
নিজস্ব প্রতিনিধি,মেদিনীপুর:
৮৫ বছর ধরে একটানা মুসলিম ধর্মগুরুর সমাধিস্থল কে পাহারা হিন্দু বৃদ্ধ চমত সেতুয়ার।সপ্তাহে নরনারায়ন সেবা।কিন্তু এই ভঙ্গুর ক্ষয়িষ্ণু মাজার রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাকে নতুনভাবে করে দেওয়ার প্রয়াসে উদাসীন মেদিনীপুরের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের।বৃদ্ধের আক্ষেপ এতবার ডেকেও সাড়া মিলছে না মেদিনীপুরের বিশিষ্ট মানুষদের।

বিপ্লবী ঐতিহ্যবাহী শহর হল পশ্চিম মেদিনীপুর।বহু বিপ্লবীদের ভিটেবাড়ি এবং কর্মকাণ্ড যেমন রয়েছে এখানে ঠিক তেমনি রয়েছে সম্প্রীতির মিলবন্ধনের ছবি।সেরকমই এক সম্প্রীতির ছবি হল বেড়বল্লভপুরের এই সুফি চাঁদসা বাবার মাজার।প্রায় দীর্ঘ ৮০ সাল থেকে এই মুসলিম ধর্ম গুরুর সমাধিস্থলকে পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন বৃদ্ধ চমত সেতুয়া।শুধু পাহারা দিচ্ছেন তা নয়,এই ক্ষয়িষ্ণু শরীরে প্রতি সপ্তাহে নরনারায়ণ সেবা করছেন বিনা পারিশ্রমিকে। খিচুড়ি,আলু পোস্ত,ফুলকপির তরকারি,চাটনি পায়েস মিষ্টি যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে পোলাও ও চানা মশলা। শতাধিক ভক্তদের সমাগমে তিনি হাসিমুখেই পরিবেশন করছেন।কিভাবে টাকা আসছে বা কিভাবে এই অগ্নি মূল্যের বাজারেও এইসব জিনিস কিনে ম্যানেজ করে রান্না করা যাবে তা কেউই জানে না।শুধু আজ ৮৫ বছরে পদার্পণকারী এই বৃদ্ধের আক্ষেপ সরকারি স্বীকৃতি পেলাম না।

এই আক্ষেপ রয়েছে এই মাজারে আসা ভক্তদের। তাদের বক্তব্য যেখানে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে সম্প্রীতির মেলবন্ধনকারী কে পদ্মশ্রী প্রদান করেছে খোদ কেন্দ্র সরকার সেখানে হিন্দু হয়ে এত বছর মুসলিম মাজার পাহারা দিয়েও সামান্য সম্মানটুকু জোটেনি কপালে।এরই সঙ্গে তিনি এই চিন্তায় বিভোর হয়ে যাচ্ছেন মাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে।কারণ এই ভঙ্গুর এই মাজার আস্তে আস্তে হেলে পড়ছে একদিকে,পড়ছে জল। আশঙ্কা করছেন একদিন হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে তার এই মাজার।

প্রতি সপ্তাহে শহর জেলার সরকারি কর্তাদের ডাকেন সেইসঙ্গে বিশিষ্টজনদের তিনি ডেকে আনেন এ মাজারে প্রসাদ খাওয়াতে এর সঙ্গে আবেদন থাকে মাজার সারিয়ে দেওয়ার।কিন্তু আশ্বাস মিললেও মেলেনি সাহায্য।এ এক মেদিনীপুরের অনন্য সম্মানে সম্মানিত চমত সেতুয়া।
