
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
মেদিনীপুরে ভ্রাম্যমান পুস্তক বিপণন কেন্দ্রের উদ্বোধনে এসে রীতিমতো এসআইআর এবং বাংলাদেশি ভোটার নিয়ে তোপ দাগলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।পাশাপাশি তিনি বললেন কোন ভোটার যদি বাংলার পাশাপাশি বাংলাদেশী হন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিক কমিশন।

মেদিনীপুরে একটি অনুষ্ঠানের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এইদিন তিনি মেদিনীপুর শহরে মেদিনীপুর কলেজ সংলগ্ন পঞ্চুর চক এলাকায় ভ্রাম্যমান একটি পুস্তক বিপণন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।এই উদ্বোধনে অন্যান্য নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত হয়েছিল সিপিআইএম কর্মী সমর্থকেরা।এরপরই তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং SIR সহ দিল্লিতে অভিযান নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের উত্তর দেন।প্রথমে তিনি সেন্ট্রাল এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলায় ৫০০ জন বাংলাদেশী ভোটার নিয়ে বলেন,”যদি বাংলাদেশের ৫০০ ভোটার এই বাংলায় বাংলার ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পায় তাহলে তাদের নাম বাদ দেওয়া, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই আমাদের।কিন্তু প্রায় সাড়ে ৬ থেকে ৭ কোটি ভোটারের এই বাংলায় সবাইকে হয়রানি করা যুক্তিযুক্ত নয়। ৫০০ ভোটারের জন্য সাত কোটি মানুষকে পরীক্ষা দিতে হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।

একদিকে ২০০২ সালের জন্মের সার্টিফিকেট চাইছে সরকার অন্যদিকে ২০১৪ সালে যারা ভারতে আসবে তাদের নাগরিকত্ব দেবে।এটা কোনটা ঠিক উনারাই বলতে পারবে।আমার মনে হয় আসলে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলতে চায় এই কেন্দ্রীয় সরকার নানান ভাবে।”এরপর দিল্লিতে বিরোধীদের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন করালে তিনি বলেন,”আমি একটা ছবি দেখলাম যেখানে কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অভিযান করছে।যেখানে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী,প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিভিন্ন নেতা-নেত্রী কে দেখলাম।যাদেরকে অভিযানে যেতে বাধা দিয়েছে দিল্লী পুলিশ।এর থেকে বোঝা যায় নির্বাচন কমিশনের মনোভাব কি।তবে তৃণমূল MP মহুয়া মিত্র ও মিতালী বাগের লাফানো নিয়ে কোনরকম মন্তব্য করতে রাজি হননি সুজন বাবু।তবে তিনি এক কথায় বলেন সাংসদরা যে যায় বলুক দিল্লি নির্বাচন কমিশন থরথরি কম্প,তাই তারা বাধা দিয়েছে এই অভিযানে যেতে।”

এরপর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান সহ বিজেপি মন্ডল সভাপতি বাংলাদেশী সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুজন বাবু বলেন,”একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ হল তৃণমূল ও বিজেপি।কারণ রাজারহাটের বিজেপি মন্ডল সভাপতি তিনি হলেন বাংলাদেশি।আবার মালদাতে তৃণমূলের প্রধান তিনিও আবার বাংলাদেশি নাগরিক।তাই এই বিজেপিও তৃণমূলের সর্বভারতীয় যারা নেতা আছে তাদের আগে ডাকা হোক।এই বিজেপি ও তৃণমূল বাংলাকে কলুষিত করছে,যার জন্য বিপদে পড়তে হচ্ছে বাংলার সাধারণ মানুষকে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,এখন গোটা দেশজুড়ে এসআই আর নিয়ে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য।বিশেষ করে কারা বাংলাদেশি কারা বাংলাদেশী নন,কারা রোহিঙ্গা,কারা দেশে থাকতে পারবেন কারা থাকতে পারবেন না তাই নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার।আর যা নিয়ে বিরোধীরা অস্ত্র শানিয়েছে বারংবার।দিল্লিতে অভিযান ছিল সেই এসআইআর নিয়ে এইদিন।