
সবং 6 ই জানুয়ারি:
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দেভোগ অঞ্চলের লুটুনিয়া গ্রামে এক গৃহবধূকে খুঁটিতে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ওই নির্যাতিত মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসন,খতিয়ে দেখছে কারণ।

এবার গ্রুপ লোনের টাকা আত্মসাৎ করায় গ্রুপের বাকি মেম্বাররা তাদের অভিযুক্ত মেম্বারকে খুঁটিতে বেঁধে রাখলো।সবংয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, স্ব-সহায়ক দলের লোনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গৃহবধুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা গৃহবধূ তিনি ওই গ্রামের একটি স্ব-সহায়ক দলের সহ-দলনেত্রী। অভিযোগ, স্ব-সহায়ক দলের প্রায় তিন লক্ষ টাকার লোন তিনি আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর একাধিকবার দলের সদস্যাদের মধ্যে আলোচনা হলেও অভিযুক্ত গৃহবধূ টাকা ফেরত দেননি বলে দাবি।এরপর সোমবার দুপুরে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অভিযোগ, স্ব-সহায়ক দলের কয়েকজন মহিলা ওই অভিযুক্ত মহিলাকে টানাহেঁচড়া করে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি Dnews।এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সবং থানার পুলিশ। পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আইনের পথ ছেড়ে এভাবে প্রকাশ্যে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,এর আগেও এই ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা গেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কুসংস্কারের বলি হয়ে মানুষ এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে এক্ষেত্রে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় চুরির অভিযোগেও মানুষ নিজেই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে এক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়া উচিত।

যদিও এ বিষয়ে সবংয়ের এক পুলিশ আধিকারিক বলেন ওই মহিলা তাদের গ্রুপ লোনের টাকা আত্মসাৎ করেছিল।সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে তারই গ্রুপের বাকি মহিলারা বহুবার উনাকে আবেদন নিবেদন করেছিল টাকা ফেরত দেওয়ার। উনি না দেওয়ায় অবশেষে তারাই তাকে এই খুঁটিতে বেঁধে রাখে। আমরা বিষয়টা খবর পেয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করেছি।তবে এখনো পর্যন্ত অভিযোগ হয়নি।আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি।