
কেশপুর 26 সে মার্চ :
রাজ্যের সঙ্গে গোটা জেলায় ভোট ঘোষণা হয়েছে আর ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারে নেমে পড়েছে শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধী বিজেপি, সিপিএম ,সিপিআই, কংগ্রেস এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলি পর্যন্ত। তবে এক্ষেত্রে ১৫ টি বিধানসভা জেলার মধ্যে অন্যতম হল কেশপুর। কারণ তথাকথিত রাজনৈতিক মহলের মতে এই কেশপুর হলো সংখ্যালঘু পরিপূর্ণ। কেউ কেউ বলেন সংখ্যালঘুর সংখ্যা প্রায় ৪০% এর উপরে। আর তাই শাসক এবং বিরোধীরা মূল ভরসা করেন তাদের উপর। যদিও এখানকার মন্ত্রী এবং প্রাক্তন বিধায়িকা শিউলি সাহা এটা মানতে নারাজ।তিনি দুবারের বিধায়িকা হিসেবে কাজ করছেন। এইদিন একান্ত সাক্ষাতকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের ভোট বাড়ানোর কথা তিনি তুলে ধরেন।

শিউলি সাহার কথামতো জেতাটা এখানে বড় ব্যাপার নয়,বড় ব্যাপার মার্জিন বাড়ানোটা।
১) প্রশ্ন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আপনারা কতটা প্রস্তুত ?
উত্তর : আমাদের নতুন করে প্রস্তুত হওয়ার কোন দরকার নেই। আমরা ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকি কাছে থাকি। তবে যেহেতু ভোট একটা উৎসব তাই সেখানে সকল মানুষকে নিয়ে চলাই আমাদের কাজ তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি পাশে যাচ্ছি এবং নির্বাচনী প্রচার সারছি। আমরা মানুষের আরো কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

২)প্রশ্ন: রাজ্য সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প, ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন?
উত্তর : মানুষ এই সরকার কে ভালো বেসেছে তবে যখন আমরা বিরোধী ছিলাম ২০১১ এর আগে ২০০৯ সালে যখন সবাই পার্লামেন্টে গেল তখনই রাজ্যের পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছিল। তবে তখন অবশ্য কেশপুর জেতেনি। কিন্তু তখন যে ঝড় উঠেছিল সেই ঝড়েই ২০১১ সালে সিপিএমের মতন জগদ্দল পাথর কি সরিয়ে দিতে পেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ আমরা ১৫ বছর ধরে যে সার্ভিস দিয়েছি বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তাই মানুষ ভালোবেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেছেন। তাই মানুষের জীবন চক্রের বিশেষ করে শৈশব যৌবন বার্ধক্য এবং মৃত অবস্থায় তাদের ৯৪ টি প্রকল্পের সুবিধা দিয়েছেন।
৩)প্রশ্ন: বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যে দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা । এই অভিযোগকে কীভাবে দেখছেন ?
উত্তর : SIR আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে তবে গতানুগতিক প্রসেস।তবে এই এসআইআর করার পেছনে বিরোধীরা মূল দায়ী। অনুপ্রবেশ রোহিঙ্গা বলে মানুষদেরকে অপবাদ দিচ্ছে এবং বিভ্রান্ত করছে। কেশপুরের ৫০ হাজার মানুষ কে ডেকেছিল কিছুই পাইনি। আট হাজার মানুষ বিচারাধীন তাও কিছুই করতে পারবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন এই এস আর করতে গিয়ে বরং এটা বিজেপির বিরুদ্ধে গেল এবং বুমেরাং হল। বিজেপির বাংলা দখল করা হলো না SIR এর নাম করে।

৪)প্রশ্ন: এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এর প্রভাব কী পড়তে পারে?
উত্তর : পুরো এলাকা মুসলিম এটা বলা যাবে না এটা অনেকে বলেছে, অনেকে বিভ্রান্ত করেছে। পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম ও বিভাজন সৃষ্টি করেছে ওরা। প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিল মানুষ আমিও কিছুটা নেমে গেছিলাম কিন্তু তারপর তার বুঝতে পেরেছে। কারণ আমরা দেখেছি যারা বাথরুম করতে করতে রামের নাম নেই, রামকে রাস্তাঘাটে নামিয়ে আনে তাদের পাশে মানুষ নেই। ওরা বাইরে থেকে আসে হিন্দি ভাষাতে কথা বলে এবং বাংলার মানুষকে ছলেবলে কৌশলে মারধর করে। এখন সবাই জেনে গেছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার মানেই বাংলা বিরোধী,তার প্রভাব এই ভোটে পড়বে। ২০১১ র সেন্সাসে এখানে প্রায় ২৭ – ২৮ % মুসলিম ছিল এখন আনুমানিক ৩২% হতে পারে মুসলিম।

৫)প্রশ্ন: গত পাঁচ বছরে আপনার কাজের মূল্যায়ন করতে বলা হলে নিজেকে ১০০-র মধ্যে কত নম্বর দেবেন?
উত্তর : নম্বর দেওয়ার আমি কেউ নয়,মানুষই শেষ কথা। আগে আমাদের জোটের প্রার্থী ছিল এখন আমাদের নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে। এটুকুই বলবো পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ,পঞ্চায়েত সমিতি , বিধানসভা এমনকি লোকসভা ভোটেও আমরা ব্যাপক পরিমাণ লিড দিয়ে ভোটে জিতি যা প্রমাণ করে আমরা মানুষের কত পাশে রয়েছি। প্রতিটা ভোটেই আমরা এক লক্ষ ভোটের মার্জিন রেখেছি তাই যেহেতু পরীক্ষার্থী আমি ২০২৬ এর জন্য অপেক্ষা করবো।

৬)প্রশ্ন: বিরোধী প্রার্থী নিয়ে কি মন্তব্য?
উত্তর : শত্রুপক্ষকে কখনই আমি ছোট করে দেখি না কিন্তু এই ভোটের আগে এরা কোথায় ছিল এটাই আমার প্রশ্ন। মহামারী কোরোণার সময় কোথায় যায় এরা কোথায় থাকে ঝড়-বৃষ্টি বন্যার সময়। কেনই বা এতদিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ করলো না, কেনই বা ১০০ দিনের কাজ এর টাকা আটকে রেখেছে? গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সময় কেন প্রতিবাদ করেনি বিরোধীরা? কেনই বা জলের পরিকল্পনা করেও জল পাইনি এলাকার মানুষ। এবারও শুনেছি শুভেন্দু অধিকারীর খাস লোক এখানে দাঁড়িয়েছে।এটা গণতান্ত্রিক দেশ সবারই প্রচার করার অধিকার রয়েছে ,দেখা যাবে ভোটের ফলাফল কি হয়!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরের যে কটি বিধান সভা রয়েছে তার মধ্যে কেশপুরে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয় তৃণমূল। এবারে শিউলি সাহার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপির তরফে লড়াই করছেন শুভেন্দু সামন্ত। এখন দেখার ফলাফল কি হয়।