Kurkure Story:”আমি বলেছিলাম যে,আমি কুড়কুড়েটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম,চুরি করিনি মা”!খুদের শেষ আর্তিতে তোলপাড় সমাজ মাধ্যম

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,পাঁশকুঁড়া:

দোকানের নিচে পড়ে থাকা একটি কুড়কুড়ে কুড়িয়ে পেয়েছে খুদে,সে তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে।তারপরও বকাঝকাতে শেষে বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার পথ আর যা নিয়েই এখনও তোলপাড় সোশ্যাল মাধ্যম।কি এমন দোষ ছিল ওই খুদের!সামান্য কুড়কুড়ে নেওয়া কুড়িয়ে নেওয়া? শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে আপামর এলাকার মানুষ।

পাঁশকুড়ার গোঁসাইবেড় বাজারের কৃষ্ণেন্দু দাস,সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র,রবিবার বাজারে চিপস কিনতে বেরিয়েছিল।কৃষ্ণেন্দুর পরিবারের অভিযোগ যে দোকানে ছোট্ট কৃষ্ণেন্দু গিয়েছিল সেদিন সেই দোকানে চিপস ছিল না।এমনকি দোকানদারকে বার বার ডেকেও সাড়া পায়নি খুদে।এরপর দোকানের বাইরেই চিপসের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে সে।এরপর সে প্যাকেট কুড়িয়ে নেয়।এরপর সেই দোকানের মালিক শুভঙ্কর বকাবকি করে বলে অভিযোগ।সেই সঙ্গে কানে ধরে উঠবোস করানো হয় ছোট্ট কৃষ্ণেন্দুকে।আর তার জেরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে ঐ ছাত্র।তবে যাওয়ার আগে সেই খুদে লিখে গিয়েছে এক হৃদয় বিদারক সুইসাইড নোট।তাতে লেখা”মা আমি বলেছিলাম যে আমি কুড়কুড়েটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম,চুরি করিনি মা”।

কৃষ্ণেন্দুর মা,সুমিত্রা দাসের অভিযোগ,”গত রবিবার আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিকেলে চিপস কিনতে গিয়েছিলো কৃষ্ণেন্দু।এরপর দোকানে কাউকে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি করে সে,কোন সাড়া না পেয়ে দোকানের বাইরে তিনটে চিপসের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে তা কুড়িয়ে নেই সে।এরপর দোকানের মালিক শুভঙ্কর দীক্ষিত তার পিছনে ধাওয়া করে,বকাবকি করে এবং কানে ধরে উঠবোস করায়।পরে আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে বলে,আমার ছেলে চুরি করেছে বলে আমাকে জানানো হয়।আমি আমার ছেলেকে কানে ধরে ক্ষমা চাইতে বলি।এরপরে আমার ছেলে বাড়িতেই ছিল,আমরা কাজে গিয়েছিলাম।ফিরে এসে দেখি আমার ছেলে বিষ খেয়েছে।এরপর ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার আমার ছেলে মারা যায়।ছেলের দেহ নিয়ে আমরা গ্রামে ফিরে দেখি পুরো এলাকায় পুলিশ।

গ্রামের লোকেরা দোকানের মালিকের বাড়িতে বলতে গেলে এলাকাবাসীদের থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।জানা গিয়েছে অভিযুক্ত শুভঙ্কর দীক্ষিত সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজ করেন।আজ শুক্রবারও দেখা যায় দোকান বন্ধ, বাইরে ও এলাকায় রয়েছে পুলিশ কর্তারা।অভিযুক্ত ওই দোকানের মালিকের শাস্তির দাবি করেছেন কৃষ্ণেন্দুর মা।





Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in