
কলেজ মাঠ 17 ই জানুয়ারি:
মেদিনীপুরের কলেজ কলেজিয়েট মাঠে সভা থেকে সিপিএম বিজেপি কে কটাক্ষ করতে গিয়ে সতীদাহ প্রথার উল্টো পথে হাঁটলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি বললেন বাঙ্গালী মনীষী রাজা রামমোহন রায় না থাকলে আজকে হয়তো মা মারা যাবার পর আমার আপনার বাবাকে সেই চিতায় ঝলসে পুড়ে মরতে হতো।অভিষেকের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ট্রোল।

নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুযায়ী এই দিন মেদিনীপুর শহরে কলেজ কলেজিয়েট মাঠে সভা করতে আসেন তৃণমূল সাংসদ তথা তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এইদিন তিনি তার সভা দুপুর ২ টায় থাকলেও তিনি এক ঘন্টা দেরি করে তিনটের সময় সভা মঞ্চে আসেন সভা করতে।এদিন বিজেপি সিপিএম সেইসঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে বিপ্লবীদের কথা টেনে আনেন এই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে সেই কথা বলতে গিয়েই তিনি আবার ভুল সতীদাহের মন্তব্য করে কটাক্ষের শিকার হলেন। এদিন মঞ্চ থেকে সতীদাহ প্রথা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন বাংলা আর বাঙ্গালির এক অন্যতম মনীষী হলেন এই রাজা রামমোহন রায় যিনি তৎকালীন সময়ে সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন। তবে এই সতীদাহ প্রথা বলতে গিয়ে তিনি পুরো প্রথাটাকে উল্টে দিলেন।

তিনি বললেন,”সেই সময় এই সতীদাহ প্রথা রোধ করেছিলেন এক বাঙালি তার নাম রামমোহন রায়।এই বিজেপির নেতারা এই রামমোহন রায়কে ব্রিটিশের দালাল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন এ রামমোহন রায় যদি না থাকতো আমার মা বা আপনার মা যদি মারা যেত সেই আগুনের চিতায় ঝলসে গিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হতো আপনার বা আমার বাবাকে। সেই প্রথম নামই হলো সতীদাহ প্রথা, যা রোধ করেছিল একজন বাঙালি।” স্টেজে এই মন্তব্য করার পরেই সোশ্যাল মাধ্যমে শুরু। অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য শুরু করেন।অন্যদিকে বিজেপিও এই নিয়ে কটাক্ষ করে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৎকালীন সময়ে সতীদাহ প্রথা ছিল ভারতে প্রচলিত এক অমানবিক প্রথা।যেখানে কোনো বিধবা মহিলাকে তার মৃত স্বামীর চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হত।যা আবার সহমরণ বা আত্মাহুতি নামে পরিচিত ছিল।এটি ছিল বলপ্রয়োগে বা সামাজিক চাপে করানো এক প্রথা।এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বামীর প্রতি স্ত্রীর “সতীত্ব” ও আনুগত্য প্রমাণ করা, যা একসময় হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল।১৭৯৯ সালে খ্রিষ্টান যাজক ও বাংলায় গদ্য পাঠ্যপুস্তকের প্রবর্তক উইলিয়াম কেরি এই প্রথা বন্ধের প্রয়াস নেন। গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির কাছে তিনি সতীদাহ বন্ধের আবেদন জানান।এরপর রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহ বিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। তিনি ও তাঁর লোকেরা বিভিন্নভাবে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এই প্রথা শুধু অমানবিকই নয়, বরং তা শাস্ত্র ও আইনবিরুদ্ধ।

১৮২১ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘সহমরণ বিষয় প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের সম্বাদ’ শিরোনামের ছোট একটি পুস্তিকা।১৮২৮ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন। তিনি সতীদাহ প্রথার কথা আগে থেকেই জানতেন। লর্ড বেন্টিঙ্কের কাছে রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। লর্ড বেন্টিঙ্ক রামমোহনের যুক্তির সারবত্তা অনুভব করে আইনটি পাসে উদ্যোগী হন। ব্রিটিশ শাসনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সতীদাহ প্রথাকে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাস করেন।

যদিও অভিষেকের এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি নেতা শংকর গুছাইত বলেন,”মূর্খ অশিক্ষিত কয়লা বালি ভাইপোর কাছ থেকে এর বেশি কিছু আশা করা যায় না। ইতিহাস বিকৃত করার একটা চেষ্টা চলছে।রাজ্যের মানুষ ২০২৬ শে এর যোগ্য জবাব দেবে।