
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
সদ্যজাত কে রাস্তায় হঠাৎ খিদে পেলে কোথায় খাওয়াবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন মায়েরা।এই চিন্তাতেই সদ্যোজাতকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোতে দ্বিধায় ভোগেন মায়েরা।এই বিষয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।পুরো পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রাষ্ট্রকেই তার ব্যবস্থা করতে হবে।

মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মাধ্যমে ফুটে ওঠে বলিউড অভিনেত্রী বা অস্ট্রেলিয়ান সেনেট প্রকাশ্যে সন্তানকে স্তন্যপান করাচ্ছেন।আর সেই পোস্টে লাইক, শেয়ার, কমেন্টের ঝড় উঠে যায়।কিন্তু বাস্তবে রাস্তাঘাটে কখনও কোনও মহিলাকে তাঁর সন্তানকে স্তন্যপান করাতে দেখলেই অনেকেই কটাক্ষ করে ওঠেন।ঠিক এই ইস্যুতেই এবার বিশেষ পর্যবেক্ষণ আদালতের।বাড়ির বাইরে সদ্যোজাত সন্তানকে স্তন্যপান করাতে সুরক্ষিত জায়গা করে দিতে হবে সরকারকেই।প্রশাসনের এই দায়িত্ব মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিচারপতি বি ভি নাগারত্না এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ বলে, ‘স্তন্যপান একজন শিশুর জন্মগত অধিকার। তা তার বেঁচে থাকা ও বড় হয়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।মা ও সন্তান দু’জনেরই সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে এর উপর।মূলত সন্তানের চাহিদা মাথায় রেখে তার খিদে মেটানোর জন্য জায়গা খুঁজতে যেন অসুবিধায় না পড়েন একজন মা।


একজন মহিলার মর্যাদাকে মাথায় রেখে বাড়ির বাইরে স্তন্যদানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।’ বিষয়টিকে কোনও স্টিগমা বলে না ধরে নাগরিক পরিষেবার বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবস্থা করার পক্ষে শীর্ষ আদালত।এই নিয়ে ইতিমধ্যে।স্তন্যদায়ী মা ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ফিডিং ও চাইল্ড কেয়ার রুম বানানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন।সেই সংগঠনের আবেদনের শুনানিতেই এই বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব মনে করিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘নবজাতকের স্বাস্থ্যের বিষয়টি কোনও ভাবেই অবহেলা করা যাবে না।একজন শিশুর বেঁচে থাকার সঙ্গে যুক্ত স্তন্যপান এবং সেই প্রক্রিয়ায় অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িত মা। এতে মা-শিশু দু’জনের ভালো থাকাই জড়িত।’

ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক আইন এবং ২০১৫ সালের কিশোর ন্যায়বিচার (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা) আইনে অন্তর্ভুক্ত ‘শিশুর স্বার্থই সর্বোচ্চ’, এই কথা মনে করিয়েছেন বিচারপতিরা।এই বিষয়ে কেন্দ্রকে দ্রুত উদ্যোগী হতে পরামর্শও দেন বিচারপতিরা।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,গত ২০১৮ সালে কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় শপিং মলে সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করাতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েন এক মা।সেই মা ফিডিং রুম খোঁজায় তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বাথরুমে গিয়ে খাওয়ানোর।এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল পোস্ট করতে ওঠে সমালোচনার ঝড়।একইসঙ্গে ওঠে স্তন্যদাত্রী মায়েদের জন্য ফিডিং রুম তৈরির দাবি।এর পরই কলকাতা পুরসভা শহরের সবকটি মলে মাদার কেয়ার রুম তৈরির নির্দেশ দেয়।উল্লেখ্য,২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরির নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র।

তাতে অফিস ছাড়াও পাবলিক প্লেস, শপিং মলের মতো জায়গায় ফিডিং রুম ও শিশুদের জন্য খেলার জায়গা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।সেই নির্দেশিকার তথ্য দেখে বিচারপতিরা জানান,যে সব জায়গায় এখনও এগুলি পরিকল্পনার স্তরে বা নির্মীয়মান অবস্থায় রয়েছে, সেখানে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।