
মেদিনীপুর 23 সে আগস্ট:
এবার খোদ শহরেই বঞ্চিত আদিবাসী দুস্থ পরিবার।সরকারি নানান প্রকল্প থাকলেও মেদিনীপুর শহরেই আদিবাসী পরিবারের সদস্যদের বঞ্চনার অভিযোগ!যদিও ব্যর্থতার কথা স্বীকার শাসক দলের পৌর প্রধান ও তৃণমূল কাউন্সিলর! যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে উভয় উভয়ের মধ্যে। যদিও এ ঘটনায় শাসক দলকে নিশানা বিজেপির।

রাজ্যের মানুষ যাতে সরকারি সুবিধা অতি সহজেই পেতে পারে তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প শুরু করেছেন, কখনো দুয়ারে সরকার কখনো বা পাড়ার সমাধান অথচ তারপরও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে দুঃস্থ অসহায় মানুষগুলো।এরকমই এক ঘটনা মেদিনীপুর শহরে।মেদিনীপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামারআড়া এলাকায় বাস ২৫ টি আদিবাসী পরিবারের। এই পরিবারগুলোই সরকারি আবাস যোজনা থেকে শুরু করে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।মেলেনি সরকারি আবাস যোজনার বাড়ি।অধিকাংশের মিলছে না লক্ষীর ভান্ডার, জয় জোহার ভাতা কিংবা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা।বাড়ি বলতে আছে শুধু একটা করে ত্রিপলের ছাউনি। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।বঞ্চিত মানুষদের অভিযোগ ভোটের সময় নেতারা আসে, সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট পেরোলে আর দেখা মেলে না নেতাদের।

বছরের পর বছর ধরে বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে তাদের।আদিবাসী বঞ্চনার ঘটনায় নিজেদের মধ্যেই দ্বৈরথে জড়িয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পৌর বোর্ডের পৌর প্রধান ও ওয়ার্ড তৃণমূল কাউন্সিলর। দুজনেই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেও দ্বন্দ্বে জড়ালো শহরের দুই তৃণমূল নেতা।নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে মেদিনীপুর পৌরসভার পৌর প্রধান সৌমেন খান।সঠিকভাবে অনুসন্ধান করা হয়নি,কোথাও গাফিলতি রয়ে গিয়েছে দাবি পৌর প্রধানের।যাদের পাকা বাড়ি আছে তারা বাড়ি পেয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি।ইতিমধ্যেই ওই ১৫ টি আদিবাসী পরিবারের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি সেই সঙ্গে অতি দ্রুত বাড়িগুলি নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি।

এ বিষয়ে কার্তিক মুর্মু,ঝুনু মান্ডিরা বলেন,”কোনক্রমে এই ত্রিপল চাপা দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। বহুবার সরকার পক্ষ এবং এলাকার কাউন্সিলরকে আবেদন জানিয়েছে কিন্তু তবু ঘর হয়নি আমাদের।এই বর্ষাকাল এলেই আমরা তীব্র সমস্যায় সম্মুখীন হয়।তবে ওনারা অনেকবার ধরে বলছেন করে দেবো করে দেবো যদিও এখনো করে দেয়নি আমাদের ঘর।বৃষ্টি জল হলেই লোকের বাড়িতে আমাদের আশ্রয় দেয় না তাই আমরা এখানেই পড়ে থাকি। কোন কিছুই সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইনি আমরা।

এই বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহী সম্পূর্ণ অভিযোগ কে স্বীকার করে নিয়ে দায় চাপিয়েছে পৌরসভার ঘাড়ে।পৌর প্রধান কাউন্সিলরকে এড়িয়ে কিভাবে সরাসরি বাড়ি তৈরি করে দিতে পারেন সেই প্রশ্নও তুলেছেন ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর।

অন্যদিকে এই ঘটনায় শাসক দলকে নিশানা বিজেপির।এই ঘটনায় খুব স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির নিশানায় শাসক দল তৃণমূল।বিজেপি মুখপত্র অরূপ দাস বলেন,”
তৃণমূল নেতারা ভোটের কারণে আদিবাসীদের ব্যবহার করে কিন্তু সমস্ত পরিষেবা থেকে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায় রাজনৈতিক তরজা যাই থাকুক না কেন শহরের এই আদিবাসী পরিবারগুলো কি আদেও সুবিধা পাবে? সরকারের এত জনমুখী প্রকল্পের মাঝেও আর কতদিন বঞ্চনার শিকার হতে হবে আদিবাসী পরিবার গুলোকে সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।