
মেদিনীপুর 2 রা জানুয়ারি:
ফর্ম জমা দেওয়ার পরেই শুরু হয়েছে শুনানির তৎপরতা। অন্যদিকে এই শুনানির মধ্যেই মেদিনীপুর পৌরসভার এক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। ইতিমধ্যে মেদিনীপুর পৌরসভা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এস আই আর এর জন্য রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন পড়লেই তা মিলবে মেদিনীপুর পৌরসভা থেকে।এমনকি দশটা পাঁচটা অফিস টাইম এর বাইরে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ওর পৌর প্রধানের ব্যক্তিগত অফিস থেকেও মিলবে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট – যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা ও বিতর্ক।

এস আই আর পর্বে মেদিনীপুরে চলছে শুনানি! আর এই শুনানি পর্বের মাঝেই মেদিনীপুর পৌরসভার একটি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক!এই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা,এস আই আর এর জন্য রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন পড়লেই তা মিলবে মেদিনীপুর পৌরসভা থেকে।এমনকি দশটা পাঁচটা অফিস টাইম এর বাইরে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ওর পৌর প্রধানের ব্যক্তিগত অফিস থেকেও মিলবে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট!আর পৌরসভার এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরেই চর্চা তুঙ্গে।অন্যদিকে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর থেকেই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পেতে ভিড় জমিয়েছেন পৌরসভায় একাধিক মানুষ। ইলেকশন কমিশনের গাইডলাইন কি বলছে – এস আই আর এর শুনানির ক্ষেত্রে যে ১১ দফা নথি চাওয়া হয়েছে এরই মধ্যে ৬ নম্বরে রয়েছে,’রাজ্যের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র।’অর্থাৎ শুনানিতে জমা দিতে হবে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট।

আর এই সার্টিফিকেট দেওয়ার একমাত্র অধিকারী সংশ্লিষ্ট মহকুমার মহকুমা শাসক। সাধারণ মানুষ কিভাবে পেতে পারেন পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট?যদিও বর্তমানে মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পেতে গেলে জমা দিতে হয় একগুচ্ছ নথি।এরই মধ্যে একটি নথি পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট।তারপর সেই নথিগুলো পাঠানো হয় ডিআইবি ভেরিফিকেশন এর জন্য। ভেরিফিকেশন রিপোর্টে যদি পাওয়া যায় ১৫ বছর ধরে উনি ওই এলাকার বাসিন্দা তবেই মিলবে স্থায়ী বাসস্থানের সার্টিফিকেট কিম্বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট।তাহলে প্রশ্ন পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট কি নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে?

যদিও এ বিষয়ে মেদিনীপুরের ERO তথা মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জী জানিয়েছেন,”পৌরসভার দেওয়া রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য নয় এস আই আর শুনানির ক্ষেত্রে।”বিজেপির অভিযোগ – সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যেই পৌরসভার তরফে এভাবে মুড়ি-মুড়কির মতো দেওয়া হচ্ছে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো ভোটারদের সুবিধা হবে।পৌরসভার দেওয়া এই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নিয়ে এস আই আর এর শুনানিতে গিয়ে মানুষকে আরো বেশি বিপদে পড়তে হবে বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও নির্বাচন কমিশনের কাছে ইমেইল মারফত গোটা বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।তৃণমূল পরিচালিত মেদিনীপুর পৌরসভার পৌর প্রধানের সাফাই,মানুষের সুবিধা করে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পৌরসভার তরফে।

এই নথি ইলেকশন কমিশনের এস আই আর এর কাজে লাগবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।মেদিনীপুর পৌরসভার এমন বিজ্ঞপ্তি চোখে পড়ার পরে খুব স্বাভাবিকভাবেই ভিড় বাড়ছে মেদিনীপুর পৌর সভায়।এসআইয়ের শুনানিতে যারা ডাক পাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য সকাল থেকে হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন মেদিনীপুর পৌরসভার দোড়গড়ায়।এবার পৌরসভার দেওয়াই নথি যদি নির্বাচন কমিশনের এসআই আর এর শুনানিতে গ্রাহ্যই না হয় তাহলে সাধারণ ভোটেরদের ভোগান্তি যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।