
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
দীর্ঘ আইনি জটিলতা অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে ১১৭ দিন পর বের হল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশনের এর পরীক্ষার ফলাফল।এই জয়েন্টে মেদিনীপুরের সাগ্নিক ষষ্ঠ হয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করল।যদিও ফলাফল বেরোনোর আগেই সাগ্নিক খড়্গপুর আইআইটি তে BTech এ ভর্তি হয়ে যায় সে।পড়াশোনা ছাড়াও গল্পের বই,সিনেমা দেখা ও ক্রিকেট ভালোবাসে এই ধর্মার সাগ্নিক।

জয়েন্টে ষষ্ঠ মেদিনীপুরের সাগ্নিক!পরিক্ষা হয়েছিল গত ২৭ সে এপ্রিল কিন্তু ফল বেরালো ১১৭ দিন পর।দীর্ঘ আইনি জটিলতার পর রাজ্য জয়েন্টের ফল প্রকাশিত।যদিও আদালতের হস্তক্ষেপে প্রকাশিত হল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশনের ফল।আর তাতে মুখ উজ্জ্বল মেদিনীপুরের। মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছেলে সাগ্নিক পাত্র জয়েন্টে ষষ্ঠ হয়ে মুখ উজ্জ্বল করলো জেলার। এই সাগ্নিক মেদিনীপুর শহরের আট নম্বর ওয়ার্ড প্রদ্যুৎ নগরে বাড়ি।বাবা প্রভাংশু পাত্র ক্ল্যারিকাল পোস্টে চাকরি করে ঝাড়গ্রামের চিচিড়াতে।মা মিতা পাত্র সামান্য গৃহবধূ।যদিও সাড়ে তিন মাস পর রেজাল্ট বেরোনোর আগেই সাগ্নিক খড়্গপুর আইআইটিতে বিটেক নিয়ে ভর্তি হয়ে যায়,ইতিমধ্যে একমাস ক্লাসও করছে সে।তবে এই ফলাফলে খুশি সে। পড়াশোনার সাথে সাথে সাগ্নিক সিনেমা দেখা,খেলা ধুলো এবং বই পড়তে ভালোবাসে।

তবে জয়েন্ট এর উপর তাকিয়ে না থেকে আইআইটি থেকে ঝুঁকেছে সে কারণ তার ছোট থেকে ইচ্ছে ছিল খড়্গপুর আইআই টি তে পড়াশোনা করা।যদিও সাগ্নিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দশম স্থান অধিকার করে নজর কেড়েছিল জেলায়। তবে এই সাফল্যেও সে খুশির রীতিমতো।এইদিন ফলাফল জানার পরই মাকে ফোন করে জানাই সাগ্নিক।মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ কথাবার্তা হয় তার। উল্লেখ্য,চলতি বছরের ৫ জুন জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিল বোর্ড। যদিও তার পরেই আদালতে ওবিসি সংরক্ষণ মামলা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। সোমবার ওই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।তার ফলে অবশেষে আদালতের নির্দেশে এই দিন ফলাফল ঘোষণা করল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন বোর্ড।

এই নিয়ে সাগ্নিকের মা মিতা পাত্র বলেন,”খুব ভালো লেগেছে ছেলের এই ফলাফলে।যদিও অনেকদিন পর হঠাৎ করেই এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।আমরা জেনেছি ছেলের কাছ থেকেই।আমরা চাই ছেলে তার ভবিষ্যত গড়ে তুলুক।তবে এত দেরি করে ফলাফল বেরনোয় রীতিমত অস্বস্তিতে পড়েছে সারা বাংলার ছেলে মেয়ে বলেই মন্তব্য মায়ের।

তবে এ সাফল্যে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ।সাগ্নিকের স্কুল মেদিনীপুর কলেজের বয়সের প্রধান শিক্ষিকা হিমানী পড়িয়া বলেন সাগ্নিক চিরকালই ভালো ছেলে। পড়াশুনার পাশাপাশি ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও যোগদান করে।গত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ও ভালো ফলাফল করেছিল।এবারেও জয়েন্টে ষষ্ঠ হয়েছে তাতে আমাদের স্কুলের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে।

অন্যদিকে সাগ্নিক এক ভিডিও বার্তায় বলেন,”আমি জানতাম যেভাবে পড়াশোনা করেছি,একটা কোন রাঙ্ক করবো। এদিন রেজাল্ট বেরোতে তা জানতে পারি। তবে তার আগেই আমি IIT ভর্তি হয়েছি।পড়াশোনা করছি, খুব ভালো লেগেছে এই রেজাল্টে।