
মেদিনীপুর 9 ই মার্চ :
প্রথম সুযোগেই সর্বভারতীয় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেন মেদিনীপুর শহরের খুশি শিকারিয়া। খুশির এই সাফল্যে গর্বিত শহরবাসী। আপ্লুত খুশির পরিবার- পরিজন থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছেন খুশি।

একদিকে যখন ভারত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে উৎসবে মেতেছে মেদিনীপুর ঠিক অন্যদিকে অন্য আরেক খুশির খবরে উদ্বুদ্ধ মেদিনীপুর। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থানে অধিকার করে সাফল্য মেদিনীপুরের খুশির। মূলত মেদিনীপুর শহরের কেরানীটোলা এলাকার বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী শচীন শিকারিয়া ও মা প্রীতি শিকারিয়ায় একমাত্র মেয়ে খুশি শিকারিয়া। এই খুশি ছোটবেলা থেকে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ এবং নিয়মিত অধ্যবসায়ই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। খুশি মেদিনীপুর শহরের স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের ছাত্রী ছিলেন। ICSE (দশম)-তে ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছিলেন খুশি। এরপর ISC (দ্বাদশ)-তে বাণিজ্য শাখা থেকে পেয়েছিলেন ৯৬ শতাংশ নম্বর। তারপর কলকাতার একটি কলেজে অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

তার মধ্যেই বসেছিলেন সর্বভারতীয় সিএ পরীক্ষায়। প্রথমবার পরীক্ষায় বসেই সারা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে সকলকে চমকে দিয়েছেন তিনি। নিজের এই সাফল্য নিয়ে খুশি বলেন, ‘এই সাফল্যের পিছনে আমার পরিবারের অবদান সবচেয়ে বেশি। ওঁরা সবসময় পাশে থেকেছেন এবং আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। ভালো ফল করার আশা ছিল। তবে, এত ভালো ফল হবে ভাবিনি।’

এই বিষয়ে খুশির বাবা শচীন শিকারিয়া ও মা প্রীতি শিকারিয়া বলেন,’খুশি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সারা দিন পড়াশোনা নিয়েই থাকে। প্রথমবারেই এত বড় সাফল্য পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের মেয়ে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’ পরিবারের সদস্যরাও খুশির সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। খুশির কাকা অনিল শিকারিয়া বলেন, ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন। কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’ বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ চান্দা মজুমদার বলেন, ‘খুশি আমাদের গর্ব। ওর এই সাফল্যে আমরা সকলেই গর্বিত।’

খুশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন এমন একটি সুখবর পাওয়া সত্যিই গর্বের। খুশি মেদিনীপুরের গর্ব। ওর এই সাফল্য অন্যান্য পড়ুয়াদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’