Green Spider:শ্রীলঙ্কার বিরল মাকড়সার দেখা পশ্চিম মেদিনীপুরে!লালের পর সবুজ মাকড়সা দেখা মিলল কেশপুরে

Share

কেশপুর 7 ই জানুয়ারি:

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জীববৈচিত্র্য আজও অন্যান্য।এবার লালের পর সবুজ মাকড়সা দেখা মিলল কেশপুরে।এটি অবশ্য সবুজ রঙের।তথ্য অনুযায়ী এরা গাছের পাতায় মিশে থাকে। সবুজ রঙের হওয়ায় কেউ টের পায় না। সেই সূযোগে মধু খেতে আসা মৌমাছি, প্রজাপতি কে অতর্কিতে শিকার করে। এছাড়াও মশাও শিকার করে। এমনকি কখনও কখনও নিজের আকৃতির বড় শিকারকেও কাবু করে কামড়ে বিষ ঢেলে দেয়।মূলত শ্রীলঙ্কার অলিওস মিলেটির (Olios milleti) মাকড়সার।

পশ্চিম মেদিনীপুর শুধু ঐতিহ্য ও বিপ্লবীদের শহর নয় সেই সঙ্গে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় জীবজন্তুর সন্ধান মেলে এই জেলায়।পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জীববৈচিত্র্য অতি সমৃদ্ধ বলেই গবেষকদের অনুমান। যেখানে রকমারি ওষধি গাছের পাশাপাশি রয়েছে রকমারি পতঙ্গ ও প্রাণি। যে কারণে, বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন উদ্ভিদ যেমন আবিষ্কার হয় তেমনই নতুন প্রানীরও সন্ধান মেলে।এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে লাল মাকড়সার সন্ধান মিলেছিল,এবার দেখা মিলল সবুজ মাকড়সার।এবার সেই শ্রীলঙ্কার অলিওস মিলেটির (Olios milleti) সন্ধান মিলল কেশপুরের কলাগ্রামে।কেশপুরের কলাগ্রামে খুঁজে পেলেন অলিওস মিলেটি। এটি অবশ্য সবুজ রঙের। তথ্য অনুযায়ী এরা গাছের পাতায় মিশে থাকে। সবুজ রঙের হওয়ায় কেউ টের পায় না। সেই সূযোগে মধু খেতে আসা মৌমাছি, প্রজাপতি কে অতর্কিতে শিকার করে।

এছাড়াও মশাও শিকার করে। এমনকি কখনও কখনও নিজের আকৃতির বড় শিকারকেও কাবু করে কামড়ে বিষ ঢেলে দেয়। পোকা না পেলে ফুলের রেনু, মধু দিয়েও পেট ভরায়।এই বিষয়ে কেশপুর সুকুমার সেন গুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার জানান, ‘অলিওস মিলেটি হল অলিওস গণের একটি প্রজাতি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় এই ধরণের মাকড়সার দেখা মেলে। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরে আগে কখনও এই ধরণের মাকড়সার দেখা মেলেনি।’অলিওস গণের সবুজ মাকড়সার সন্ধান পশ্চিম মেদিনীপুরের জীববৈচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই আশাবাদী সুমন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,ভাদুতলার জঙ্গল লাগোয়া হরিনামারি থেকে সম্প্রতি লিভারওয়ার্ট প্রজাতির এক নতুন উদ্ভিদের আবিষ্কার করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। যার নামকরণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামে ‘ফসমব্রোনিয়া বেঙ্গলিনেসিস’ বলে। আবার ২০২০ সালে মেদিনীপুর সদর ব্লকেরই নয়াগ্রামে কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার ও স্নাতক দ্বিতীয় বছরের ছাত্র চন্দন দণ্ডপাট‌ খুঁজে পেয়েছিলেন ‘মেগালোমর্ফ’ মাকড়সা। ‘ইডিয়পস’ গণের এই মাকড়সাও প্রথম আবিষ্কার হয় এখা‌ন থেকে। তাই তার মেদিনীপুরের নামে নাম রাখা হয় ‘ইডিয়পস মেদিনী’। সেটি ছিল লাল রঙের। সুমন জানান, মাটির ভেতর গর্ত খুঁড়ে বাসা তৈরি করে ‘ইডিয়পস’ গণের মাকড়সা। যাতে কেউ টের না পায় সে জন্য গর্তের মুখ বন্ধ রাখে ছোট্ট একটি ঢাকনার মতো অংশ দিয়ে।

তাই এদের ‘ট্র্যাপডোর স্পাইডার’ও বলে।সুমনদের এই আবিষ্কার ‘ওয়ার্ল্ড স্পাইডার ক্যাটালগ’ এ নথিভুক্তও রয়েছে।আবার সুমনেরই ছাত্র অভিজিৎ সেনাপতি সোমবার সকালে পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও যে এই মাকড়সার সন্ধান মিলেছে সেটি জেলা জীব বৈচিত্রের ক্যাটালগে নথিভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in