SIR Final List: স্ত্রী ও ছেলের নাম রয়েছে, ডিলিটেড হয়েছে বৃদ্ধের নাম! ডমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়েও নাম না থাকায় দুঃশ্চিন্তায় পরিবার

Share

চন্দ্রকোণা-(২) 2 রা মার্চ :

স্ত্রী-ছেলের নাম রয়েছে তালিকায়,নাম বাদ চন্দ্রকোণার ষাট বছরের বৃদ্ধ আশিষ দাসের।ডমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়েও তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া আটকাতে পারলেন না তিনি।দুঃশ্চিন্তায় পরিবার।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় ৬০ বছরের আশীষ দাস,জন্ম উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসাতে।বিবাহ সূত্রে ২০০২ সাল থেকে শ্বশুর বাড়ি চন্দ্রকোণা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড নরহরিপুর গ্রামে বসবাস করছেন।চন্দ্রকোণা-২ ব্লক সৃষ্টি মহিলা মহাসংঘ বিল্ডিং,১৪৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা।পেশায় টোটো চালক।পরিবার বলতে স্ত্রী শোভা দাস ও ছেলে আকাশ।স্ত্রী ও ছেলের নাম থাকলেও ‘সার’ এর চুড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে আশীষ দাস-এর।তালিকায় আশিষ বাবুর নামের পাশে লেখা ‘ডিলিটেড।’তালিকা প্রকাশের পর রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন আশীষ দাস ও তার পরিবার।২০০২ এর তালিকায় আশিষ বাবুর বাবা-মা কারও নাম ছিলনা।নিজেরও নাম ছিলনা ২০০২ এর তালিকায়।কমিশনের জারি করা ১১ নথির একটিও দেখাতে পারেননি আশিষ বাবু।নো ম্যাপিং ভোটার হিসাবে প্রথম শুনানিতে কোনো নথি দেখাতে পারেননি।বিএলও ও ব্লক প্রশাসনের পরামর্শে দ্বিতীয় বার জমা দিয়েছিলেন ডমিসাইল সার্টিফিকেট।

আশিষ বাবুর বাবা সুনীল কৃষ্ণ দাস ও মা লতা দাস।পূর্ব পাকিস্তান থেকে চলে এসেছিলেন ভারতে।পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন।পাকিস্তানের হাইকমিশনারের স্ট্যাম্প লাগানো পাসপোর্ট এখনও বাড়িতে গচ্ছিত রেখেছেন আশীষ দাস।পাসপোর্টের বর্তমান কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও বাবার স্মৃতি বা ডকুমেন্টস বলতে ওটুকুই।বর্তমানে চন্দ্রকোণার ভোটার রয়েছে ভোটার,আধারকার্ড,রেশন কার্ড।’সার’ এর গেরোয় চুড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে চন্দ্রকোণার আশিষ দাসের।শেষ রক্ষা ছিল ডমিসাইল সার্টিফিকেট,তা দিয়েও তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া আটকাতে পারলেন না আশিষ বাবু।দুঃশ্চিন্তায় পরিবার। তবে এ বিষয়ে মুখে কুলুপ স্থানীয় আধিকারিকদের।

এই বিষয়ে আশিষ দাস বলেন,” আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি এটা ঠিক।তবে ২০০৩ সাল থেকে ভোট দিচ্ছি।তবে বাবার কোনও ডকুমেন্টস নেই। আমাকে এর আগে শুনানির জন্য নোটিশ করেছিল।তাতে আমি শেষ পর্যন্ত ডোমিসাইল কাগজ পত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু তালিকা বেরানোর পর দেখি নাম এর পাশে ডিলিটেড দেখাচ্ছে এখন জানি না কি করব।

অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী শোভা দাস বলেন,”আগে তালিকায় নাম ছিল পরে দেখছি ফাইনাল তালিকায় ডিলিটেড লেখা আছে। স্বামীর মুখে শুনেছি, দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে এসেছে এখানে।এরপর রোজকার পাতি না করেই এখানে পড়ে রয়েছে। সামান্য টোটো চালিয়ে সংসার চলে। আমি নিজে পৌরসভা একটা ছোটমটো কাজ করি।সেই সুবাদেই কোন ভাবে সংসারটা চলে যায়। এখন কি করা উচিত ভেবে পাচ্ছি না।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *