
মেদিনীপুর 11 ই মার্চ :
হোটেল রেস্টুরেন্ট এর পাশাপাশি গ্যাসের সংকটে এবার মেদিনীপুরের মিষ্টান্ন ব্যাবসায়ীরা। ১০ টাকার টাকার মিষ্টি হতে চলেছে ৩০-৪০ টাকা এবং আস্তে আস্তে উধাও হতে যেতে পারে সেই মিষ্টি এই আশঙ্কায় কাঁপছে ব্যবসায়ীরা।তাদের দাবি অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক কেন্দ্রীয় সরকার।

ইরান এবং আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধে গ্যাসের সংকট গোটা বিশ্বজুড়ে। তেল, পেট্রো পণ্য তো বটেই গ্যাসের চাহিদা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন দোকানিরা। হোটেলে রেস্টুরেন্ট এর পাশাপাশি এবার গ্যাসের সংকটে ব্যবসায় আশঙ্কার কথা শোনালেন মেদিনীপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। যে মিষ্টি এক সময় ৫ – ১০ টাকা ৮ টাকা করে বিক্রি হতো গ্যাসের সংকটে সেই মিষ্টি এবার ৩০-৪০ টাকা হতে চলেছে। তবে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ পাচ্ছেন না গ্যাসের ডেলিভারি, দশটা চাইলে পাচ্ছেন মাত্র দুটো আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মেদিনীপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের মতে,এরকম টানা চলতে থাকলে মেদিনীপুর বাসি কপালে আর জুটবে না মিষ্টি,জীবন জীবিকা সংকটে পড়বেন এই মিষ্টি ব্যবসায়ীর সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার মানুষজন। কারণ তাদের মতে দিনের পর দিন ছানা,চিনি তেলের দাম যেমন বেড়েছে সেই অনুপাতে বাড়ানো হয়েছে মিষ্টির দাম।

যে মিষ্টি এক সময় পাঁচ টাকা করে বিক্রি হয়েছে সে মিষ্টি এখন ১২- ১৫ টাকা। কিন্তু বর্তমানে যে গ্যাস ১৪০০ – ১৫০০ টাকা দাম ছিল সেই গ্যাস এখন ২২০০-২৫০০ টাকা দিয়েও মিলছে না। এই মিষ্টি ব্যবসায়ীর জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর পরিমাণে গ্যাসের সিলিন্ডারের। কিন্তু টানা এই সিলিন্ডারের অভাব ব্যবসায় মার খেতে চলেছে। ফলে এরকম যদি টানা চলতে থাকে তাহলে হয়তো অকালে হারিয়ে যাবে মিষ্টি।

এ বিষয়ে মিষ্টি ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন সাহা বলেন,”মিষ্টি ব্যবসায়ী পুরোপুরি টিকে রয়েছে গ্যাসের যোগানের ওপর। আগে ছানা দুধের দাম কন্টিনিউ বাড়তে থাকায় মিষ্টির দাম বাড়ানো হয়েছে কিন্তু এবার নতুন করে আশঙ্কা গ্যাসের সংকট। চাহিদা মত যেমন গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না ঠিক তেমনি দাম বেড়েই চলছে। এরকম যদি টানা চলতে তাহলে থাকে তাহলে অকালেই বন্ধ করে দিতে হবে আমাদের ব্যবসা আর হারিয়ে যাবে মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। তিনি আশঙ্কা করে এও বলেন শুধু মিষ্টি দোকান নয় এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষ অকালে হারাবে তাদের জীবন জীবিকা।

অন্যদিকে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী নন্দগোপাল বিট বলেন, “প্রতিদিন গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। চারটা চাইলে একটা দিচ্ছে। বারবার আবেদন করে বুকিং করে পাওয়া যাচ্ছে না, পর্যাপ্ত গ্যাসের সিলিন্ডার। যার ফলে আস্তে আস্তে আমরা মিষ্টির তৈরি করার ভাগ কমিয়ে দিচ্ছে। এরকম যদি ক্রমাগত চলতে থাকে তাহলে আমাদের দোকান ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমাদের আবেদন অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করে পর্যাপ্ত গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিন আমাদের না হলে না খেতে পেয়ে মরতে হবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার মানুষজনকে।