Garhbeta insident:মুক বধির শিশুকে সিঁদুর মাখিয়ে বলি দেওয়ার চেষ্টা!গ্রেফতার অভিযুক্ত,আটক এক,তদন্তে পুলিশ

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,গড়বেতা:

এক বিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুগে বলি দেওয়ার চেষ্টা গড়বেতাতে।যা নিয়ে চাঞ্চল্য সংশ্লিষ্ট এলাকা জুড়ে।মূলত বছর চারেকের মূক-বধির এক শিশুকে সিঁদুর মাখিয়ে রাখা হয়েছিল।অনুমান,রাতে বলি দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল।সেই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক সহ গ্রেপ্তার একজন।

এবার একটি মুখ বধির শিশুকে বলি দেওয়ার চেষ্টায় গরবেতাতে।যে ঘটনায় প্রথমে অভিযুক্ত সহ পাঁচজনকে আটক করল পুলিশ।ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেলে গড়বেতা -৩ ব্লকের সারগা গ্রামে।অভিযুক্ত যুবকের নাম রঞ্জিত রুইদাস। সারগা গ্রামেই তার বাড়ি।এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়,অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ওই শিশুটি।মূলত রঞ্জিত দীর্ঘদিন ধরে তন্ত্র সাধনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযুক্ত যুবকের কার্যকলাপের উপর নজর রাখছিল প্রতিবেশীরা।পুলিস জানিয়েছে,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর রঞ্জিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তাও জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শিশুটির বাবা পেশায় বাদ্যযন্ত্রের কারিগর।তার শিশুটি জন্মানোর পর থেকেই ভালোভাবে কানে শুনতে পায় না,এছাড়া কথাও বলতে পারেনা বলেই পরিবারের দাবি।তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনা ক্রমে জানা যায় শনিবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর শিশুটি ঘরের ভিতরেই শুয়ে ছিল।তবে কিছু সময় পর থেকে শিশুটির এর খোঁজ মিলছিল না।এরপর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে।তাকে খুঁজে না পেয়ে কান্না শুরু করে শিশুর পরিবারের সদস্যরা। কান্নার আওয়াজ ও চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা।তারা খোঁজাখুঁজির সময় দেখতে পান একটি বন্ধ রুমের জানলায় বসে আছে শিশুটি।তার সারা শরীরে সিঁদুর মাখা।

প্রতিবেশীরা দ্রুত ওই শিশুটাকে উদ্ধার করে।একইসঙ্গে রঞ্জিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে,সে শিশুটিকে নিয়ে আসার কথা জানায়।এরপর রঞ্জিত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিবেশীরা তাকে ধরে ফেলে।খবর পেয়ে পুলিস এলাকায় পৌঁছয়। রঞ্জিত সহ পরিবারের বাকি সদস্যদের আটক করে পুলিস।এদিন সন্ধ্যায় টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর রঞ্জিত কে গ্রেপ্তার করা হয়।বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হলেও একজন কে আটক করে।

এ বিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন,”এরকম এক ঘটনা ঘটেছে।আমরা কয়েক জনকে নিয়ে এসেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি।পুরোটা তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হলে কিছুই বলতে পারব না।

এ বিষয়ে শিশুর মা বলেন,”আমি হঠাৎ এসে দেখি কাপড়ে আগুন জ্বলছে এবং সে আগুনে বাচ্চাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ওই অভিযুক্ত।এর আগে ওই অভিযুক্ত দুটো বলি দিয়েছে বলেও আমরা খবর পেয়েছি।আজকে যেহেতু অমাবস্যা তাই এই বলি দেওয়ার তোড়ঝোড় করছিল ওই অভিযুক্ত যুবক।উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা বিভাস দাস বলেন,বেশ কিছুদিন ধরেই ওকে আমাদের সন্দেহ হত।চন্দ্রকোনা রোডের বাসিন্দা একজনের কাছ থেকে নাকি ও তন্ত্রবিদ্যা শিখছিল।আর কিছু সময় দেরি হলে হয়তো আমার ছেলেকে আর ফিরে পেতাম না।ওর কড়া শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এই নিয়ে বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সহসভাপতি বাবুলাল শাসমল বলেন,”একবিংশ শতাব্দীতে এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।আমরা সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাবো এর সঙ্গে আমরাও এর বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের সচেতন করব।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in