
মেদিনীপুর 17 ই মার্চ :
উপ নির্বাচনে টিকিট পেয়ে দলের মান রেখেছেন তিনি। এবার জেলা সভাপতি কে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিলেন মমতা – অভিষেক। এইদিন শেষ লগ্নে সুজয় হাজরার নাম ঘোষণা হতে ফাটল বাজি উড়ল আবীর। যদিও বিজেপি প্রার্থী হীন মেদিনীপুরে প্রচার শুরু করল তৃণমূল।

নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ২৯৪ টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলো রাজ্য তৃণমূল। এদিন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়ই একসাথে বসে ২৯৪ টি আসনের তিনটি সিট বাকি রেখে ২৯১ টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। তবে এই প্রার্থী তালিকায় মেদিনীপুরের জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো ভরসা রেখেছে সেই মেদিনীপুরে জেলা সভাপতি সুজয়ের উপর। মূলত সুজয় হাজরা তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে ম্যানেজারের দায়িত্ব হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কখনো প্রাক্তন বিধায়ক মৃগেন মাইতির তত্ত্বাবধানে কখনো বা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিধায়ক দিনেন রায়ের তত্ত্বাবধানে।দলীয় হিসেব রাখা, ঝান্ডা লাগানো, দলীয় প্রচার করা, দেওয়াল লেখা থেকে মিটিং মিছিলে মূল দায়িত্বই ছিল তার। এ হেন পরিস্থিতিতে তার প্রতি সদয় হয়ে ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে বিধায়ক হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

উপনির্বাচনে তৃণমূলের মুখ উজ্জ্বল করে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটে লিড দিয়ে মেদিনীপুরের সিট দখলে রাখে তৃণমূল। আর তাতে খুশি হয় তৃণমূল নেত্রী। এরপর কেটে গেছে মাঝের দু’বছর এখন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। যদি ওই দু বছরে তিনি বিধানসভার বিভিন্ন কাজকর্ম করলেও বিধান সভায় একাধিক তৃণমূলের মুখ ছিল প্রার্থী হিসেবে। কখনো নাম উঠেছে অভিষেকের স্নেহধন্য নির্মাল্য চক্রবর্তী যিনি বর্তমানে তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি আছেন কখনো বা নাম উঠে এসেছে মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানের। কানাঘুষ এও শোনা গিয়েছে দুজনের দ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এখান থেকে সেলিব্রেটি প্রার্থী ঠিক করেছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই সব গুঞ্জন এবং জল্পনা জল ঢেলে অবশেষে সুজয়ের উপরই ভরসা করলো দল। তাই এদিন নাম প্রকাশ হতেই আবির মেখে বাজি ফাটিয়ে উচ্ছ্বাস দেখালো দলীয় কর্মী নেতৃত্ব ও সমর্থকরা। এরপর মিষ্টিমুখ এবং দেওয়ার লিখন এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন এই তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা।

যদি ওই দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলেন,” দিদি তার কথা রেখেছেন এবং সুযোগ দিয়েছেন তাই দিদি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মান তিনি বজায় রাখবেন। তবে কাজের ক্ষেত্রে বলতে গিয়ে বলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতনই কাজের উন্নয়নে তিনি কোন রাজনৈতিক বিচার বিবেচনা করেন না। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিপিএম, বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক রঙ দেখা হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি সুজয় বাবু বলেন এবারে জেতার পর বিধানসভার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, তৃণমূল মেদিনীপুরের জন্য তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিলেও বিজেপি এখনো পর্যন্ত তার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারেনি। রাজনৈতিক গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে মেদিনীপুর বিজেপির সম্পাদক শুভজিৎ রায়ের নাম কখনো বা সহ-সভাপতি সংকর গুছাইতের। আবার কেউ কেউ মনে করছেন মেদিনীপুর থেকে কোন ভিভিআইপি বা অভিনেতাকে দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দাঁড় করাবেন। এখন অপেক্ষা ২৩ এপ্রিলে ভোটের দিনের জন্য।