
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
চাকরি হারিয়ে দিক-বিদিক জ্ঞানশূন্য শিক্ষকেরা।রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি হুমকি,যে হাতে অংক করে মেডেল পেয়েছি সে হাতে বোমাও বাঁধতে পারি।চাকরি হারিয়ে শিক্ষকেরা শুরু করলেন রাস্তা অবরোধ দিলেন ভয়ংকর বড় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রীতিমতো উত্তেজনা গোটা রাজ্যজুড়ে।প্রায় ২৬ হাজার চাকরি যাওয়াতে রাস্তায় বসেছে শিক্ষকেরা।কোথাও কান্নার রোল তো কোথাও রাজ্য সরকারকে গালাগালি আবার কোথাও কোথাও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে আরেকবার ভাবনা চিন্তা করার আর্জি শিক্ষকদের।তবে এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরে আন্দোলনে নামলো এই চাকরি হারানো শিক্ষকেরা।মেধার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিয়োগ হওয়ার পর চাকরি যাওয়াতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।তাদের বক্তব্য এত বছর ধরে চাকরি করে মান সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলাম কিন্তু কালকে প্যানেল বাদ হয়ে যাওয়ায় আর স্কুলে থাকতে পারিনি।কি করে মুখ দেখাবো আমরা এই ক্ষুদে ছাত্রছাত্রীদের কাছে।

যেখানে আমাদের চাকরিটাই অবৈধ বলে ঘোষণা হয়েছে।এরই পাশাপাশি দীর্ঘ এত বছরে আমাদের পরিবার বেড়েছে।বাবা মার পাশাপাশি স্ত্রী কন্যা পুত্রদের নিয়ে সংসার করছি।আমরা সেখানে দুমুঠো দুবেলা খাবার কিভাবে তুলে দেব সেই চিন্তায় আমরা আতঙ্কিত।এই পরিস্থিতিতে আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন গতি নেই।

এ বিষয়ে শিক্ষক অভিজিৎ গিরি বলেন,”আমি অংকে গোল্ড মেডেলিস্ট।এতদিন সম্মানের সঙ্গে চক ডাস্টার নিয়ে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছি।কিন্তু আজ দেখলাম পরিকল্পনা মাফিক আমার চাকরি খেয়ে নিল এই সরকার।তাই আমরা ওয়ার্নিং দিতে চাই যে হাতে আমি ভালো অংক করতে পেরেছি সে হাতে আমি বোমাও বানাতে পারি এবং তার জন্য যা পরিস্থিতি হবে তার দায়িত্ব নেবে এই রাজ্য সরকার।

অন্যদিকে শিক্ষক কৃষ্ণ গোপাল চক্রবর্তী বলেন,”আমরা কোন নেতা মন্ত্রী-সন্ত্রী টাকা দিয়ে চাকরি পায়নি।আমরা নিজেদের যোগ্যতা অনুসারে চাকরি পেয়েছি।তারপরও আমাদের চাকরি বাতিল করেছে।এর ফলে আমরা এখন পথে বসে গিয়েছি।আমরা এখন কেবলমাত্র অবরোধ করে গেলাম।এরপর আমরা পরিবার সহ রাস্তায় বসবো।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,গত বছর ২২ এপ্রিল ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল মহামান্য কলকাতা হাই কোর্ট।যদিও সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল এই রাজ্য সরকার। তৎকালীন সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘’আমরা কারও চাকরি খেতে দেব না।’কিন্তু এখানে থেমে থাকেনি।ঠিক এক বছর পর সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের সেই নির্দেশই বহাল রাখল।বাতিল হয়ে গেল ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া গোটা প্যানেল।যার ফলে বর্তমান রাজ্য সরকারকে দুষছে চাকরি হারানো এই শিক্ষকেরা।