেন কারণ তিনি রুটিন করেন। অনেকদিন ধরেই সমস্যা চলছে।আমরা দুজন পার্শ্ব শিক্ষক এই ক্লাস গুলো করাচ্ছি।আমরাও চাই স্কুলে নিয়োগ হোক নতুন শিক্ষক শিক্ষিকা না হলে পড়াশোনার হাল ফেরানো মুসকিল।

তবে প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব বক্সির কথায়,”আমাদের স্কুলে মূল সমস্যাই হলো শিক্ষক নেই। মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য দুজন শিক্ষক চলে যাওয়ায় পার্শ্ব শিক্ষক দ্বারা এই সমস্ত ক্লাস চালাচ্ছে। আমরা এই নিয়ে অনলাইন পোর্টালে বহুবার জানিয়েছি এবং উনারা বিষয়টা জানেন কিন্তু তারপরও এই পরিস্থিতি।এতে পড়াশোনা যেমন মন খারাপ হচ্ছে সেই সঙ্গে স্কুলের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করুক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।