
নারায়ণগড় 24 সে জানুয়ারী:
তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালীতে গিয়ে বিধায়ক তাড়া খেলেন খোদ দলের কর্মীদের কাছে! চোর স্লোগান এবং গো ব্যাক স্লোগানে পড়ে মাঠ ছাড়লেন বিধায়ক সূর্য অট্ট।এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা।যদিও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পিসি ভাইপোর মত নেতাদের ও চোর বলে কটাক্ষ বিজেপির।

তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন বিধায়ক,দলের কর্মীরাই সেখানে চোর চোর বলে তাড়া দিলেন বিধায়ককে! মূলত শনিবার সকালে নারায়ণগড়ে ব্লকের কসবা ৬ নম্বর অঞ্চলে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালী কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট আর সেখানেই তৃণমূলের একাংশ নেতৃত্ব কর্মীরা চোর চোর বলে তাড়া করেন। এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়।যা নিয়ে উত্তেজনা সংশ্লিষ্ট এলাকায়। এই ঘটনায় বিধায়ক কে উন্নয়নের পাঁচালী শুরু হওয়ার আগেই দৌড়ে গাড়িতে উঠে ফিরে যেতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের দাবি এই এলাকায় এই তৃণমূলের বিধায়ক কখনো আসেন না।ইনি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এলাকার তৃণমূল কর্মীদের গরু বলেন।পঞ্চায়েত কে বলেন গরুর গোয়ালঘর।তিনি কর্মীদের কুকুর বলেও দাবি করেন।তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর এলাকায় সরকারি টাকা চুরি করে যাচ্ছেন।কোনদিন এলাকার উন্নয়নে এবং তৃণমূল কর্মীদের সমস্যা শুনতে আসেন না।আমাদের দাবি থাকবে আগামী দিনে এই তৃণমূল বিধায়ক সূর্য অট্ট যেন দলীয় টিকিট না পায়। আমরা বহু পুরনো কর্মী,এলাকার তৃণমূলকে জেতানোর ক্ষেত্রে আমরাই সর্ব প্রথম এগিয়ে আসি।আগামী ২৬ নির্বাচনে যাতে এই বিধায়ককে টিকিট না দেওয়া হয় তারও দাবি তোলা হয় কর্মীদের মুখে।অন্যদিকে বিধায়কের দাবি যারা স্লোগান দিয়েছে তারা তৃণমূল না, তারা কোন দল করে তাও জানিনা।

যদিও এ বিষয়ে অভিযোগ কারী তৃণমূলীরা বলেন, “একমাত্র আমাদের এই তৃণমূল বিধায়ক যিনি আমাদেরকে গরু আমাদের অফিসকে গোয়াল ঘর এবং প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কুকুর বলে গালাগালি দেন।আমরা দীর্ঘদিন থেকেই এই কসবা অঞ্চলে ভোটের লিড দিয়ে জিতিয়ে এসেছি তৃণমূলকে অথচ ইনি তৃণমূলের বিধায়ক হয়েও আমাদের কুকুর গরু ভাবেন।গ্রাম পঞ্চায়েত কে গোয়ালঘর ভাবেন তাই আজকে যখন উনি এসেছিলেন আমরা জানতে চেয়েছিলাম এই গরু কুকুরদের জন্য কেন এসেছেন? আমরা তাই দলকে অনুরোধ করব,জানাবো যে এই মিথ্যাবাদী বিধায়ককে যেন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না দেয়।

যদিও এ বিষয়ে পাল্টা তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন,” আজকে যখন এই উন্নয়নের পাঁচালী নিয়ে অডিটোরিয়ামে বক্তব্য দিচ্ছিলাম তখন দুজন লোক এই চেঁচামেচি করে।এরপর বাইরে বেরিয়ে আসার পর তারা আমাকে চোর চোর এবং গো ব্যাক স্লোগান দেয়।এরা আসলে কোন দলেরই না।এরা যখন যেমন পায় তখন সেই দলেই থাকে।এই ঘটনা সবার সামনে ঘটেছে সেখানে পুলিশ উপস্থিত ছিল।গুটিকয়েক লোক একটি বুথে থেকে এই সমস্যা সৃষ্টি করে। যদিও গত লোকসভা ভোটে আমি ওখান থেকে ৭০০ ভোটে জিতেছি। ওই বুথে বেশকিছু লোক বসত ওই বুথ কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ওদের মধ্যে গন্ডগোল সৃষ্টি হয়।

এই বিষয়ে বিজেপি নেতা গৌরীশংকর অধিকারী বলেন,”আমরা সব সময় ওই জন্য বলি পিসি চোর ভাইপো চোর তা যে কোন অংশে মিথ্যা নয় তা এই ঘটনার প্রমাণ।নারায়ণগড়ে যে চোর চোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খোদ শাসকদলের বিধায়ককে ঘিরে তা সমস্ত বিধানসভা তেই দেখা যাবে আগামী দিনে। পাশাপাশি তৃণমূল কর্মীদের একনিষ্ঠ বলে মন্তব্য করে বিজেপি নেতা বলেন নিচু এলাকার কর্মীরা স্বচ্ছ ভাবে কাজ করে এবং উঁচু তলার অর্থাৎ অঞ্চল ব্লক সভাপতি থেকে বিধায়করা চুরি করে বেড়ায়। তবে এখন নারায়ণগড়ের মানুষ জেগেছে,জেগেছে তৃণমূল প্রকৃত কর্মীরা,তারাই বিদায় করবে এসব বিধায়ক এবং নেতাদের।