
নিজস্ব প্রতিনিধি,মইশা:
“আপনার কোন জিনিস হারিয়ে গেছে,মানত করুন ফিরে পাবেন মায়ের আশীর্বাদে” আর সেরকমই আপ্তবাক্যকে সামনে রেখেই মা মনসা মন্দির মহামেলা শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী মহামেলা। মায়ের পুজো আতশবাজি প্রদর্শন সংগীতানুষ্ঠান এবং ভোগ বিতরণের মধ্য দিয়ে এই পাঁচ দিন পালন করবে মেলা কমিটি।মন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধন হলে মেলার।রাত থেকেই ভক্তদের ভিড় মাঠে।

এই মন্দিরে নিজের পুজো নিজেই করা যায়,আর তাই লক্ষ লক্ষ ভক্ত তার নিজেদের মনস্কামনা নিয়ে আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে।তবে লোকমুখে কথিত আছে মানত করা ভক্তদের ইচ্ছে পূরণ করেন মা মনসা। এরকমই এক ৪০০ বছরের পুরনো কাহিনী হল জকপুরের গোটগেড়িয়ার মনসা মায়ের। মূলত এই পুজো বিগত ৪০০ বছরের আগে।তবে শুধু পুজো না করে বরং জাঁকজমক ভাবে পুজো হচ্ছে গত ৫৫ থেকে ৬০ বছর ধরে।আগামী পাঁচ দিন মহামেলা নিয়ে উদ্বোধন হলো জকপুরের এই মনসা ও শীতল পুজোর মেলা।এদিন মন্ত্রী শিউলি সাহা ও শ্রীকান্ত মাহাতোর হাত ধরেই এই পুজোর উদ্বোধন হয়।এছাড়াও এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি,জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা রানী মাইতি,সমাজসেবী ত্রিশিথ মাইতি,কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ,বিকাশ ভূঁইয়া সহ অন্যান্যরা।


কমিটির তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক শ্যামল বেরা,সভাপতি বারিন ভুঁইয়া এছাড়াও ছিলেন সদস্য ভাস্কর রায়,উজ্জ্বল মঙ্গল,সুনির্মল রাউল,শক্তি পদ মাইতি,অনিল বেরা সহ অন্যান্যরা। মঙ্গলবার পুজো হবে জাঁকজমক ভাবে আর সেই পুজো দেবেন লক্ষ লক্ষ ভক্তরা।ইতিমধ্যে সেই মেলায় ভক্তরা রাত থেকেই পৌঁছে গিয়েছে পায়ে হেঁটে।সকাল হলেই তারা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন নিজ হাতে। মঙ্গলবার পুজো হওয়ার পর প্রসাদ বিতরণ সেইসঙ্গে আতশবাজি প্রদর্শন হবে। বুধবার অনুষ্ঠিত হবে ‘আমি ছদ্দবেশী নায়ক’ নামে যাত্রা পালা।বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রাঘব চ্যাটার্জী ও খরাজ মুখার্জি সম্বলিত বিচিত্রানুষ্ঠান। সেই সঙ্গে আতশবাজি প্রদর্শন।উল্লেখ্য,১৯৯২ সালে মন্দিরের কাজ কাজকর্ম দেখাশোনা করতে গিয়ে বাজপড়ে তিনজন গ্রামবাসী মারা যায়। তারা হলেন ভোলানাথ মাইতি,অভিরাম দোলই ও লক্ষ্মীকান্ত বিজলী। যদিও তারপর থেকেই মেলার ব্যাপ্তি আরো বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে মেলা কমিটির সম্পাদক শ্যামল বেরা বলেন আমাদের এই মনসা পূজোর মেলা আজ দীর্ঘ ৪০০ বছরের অধিক ধরে হয়ে আসছে।আজকে মন্ত্রীদ্বয়ের হাত ধরে উদ্বোধন হলো,চলবে আগামী পাঁচ দিন ধরে। শুধু জেলা বা রাজ্যের নয় ভিন্ন রাজ্যের মানুষ তাদের মনস্কামনা নিয়ে ছুটে আসেন এই মন্দিরে।আর মনস্কামনা পূরণ হলে তারা তাদের সামর্থ্য মত সামগ্রী দিয়ে পুজো দিয়ে যান।আমরা কমিটির তরফ থেকে সকল মানুষকে সাদরে আহ্বান জানাই এ মেলায়।