
মেদিনীপুর 17 ই মার্চ :
ভোট ঘোষণা দুদিনের মাথায় ফের পুলিশ সুপার বদলি। এবার পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ সুপার সহ বদলি হলো ১৩ পুলিশ আধিকারিক। বিজেপির দাবি রক্তপাতহীন ভোট করাতে এই কমিশনের উদ্যোগ, অন্যদিকে কটাক্ষ তৃণমূলের।

ভোট ঘোষণা হয়ে গেছে, ইতিমধ্যে কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হয়েছে রাজ্যে। সম্প্রতি আইসি,এসআই দের এক ধাক্কায় পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার কোপের মুখে পড়ল খোদ এসপিরা। পুলিস-প্রশাসনে বড়সড় রদবদলে ১৩ জন পুলিস সুপার বদল। সেই সঙ্গে ৪ কমিশনারকেও সরানো হল। সেই সঙ্গে আগামীকাল থেকে নিজের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ২৯৪ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক, ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ১০০ জন ব্যয় পর্যবেক্ষক। গতকাল মঙ্গল বার জেলার ১৫ টি বিধানসভার ভোট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন জেলার নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ। কিভাবে ভোট হবে , কাদের নিয়ে ভোট হবে! কত বুথ থাকবে ? তা নিয়ে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেছিলেন তিনি সাংবাদিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে। জেলায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পতাকা ব্যানার হোডিং সারানোর কাজ।

তারই মধ্যে পুলিশ সুপারদের রদবদল। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও পুলিস জেলাগুলিতে (PD) নতুন পুলিস সুপার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন –
বারাসাত পিডি: পুষ্পা (IPS 2012)
কোচবিহার: যশপ্রীত সিং (IPS 2016)
বীরভূম: সূর্য প্রতাপ যাদব (IPS 2011)
ইসলামপুর পিডি: রাকেশ সিং (SPS 2014)
হুগলি গ্রামীণ: কুমার সানি রাজ (IPS 2017)
ডায়মন্ড হারবার পিডি: ইশানি পাল (IPS 2013)
মুর্শিদাবাদ পিডি: শচীন (IPS 2013)
বসিরহাট পিডি: অলকানন্দা ভাওয়াল (IPS 2017)
মালদা: অনুপম সিং (IPS 2015)
পূর্ব মেদিনীপুর: অংশুমান সাহা (IPS 2012)
জঙ্গিপুর: সুরিন্দর সিং (IPS 2016)
পশ্চিম মেদিনীপুর: পাপিয়া সুলতানা (SPS 2015)
কলকাতা (ডিসি সেন্ট্রাল): ইয়েলওয়াদ শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও (IPS 2015)

আর তাতেই নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে। রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। বিজেপি নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে একই সুরে মেলালেও শাসক দল কটাক্ষ করেছে। এ বিষয়ে বিজেপি নেতা অরূপ দাস বলেন,”এটা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।কারণ নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেছে, আর নির্বাচন কমিশন চাইছে এবারে রক্তপাত হিন্ট ভোট করাতে। তাই তারা যেমন মনে করেছে তেমনই পুলিশ সুপারদের পরিবর্তন করেছে। এক্ষেত্রে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমরাও চাইছি রক্তপাতহীন ভোট হোক,শান্তি নিরাপদ ভাবে।”

যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন,” আমরা আগেই অভিযোগ করেছি যে এটা নির্বাচন কমিশন নয়, এটা নির্যাতন কমিশন। আগে মানুষদেরকে সমস্যায় ফেলেছে, হয়রানি করেছে এবং মরতে বাধ্য করেছে। এবার এডমিনিস্ট্রেটিভ বদলি করে তাদেরও সমস্যা ও হয়রানি করছে। তাতে পরিবর্তন কিছু হবে না। আমরা আবার দ্বিগুন আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরব, সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হবেন চতুর্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী।”