
দাসপুর 4 ঠা ফেব্রুয়ারি:
উত্তর প্রদেশের ছায়া এবার খোদ বাংলায়।ফ্রিজবন্দি জ্যেঠিমার মৃতদেহ রেখে বিয়ে করতে গেল পাত্র। ফিরলেন নতুন বউ নিয়ে।বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এলাকারই একটি ক্লাব ঘরে ফ্রিজের মধ্যে রয়েছে দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা রিতা আলুর মৃতদেহ। তিন দিন ধরে ফ্রিজবন্দি আগামীকাল দেহ করা হবে। যদিও পরিবারের সদস্যের বক্তব্য মেয়েরা বাইরে থাকে তারা এলে তবে দেহ করা হবে।

এই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলা চলে, যা নিয়ে এলাকাই শোরগোল।ফ্রিজে বন্দি তিন দিন ধরে পড়ে রইল জেঠিমা অন্যদিকে পাত্র বিয়ে করতে গেল বিয়ের অনুষ্ঠানে। যদিও পরিবারের বক্তব্য মেয়েরা বাইরে থাকার জন্যই দেহ দাহ করা হয়নি, গেলে তবে দাহ করা হবে।ঘটনাচক্রে জানা যায় সোমবার দুপুর নাগাদ শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় রিতা আলুর আর মঙ্গলবার ছিল পরিবারেরই এক সন্তান সরোজ আলুর ছেলে সৌরেনের বিয়ে।সম্পর্কের সৌরেনের জেঠিমা হয় রিতা। এই অবস্থায় বিয়ে ঘর যাতে বন্ধ না হয় তাই ফ্রিজ বন্দি মৃতদেহ রেখে বিয়ে করতে গেল সৌরেন।এই ঘটনা জানাজানি হতেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।শুরু জোর শোরগোল।তবে পরিবারের সদস্যরা একটাই দাবি করছে কষ্টকে বুকের মধ্যে আটকে রেখে বিয়েবাড়ির আয়োজন করতে হয়েছে।কারণ মৃতের ৬ মেয়ে বাইরে থাকে,সেই কারণেই ফ্রিজের মধ্যে রাখতে হয়েছে মৃতদেহ।তাই আনন্দের সাথে নয়, দুঃখের সাথেই হচ্ছে বিয়ে বাড়ি।

অন্যদিকে বিয়ে বাড়ি থেকে কিছু দূরে ক্লাবে মৃতদেহ রাখা নিয়ে দিয়েছে বিবাদ।ক্লাবের এক সদস্যের দাবি অবিলম্বে মৃতদেহ এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক, এইভাবে কখনোই একটা অনুষ্ঠান বাড়ি করা যায় না। ইতিমধ্যে ক্লাবের তরফ থেকে থানায় জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।তবে ঘটনায় ইতিমধ্যে পড়ে গিয়েছে শোরগোল,তবে প্রতিবেশীরা বিভিন্নভাবে কটুক্তি করলেও প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সেই ভাবে কেউ কিছু বলেনি।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,সম্প্রতি কিছুদিন আগে এরকম একটি খবর সংবাদ মাধ্যমে আলোড়ন শুরু করে দেয়। উত্তরপ্রদেশের এক যুবক তার বিয়ের জন্য মাকেই ফ্রিজ বন্দি করে রেখে যায়।
যদিও এই ঘটনায় দাসপুরেরই এক পুলিশ আধিকারিক এর মতে ঘটনাটি সত্যি।তবে যেহেতু বিয়ে ঘর অর্ধেক হয়ে গেছে তাই মারা যাওয়াতেই দুটো কাজ একসঙ্গে করার জন্যই বাড়ির লোকেরা ফ্রিজে দেহটাকে রেখেছে। এই নিয়ে অহেতুক বেশ কিছু লোক কটুক্তি করে যাচ্ছে যা কখনোই ঠিক নয়। তবে ক্লাবের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে দেহটা রাখা হয়েছিল।

এই বিষয়ে বৌদি সরস্বতী আলু বলেন,”আমাদের বিয়ের প্রস্তুতি শেষ পর্বে আইবড়ো ভাত খাওয়ানোর সময় উনি ছিলেন।এরপর আশীর্বাদের ঠিক আগেই বাড়ি যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে এবং উনি মারা যান।এই পরিস্থিতিতে আমরা শোকের মধ্যেও চেষ্টা করেছি কোনোভাবে বিয়েটা বন্ধ না করতে।আমরা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলাম কিন্তু তার মধ্যেও চেষ্টা করেছি বিয়েটা শেষ করার। তবে সমাজ যেভাবে আমাদের বলছে তাতেও আমাদের খারাপ লাগছে।

কৌশিক আলু,রাজু আলু রা বলেন,”আমরা বিয়ে ঘরের জন্য বডিকে ফ্রিজে রেখেছি তা নয় আসল উনার ছয় মেয়ে।মেয়েরা সবাই বাইরে থাকে।সবাই চলে এলেও একজন আসতে পারেনি।সে আগামীকাল আসবে এখানে।আর তাই তারপরে আমরা দেহকে দাহ করব। তবে অনেকেই অনেক কথা বলছে তা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। যদিও বিয়ে ঘর হয়ে গেছে, আজকে তার বৌভাত।

অন্যদিকে ক্লাব সদস্য তরুণ সামন্ত বলেন,”ঘটনাটা বড় মর্মান্তিক।একটা বিয়ে ঘরে একজন মারা গেছে অথচ সেই বিয়ে বাড়ি করে ফেললেন তার পরিবারেরা। পাশাপাশি কোন কাউকে না জানিয়ে তারা সরকারি কোনো সংস্থায় বডি টা না রেখে এই ক্লাবে কিভাবে রাখলেন?তাছাড়া তিন দিন হয়ে গেল, বর বউ নিয়ে চলে এলো অথচ এখনোও বডি নিয়ে গেল না ওরা।আমরা চাই অবিলম্বে এই বডি ওরা নিয়ে যাক নাহলে আমরা ক্লাব থেকে বডি টা বের করে দেব।