Vadutola Incident:মৃত রোগী কে দেখতে না যাওয়ায় চিকিৎসককে মারধর,টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তৃণমূল ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে!অসুস্থ হলেন চিকিৎসক

Share

ভাদুতলা 10 ই ফেব্রুয়ারি:

তৃণমূল নেতার মৃত রোগীকে না দেখতে যাওয়ায় চেম্বারে চিকিৎসক কে মারধর গালি গালাজ।টেনে হিঁচড়ে মৃত রোগীর কাছে টেনে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ।এই ঘটনায় আতঙ্কিত চিকিৎসক দম্পতি পুলিশে অভিযোগ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লেন।এই ঘটনায় বিজেপি নিন্দা করলেও তৃণমূলের পাল্টা সাফাই ঘটনার খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে।

আবার চিকিৎসক নিগ্রহ,এবার ঠিকানাটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভাদুতলা এলাকার।অভিযোগ এক তৃণমূল নেতার পরিবারের মৃত রোগীকে দেখতে তার বাড়ি না যাওয়ায় চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর সেসঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ভাদুতলায় নিখিল ঘোষ নামে এই চিকিৎসকের একটি চেম্বার রয়েছে।দীর্ঘ করোনার পর মানসিক সমস্যার কারণে তিনি চেম্বার প্রায় বন্ধ করেই দিয়েছেন। তবু জরুরী পরিষেবার জন্য তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থা করেন।কিন্তু এদিন সকাল ১০ টা নাগাদ এক এলাকার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কাঞ্চন চক্রবর্তীর আত্মীয়র অসুস্থ হওয়ার জন্য এই চিকিৎসকের কাছে তার এক পরিবারের সদস্য কে পাঠান।কিন্তু চিকিৎসক বাড়ি গিয়ে রোগী দেখতে না যাওয়ায় উপস্থিত হয় এই তৃণমূল নেতা।

চিকিৎসকের অভিযোগ মত সেখানে এসে চিকিৎসককে হুমকি দেয় এবং বলে গিয়ে তার রোগীকে দেখে আসতে। কিন্তু এই ডাক্তার বাবু তিনি তাতে না করায় এবং রোগীকে তার চেম্বারে আনতে বলায় তাকে সপাটে কানে চড় মারে এই নেতা।এরপর তার প্রতিবাদ করায় ফের তাকে মারধর করা হয় এক প্রস্থ।এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী এসে বাধা দিলে পুনরায় তাদেরকে মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।সেই সঙ্গে চলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় সেই রোগীর রোগীর কাছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন যে রোগী এক ঘন্টা আগে মারা গেছে।এই ঘটনায় ভেঙে পড়েন চিকিৎসক।তিনি এই পরিস্থিতিতে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে এই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তার পরিবারের ডেড বডি নিয়ে তার বাড়িতে রেখে এক প্রস্থ সমস্যার সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এরপর পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর বাড়ি ফিরে আসেন এই চিকিৎসক দম্পতি।

এরপর বিকেল সন্ধ্যা নাগাদ অসুস্থ বোধ করেন তিনি।এইদিন তিনি বাড়ির লোকের সহযোগিতায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে ছুটে আসেন চিকিৎসা করাতে।যদিও এই ঘটনায় রাজ্যের এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই চিকিৎসক।যদিও এই ঘটনায় শালবনী থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন উনারা একটা অভিযোগ দিয়ে গেছেন থানায়।কিন্তু সেটা এফআই আর হিসেবে নয়।ওনারা সময় চেয়েছেন বলেও দাবি করেন এই পুলিশ আধিকারিক।

এই বিষয়ে আক্রান্ত চিকিৎসক নিখিল কুমার ঘোষ বলেন,”চেম্বারে থাকাকালীন এই কাঞ্চন চক্রবর্তীর নিজের পরিবারের সদস্য আসে আমার চেম্বারে যে তাদের একজন অসুস্থ রোগী কে দেখতে হবে জানাতে এবং আমাকে ডেকে নিয়ে যেতে চায় তাদের বাড়ি।আমার শরীর ভালো না থাকায় আমি তাদের না বলাতে এরপর নেতা মদ্যপ কাঞ্চন চক্রবর্তী দৌড়ে আসে এবং আমাকে নিয়ে যেতে চাই।আমি না বলাতে চেম্বারের মধ্যেই মারধর শুরু করে এই নেতা।এই ঘটনায় আমার স্ত্রী বাধা দিতে এলে পুনরায় মারধর করে এবং হুমকি দেয় সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।এমনকি এই অবস্থায় আমাকে টানতে টানতে জোর করে নিয়ে যায় রোগীর কাছে। সেখানে গিয়ে দেখি রোগী প্রায় ঘন্টাখানেক আগেই মারা গেছে।পর আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি কোথায় যাবো ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না কারণ আমার মনের ব্যবস্থা ভালো ছিল না। আমি আতঙ্কিত এবং বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছি।”

আক্রান্ত চিকিৎসক নিখিল ঘোষের স্ত্রী গায়ত্রী ঘোষ বলেন”আজকে যেভাবে এই তৃণমূল নেতা এবং তার পরিবারের লোকজন আমার স্বামীকে মারধর হেনস্থা করেছে তাতে আমরা আতঙ্কিত।দিনের বেলায় যেমন তেমন কেটে গেলেও রাতের বেলায় আমরা বাড়ি ঢুকতে ভয় পাচ্ছি।যেভাবে ওরা এসে দিনের বেলায় চেম্বারে মারধর করেছে তাতে আমরা থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছি।আমরা চাই অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।”

যদিও এই নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শংকর গুছাইত বলেন,” এটাই তৃণমূলের কালচার,এটা নতুন নয়।কয়লা চোর,বালি চোরের কাছ থেকে এর বেশি আশা করা যায় না।তবে পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানাবো এবার একটু শিরদাঁড়া সোজা করুন।এই ঘটনার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

যদিও এ বিষয়ে সাফাই গেয়েছেন অভিযুক্ত কর্নগড় ১০ নং অঞ্চল তৃণমূল ব্লক সভাপতি কাঞ্চন চক্রবর্তী।তিনি বলেন,”আমার কাকিমা মারা যাওয়ায় ওই চিকিৎসককে বলেছিলাম একবার দেখতে বাড়িতে কিন্তু উনি যান নি।উনাকে গালিগালাজ করা হয়েছে কিন্তু মারধোর করা হয়নি। যদিও এদিন কাঞ্চন চক্রবর্তী নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বেশি কথা বলতে রাজি হন নি।”

অন্যদিকে এই ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন,”বিষয়টা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in