SUCI Candidate : প্রতিবাদ করতে গিয়ে থানায় গরম মোমের ছ্যাঁকা,হার না মানা সুশ্রীতা সরেন মেদিনী পুরের SUCI প্রার্থী! জিতলে শিক্ষার উন্নতির সঙ্গে আদিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি

Share

মেদিনীপুর 29 সে মার্চ :

মেদিনীপুর বিধানসভার এবারের লড়াই টা মূলত হবে তৃণমূল বনাম বিজেপির কিন্তু এই দুই ভিভিআইপি ক্যান্ডিডেটের সঙ্গে লড়াইয়ে নাম লিখেছে SUCI। তবে মেদিনীপুর থেকে এবারে SUCI প্রার্থী হয়েছেন পুলিশি দ্বারা আক্রান্ত সংবাদের শিরোনামে থাকা প্রতিবাদী সুশ্রীতা সরেন।

এই সুশ্রীতার রাজনীতিতে প্রার্থী হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায় গত ২০২৫ সালের ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভায় গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়াদের একাংশ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। একদিকে শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির তলায় পড়ে এক ছাত্র আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরই ৩ রা মার্চ মেদিনীপুরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় সুশ্রীতা সোরেন-সহ একাধিক DSO নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ,এরপর
ছাড়া পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে AIDSO-র চার মহিলা কর্মী-সমর্থক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন পুলিশের বিরুদ্ধে।

সুশ্রীতা সরেন অভিযোগ করেন মোমের ছ্যাঁকা থেকে শুরু করে চুল ধরে শূন্যে উঁচু করে পায়ের তলায় মারার অভিযোগে ওঠে। এমনকি রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘোরার পরও তাঁদের চিকিৎসা করে কোনও ইনজুরি রিপোর্ট দেয়নি বলে অভিযোগ। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন সুশ্রীতা। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ও থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের দাবি জানান। এই ঘটনার জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়ায়। পরে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ আইজি মুরলিধর শর্মার নেতৃত্বে কমিটি গড়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। রাজ্য ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখে।এই ঘটনায় ওই মহিলা থানার অভিযুক্ত অফিসার কে বদলি ও করা হয়। যার ফলে সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে এই সুশ্রীতা সরেন। এবার তাকে প্রার্থী করে ভোটের লড়াইয়ে নামিয়েছে SUCI । সুশ্রীতা সরেনের সোজা সাপটা উত্তর ।

১) প্রশ্ন : ভোটের প্রচার বা নির্বাচনে কতটা প্রস্তুত আপনারা?
উত্তর : আমরা শ্রমিক মেহনতি মানুষের দল SUCI। আমরা মূলত মানুষের শিক্ষা,কর্মসংস্থান সেই সঙ্গে মেদিনীপুরের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি,সেগুলোই গিয়ে বলছি। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে সমস্যার সমাধানে কিভাবে এগিয়ে আসা যায়,সেই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় প্রচুর মানুষের ওই সব এলাকায় কিভাবে হাতি থেকে মানুষদের রক্ষা করা যায় সেই সবগুলি প্রচারে তুলে ধরছি। আমাদের দল শিবদাস ঘোষের আদর্শ দীক্ষিত। তাই আমরা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার উভয়ের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েই প্রচার শুরু করেছি।আমাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্যই মানুষদের কাছে আহ্বান, আমাদের ভোট দিন আন্দোলন শক্তিশালী করুন ।

২) প্রশ্ন : কিভাবে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন হয়েছেন ?
উত্তর : যাদবপুরের এক নৃশংস ঘটনা বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকে আমরা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলাম। ধর্মঘটের সমর্থনে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে যায় থানায়। মহিলা থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে আমাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায়। মোমবাতির ছ্যাকা দেওয়া হয় পায়ের বুট দিয়ে আমাদের পা মাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে রক্ত জল খাওয়ানো এবং রাত্রি দুটোই স্নান করানো এরপর গভীর রাতে জনমানবহীন রাস্তায় আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই আইনি লড়াই আমরা করছি আর সেখান থেকেই আমার মূল আন্দোলন।
৩) প্রশ্ন : এরকম একটা নির্যাতন তারপর আবার ভোটের লড়াই শাসক বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই কিভাবে করবেন?
উত্তর :এই হুমকি ভয়ের মোকাবেলায় আমি সর্বদাই প্রস্তুত হয়েছি। আমি কোন ভাবে ভয় পাইনি বা পিছিয়ে পড়িনী। এই ধরনের যদি হুমকি বা ভয় কখনো আসে আমি সর্বদাই এগিয়ে যাব, পিছুপা হবো না

৪) প্রশ্ন : আপনার প্রতিদ্বন্দ্বি টিএমসি ,বিজেপি প্রার্থী ,কিভাবে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন?
উত্তর : আমরা SUCI এর আদর্শে বিশ্বাসী। আমাদের দল SUCI যারা জন্ম লগ্ন থেকেই মানুষের আন্দোলনের পাশে থেকেছে। তৃণমূল বিজেপি যারা মানুষের কথা বলে কিন্তু মানুষের পাশে থাকে না কিন্তু আমরা সারা বছরই পাশে থেকে লড়াই করি। তাই আশা করব ওদেরকে বাদ দিয়ে আমাকে ওরা ভোটে দিয়ে এই বিধানসভা ভোটে জয়ী করবে।

৫) প্রশ্ন : জিতলে কোন কোন বিষয়গুলি উন্নতির উপর গুরুত্ব দেবেন?
উত্তর : মেদিনীপুর বিধানসভার জুড়ে রয়েছে জঙ্গলমহল অধ্যুষিত আদিবাসীদের বসবাস আর তাদের হকের লড়াই আমরা লড়াই করছি। তাই তাদের সুবিধার দিকটা প্রথমে বিশেষ গুরুত্ব দেব। এছাড়াও শিক্ষার ওপর আক্রমণ তা বন্ধ করব।সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার স্কুলগুলো খোলার ব্যবস্থা সঙ্গে নারীদের নির্যাতন বন্ধ করা,নারীদের নিরাপত্তা বাড়ানো। পাশাপাশি রয়েছে অশোকনগর থেকে তাঁতিগেড়িয়ার মধ্যস্থলে উড়ালপুল চালু করা সঙ্গে কাঁসাই ব্রিজেরও দাবী রয়েছে।

৫) প্রশ্ন : SIR এ আদিবাসীদের ওপর কতটা প্রভাব পড়েছে সে ক্ষেত্রে ভোটে প্রভাব পড়বে?
উত্তর : অবশ্যই প্রভাব পড়েছে। মেদিনীপুর বিধানসভা জঙ্গলমহল অধ্যুষিত। এই বিধানসভার বেশিরভাগটাই আদিবাসী এবং খেটে খাওয়া মানুষদের বসবাস। কিন্তু এই SIR হওয়ায় অনেকের নাম বাদ দিয়েছে কারণ তাদের কাছে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার মত কোনরকমই ডকুমেন্টস নেই। নিরক্ষর, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো এস আই আর থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরকম আমার পরিবারেরই অনেক জনের নাম আছে। অনেকে বেঁচে রয়েছেন তা সমস্ত ডকুমেন্টস, রয়েছে তবু তার নাম ডিলিট হয়ে গেছে।
৬) প্রশ্ন : জেতার ব্যাপারে কথাটা আশাবাদী?
উত্তর : আমি জেতার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী এবং একটি জনগণের ওপর আমার আস্থা রয়েছে।আমি যতবারই প্রচারে গিয়েছি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।




Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

dnews.in