Saline Insident:”আমি আর ভরসা পাচ্ছি না”! নাসরিনের মৃত্যুর পরই আতঙ্ক স্যালাইন কান্ডের অসুস্থ প্রসূতি মাম্পি সিংয়ের

Share

নিজস্ব প্রতিনিধি,শালবনী:

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া প্রসূতির তালিকায় ছিলেন মাম্পি সিং।নাসরিন খাতুনের মৃত্যুর পর নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিল তার। তার বক্তব্য ডাক্তারবাবুরা সুস্থ বললেই ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু আমার জীবনে কোন গ্যারান্টি নেই।পরিশ্রম তো দূরের কথা আগের মত ঠিকমতো হাঁটতে চলতেও পারি না।ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়ালো মেদিনীপুর মাতৃমাতে ভর্তি হওয়া স্যালাইন কান্ডের অন্যতম প্রসূতি মাম্পি সিংয়ের।

প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত ,তবুও আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না।যদিও গতকাল নাসরিন খাতুনের SSKM এ মৃত্যুতে কিছুটা চ্যাপ্টার ক্লোজ হলেও সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়া মাম্পি সিং এর মনে নতুন করে আতঙ্ক ধরালো নাসরিন খাতুনের মৃত্যু। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,চলতি বছরের ৮ই জানুয়ারি মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের মাতৃমাতে সন্তানের জন্ম দেন পাঁচ প্রসূতি। সন্তান জন্ম দেবার পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।এরা হলেন মামনি রুইদাস,রেখা সাউ,মাম্পি সিংহ, মিনারা বিবি ও নাসরিন খাতুন। অভিযোগ হাসপাতালের চিকিৎসার অব্যবস্থা সেইসঙ্গে রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়া হয়।যদিও বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পরে মামনি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয় বাকি ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি এই অসুস্থ প্রসূতি দের কে মেদিনীপুর আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়।যদিও সেখানে অবস্থা বেগতিক দেখে মাম্পি সিংহ, মিনারা বিবি ও নাসরিন খাতুন কে কলকাতায় SSKM এ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।

যদিও এই ঘটনায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।এরপর মৃত্যু হয় এক সদ্য জাতর। যদি ওই ঘটনায় সিআইডি তদন্ত সেইসঙ্গে দোষী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সেই জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়েছে।তবে পরবর্তীকালে অসুস্থ প্রসূতি মাম্পি, মিনারা বিবি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এলেও ফিরে আসে নি কেশপুরের নাসরিন। প্রায় চার মাস যুদ্ধ করার পর মৃত্যু হল তার।আর এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে মাম্পি সিংয়ের।

এ বিষয়ে মাম্পি সিং বলেন,‘আমার জীবনেরও তো কোন গ্যারান্টি নেই! ডাক্তারবাবুরা সুস্থ বলে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।কিন্তু, এক-দু’বছর পরে যে আবার সমস্যা হবে না, তার কোনও ভরসা পাচ্ছিনা। নিজের উপর বিশ্বাস বলে আর কিছু নেই! আগের মতো পরিশ্রম করা তো দূরের কথা, হাঁটতে-চলতে গেলেও দুর্বল লাগে। একটু কাজ করার চেষ্টা করলেই হাঁপিয়ে যাই।আগের মতো কি আর কোনদিন সুস্থ হতে পারব আমি?

মাম্পির স্বামী বলেন,’প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেছিলেন, কলকাতায় চেক-আপ করাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফ্রি-তে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে।কিন্তু, কোনও সহযোগিতা পাইনি।গত বুধবার নিজের টাকা খরচ করে, বাসে করেই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম স্ত্রীকে।চার মাসের কন্যা সন্তানকে প্রতি সপ্তাহে ১০০০ টাকার বেবি ফুড কিনে খাওয়াতে হয়। আমি ২০০ টাকা বেতনে দিনমজুরের কাজ করি।এত টাকা কোথায় পাব?

এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সড়ঙ্গী এই বিষয়ে বলেন,‘অ্যাম্বুল্যান্সের বিষয়ে যে অভিযোগ,আমার কাছে পৌঁছল।এই সমস্যা ভবিষ্যতে আর হবে না।শিশুটির খাবারের বিষয়টিও আমি দেখছি।প্রশাসন তথা আমরা সবসময়েই ওই পরিবারগুলির পাশে আছি।




Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in