Midnapore Insident: গরম পড়তে না পড়তেই জন্ডিসে আক্রান্ত মেদিনীপুর!সাবমারসিবল পাম্পের জল থেকে আক্রান্ত 24 জন ওয়ার্ড বাসী,বসলো মেডিকেল টিম

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:

সাবমার্সিবলের জলে জন্ডিস সহ হেপাটাইটিস A তে আক্রান্ত খোদ ওয়ার্ডের মানুষজন।যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ওয়ার্ডের মানুষজন।তড়িঘড়ি মেডিকেল টিম বসিয়ে মেডিকেল বোর্ড সেই সঙ্গে পানীয় জলের ব্যারেল নিয়ে হাজির পৌর প্রধান সহ স্বাস্থ্য দপ্তর আধিকারিকরা।সিল করা হল সাবমার্সিবলটি।আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ জন,নতুন করে ভর্তি হলো দশ জন।

সদ্য গরম পড়তে শুরু করেছে আর ইতিমধ্যেই তরতর করে বাড়ছে জলীয়বাষ্প।তবে এরই মধ্যিখানে জন্ডিসের আক্রান্ত মেদিনীপুর পৌরসভার ২২ নাম্বার ওয়ার্ডের মানুষজন। সংখ্যাটা যদিও ২৪ জন সেই সঙ্গে নতুন করে পেটব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১০ জন ফলে সংখ্যাটা ৩৪ জন। যা নিয়ে তড়িঘড়ি মেডিকেল বোর্ড সঙ্গে মেডিকেল টিম বসলো ওয়ার্ডে।ঘটনা ক্রমে জানা যায় মেদিনীপুর পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত সুকান্ত পল্লী এলাকা। যেখানে কয়েক শো মানুষের বসবাস। কিন্তু গত সপ্তাহখানেক ধরেই বাচ্চা থেকে বড়,যুবতী থেকে কিশোর কিশোরী পেটে যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতাল ও বেসরকারি নার্সিংহোমে।একজন একজন করে প্রায় ২৪ জন ইতিমধ্যে ভর্তি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে।তাদের পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায় তারা প্রত্যেকে জন্ডিসে আক্রান্ত।এরই পাশাপাশি নতুন করে পেটব্যথা বমি নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও দশজন।

ফলে এলাকায় একটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে।এই ঘটনায় সবাই অভিযোগ করছে নতুন করে বসানো সাবমারসিবল জলের দিকে।কারণ এই সাবমারসিবল জল বসানোর পর থেকে সেই জল খেয়ে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ।এরই পাশাপাশি এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ,নোংরা নালা,মশা মাছি উপদ্রব রয়েছে কাউন্সিলর এর অনুপস্থিত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার মানুষজন।এই ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্য দপ্তরের।তড়িঘড়ি স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে টিম বসালো এই ওয়ার্ডে।এই ঘটনায় ছুটে এলেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গী,সদর মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জি সঙ্গে পৌরপ্রধান সৌমেন খান। এলাকায় ব্লিচিং দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পানীয় জলের জন্য জলের ড্রাম সরবরাহ করা হয় পৌরসভা থেকে।এরই সঙ্গে ওষুধ,স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।সিল করা হল এই সাবমারসিবলটি।

যা নিয়ে রীতিমত চিন্তার ভাঁজ শহর মেদিনীপুরে।যদিও এ নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ওয়ার্ড এর মানুষজন।তবে অভিযোগ মানতে অস্বীকার কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরা সহ পৌর প্রশাসনের।তারা খোদ এই ঘটনার জন্য সচেতনতার অভাব বলে অভিযোগ করেছেন ওয়ার্ডের মানুষজনের দিকে।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ ওয়ার্ডের লালটুসি পরীক্ষিত,পারমিতা দেরা বলেন আমাদের কাউন্সিলার আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসেন না। ঠিক চার পাঁচটে বাড়ির আগে পর্যন্ত উনি আসেন তদারকি করেন আর চলে যান।সব দিন ওয়ার্ডের নোংরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয় না। যার জন্য এত বড় ঘটনা ঘটে গেল।আজকে উনি আসবেন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের টিম আসবে বলেই তড়িঘড়ি ব্লিচিং পাউডার এবং জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।আমরা কিছুটা আতঙ্কে রয়েছি।মৃণাল মন্ডল,তাপসী রানারা বলেন,”ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকি যেভাবে একের পর এক মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছে তাতে আতঙ্কে রয়েছি।কাউন্সিলর সচেতন হলে এটা এড়ানো যেত।

অন্যদিকে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্য শংকর সড়ঙ্গী বলেন,”গত কয়েকদিন ধরে এই ওয়ার্ডের মানুষজন পেটের ব্যথা বমি পায়খানা নিয়ে ভর্তি হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল নার্সিংহোমে।সেই সংখ্যাটা প্রায় ২৪ জন এর সঙ্গে নতুন করে দশ জনের পেটব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছে,তাদের পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। আমরা টিম পাঠিয়েছি,মেডিকেল বোর্ড বসিয়েছি সেই সঙ্গে সাবমার্সিবেল টি সিল করে দিয়েছি।সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা কর্মীরা রয়েছে এই ওয়ার্ডে।আমরা দ্রুত সুস্থ করে তুলবো ওয়ার্ড বাসীদের।

তবে পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছেন কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরা সহ পৌরপ্রধান সৌমেন খান। পৌর প্রধান বলেন,”এলাকায় মানুষের কিছুটা সচেতনতার অভাব রয়েছে।আমাদের কাউন্সিলর অনেক কাজ করেছে কিন্তু কোন একটি সাবমারসিবল জল থেকে এই ঘটনা ঘটে গেছে।আমরা সেটিকে সিল করেছি এবং দ্রুত এই মানুষের সুস্থ করার চেষ্টা করছি।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in